ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

mysterious-of-alien
হলিউড এর সাইন্সফিকশন মুভিতে এলিয়েন চরিত্র উপস্থাপন করা হয় মোটামুটি মানুষের মত আকারের একটি প্রাণীকে৷ এলিয়েন বা আগন্তুক ঠিক কেমন হবে এ নিয়ে নানা রকম যুক্তি উপস্থাপন বা গবেষণা করা যেতেই পারে কিন্তু আমরা সঠিক ভাবে জানিনা যে এলিয়েন আছে অথবা নেই । গুগলে খুঁজলে এই রকম এলিয়েন এর ছবিই দেখা যায় খুব কম ছবি আছে যেগু্লো ভিন্ন৷এই মানব সদৃশ এলিয়েন কিছু মানুষের কল্পনা জগতের একটি ফসল । মানুষ তার চোখের সামনে দৃশ্যমান মানব চরিত্র গুলোকে সামান্য পরিবর্ধন করে এলিয়েন নামক নতুন চরিত্রের সৃষ্টি করেছে৷ এলিয়েন চরিত্রে দেখা যায় মাথার আকৃতি বড় ও মুখমন্ডল ছোট, দেখতে অনেকটা মানুষের মত, এ ধরনের কাঠামোগত মানুষ এই পৃথিবীতেই বর্তমা্ন যাদের মাথার খুলি বড় আর মুখ অত্যান্ত ছোট৷ এটি একটি রোগ যাকে বলা হয় hydrocephalus এটি একটি গ্রীক শব্দ hydro যার বাংলা অর্থ পানি ও cephalus যার বাংলা অর্থ মাথা। মুলত ব্রেনে পানি জমে গেলে এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়৷ এই ধরনের তরল কে বলা হয় সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড, উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া জিনগত অস্বাভাবিকতার কারণে এই রোগ হয়৷ তাহলে কি ধরে নেব সব এলিয়েন এই রোগে আক্রান্ত?

মাথার আকার বড় হওয়ার অন্য যুক্তি থাকতে পারে ব্রেনের আকার বড় হতে পারে যদি ব্রেনের ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বিবর্তনের মাধ্যমে উন্নত প্রানীতে পরিণত হওয়ায় ব্রেনের আকৃতির পরিমানগত বৃদ্ধি যা এই মাথা মোটা এলিয়েন এর জন্ম কে সমর্থন করে ৷ তাহলে নিশ্চয় এই এলিয়েন একসময় বর্তমান মানুষ আকৃতির প্রণী ছিল৷ অর্থাৎ সেই পূর্বের প্রানীর বিবর্তনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কল্পনার এই এলিয়েন৷ যুক্তির খাতিরে ধরে নেওয়া যাক পুর্বে এই মহাবিশ্বে কোন এক স্থানে মানুষ আকৃতির প্রানীর অস্তিত্ব ছিল যারা বিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থায় এসেছে৷ কিন্তু পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তনতত্ত্ব এখনও পুর্ন্যতা পায় নি ৷

আমি বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে বলতে পারি ডারউইনের বিবর্তনবাদে অনেক অসামঞ্জস্যতা আছে৷ মূলত বিবর্তনবাদকে প্রতিষ্টা করা হয়েছিল পর্যবেক্ষণ থেকে। মানুষ আর এপ এর মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে যদিও ফসিল দিয়ে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা চলছে । কিন্তু এই ফসিল যে প্রক্রিয়ায় তা খুবই জটিল, লক্ষ কোটি প্রনীর মধ্যে মাত্র একটি বা দুটির সম্ভাবনা আছে ফসিলে পরিণত হওয়ার জন্য। একটি প্রানিকে ফসিলে পরিনিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। প্রথম এবং প্রধান শর্ত হল প্রনীকে ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শ থেকে মুক্ত হতে হবে। যদি কোন প্রানী বরফ বা কাদার স্তুপের মধ্যে আটাকা পরে যেখানে অক্সিজেন পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং ঐ প্রানীর ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে তাহলে সেই প্রানি ফসিলে পরিণত হবে এর সাথে অবশ্যই প্রাণীটিকে শক্ত কাঠামোর হতে হবে । অথবা দেহ কাঠামোর কোন ছাপ পাওয়া যায় তাহলে তাকে ফসিল বলা যেতে পারে।

ধরা যাক hydrocephalus রোগে আক্রান্ত পুর্ন্যবয়স্ক কোন ব্যাক্তি এখন এই ফসিলে রুপান্তর প্রক্রিয়ায় স্থান পেল তাহলে এখন থেকে ৫ লাখ বছর পর আবিষ্কারকদের কাছে এটা প্রতিয়মান হবে যে এই সময়ের সকল মানুষের মাথা বড় ছিল অথবা তারা যদি এর কারন অনুসন্ধান করতে যায় তাও এটার ভুলের পরিমান বাড়তেই থাকবে কারন দীর্ঘদিন ধরে এর মধ্যে রাসায়নিক পরিবর্তন সংগঠিত হবে।আর কোন ঘটনা ঘটার সময় থেকে সময় যত বাড়তে থাকে ঘটনা ততই অস্পষ্ট হতে থাকে।

আমি বান্দরবান এ গবেষনার সময় পেট্রিফাইড ফসিল পেয়েছিলাম যা সম্ভাবনা একটি কাঁঠাল জাতীয় গাছের হতে পারে তবে পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায়নি এটি কোন প্রজাতির গাছ ছিল । ফসিলটি বিশ্লেষণ করে বোঝা গেল এটি কান্ডের অংশ ছিল সমভবত পোকার আক্রমনে শিকার হয়েছিল যার বয়স আনুমানিক ২০-২৫ লাখ বছর হবে। এখানে বয়স, রোগ বা পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রায় অসম্ভব শুধু আপাত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে হয়।

আর ফসিল দিয়ে ক্রমবিকাশ নির্নয় করাটা আরও জটিল ও ভুলের প্রচুর সম্ভাবনা থাকে।মানুষ এবং এপ এর মধ্যে যে যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে যাতে বিরাট একটি ব্যবধান লক্ষ্য করা যায় এবং এখন পর্যন্ত সঠিক যোগসূত্র স্থাপন করা যায় নি৷এপ এবং প্রাক মানবের মধ্যে একটি শাঁখা আছে যাকে হোমিনিড নামে নামকরন করা হয়, এরা আধুনিক মানুষের সরাসরি পুর্বপুরুষ নয় । এপ আর এই হোমিনিড এর মধ্যে যোগসুত্র স্থাপন করা হয় চোয়াল আর মাথার খুলির আকারের মধ্যে তুলনা করে।মগজের পরিমান যতই বৃদ্ধি পায় ততই মাথার খুলির আকার বৃদ্ধি পায়। সুতারাং মানুষ যতই বিবর্তিত হবে ততই তার মাথার খুলির আকার বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে ডাইনোসরের মত কোটি কোটি বছরের প্রাচীন প্রানীর সম্পূর্ণ দেহের ফসিল পাওয়া যায় কিন্তু এপ, হোমিনিড এবং প্রাক মানবের সম্পূর্ণ ফসিল পাওয়া যায় না। মানব প্রজাতির শুধু মাথার খুলি বা চোয়ালের অংশ ফসিল আকারে পাওয়া যায় এবং খুব কম ই পাওয়া যায় দেহের নিম্নদেশের অংশ। এই সব প্রানীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকরা হয় অনুমানের মাধ্যমে। অনুমান বা সম্ভাবনায় প্রচুর পরিমান ভুল তথ্য থাকে ।

যদি যুক্তির খাতিরে বিবর্তনবাদ কে সমর্থন করি তাহলে মানব সদৃশ বা বিবর্তিত মানব সদৃশ এলিয়েন পাওয়া যাবে যদি কোন গ্রহের কর্মকাণ্ড সম্পুর্নরুপে এই পৃথিবীর কর্মকাণ্ডের সাথে মিল থাকে। এই পৃথিবী সদৃশ এবং পৃথিবীতে ঘটা ঘটনা সমুহের সাথে বহির্জগতে ঘটনার মিল খুজে পাওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ কারন এই মহাবিশ্বের প্রত্যেক গ্যালাক্সি, সৌরজগৎ, গ্রহ গুলো একক ও অদ্বিতীয় অবস্থানে থেকে তাদের নিজ নিজ ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে।

যদি এই মহাবিশ্বে কোন এলিয়েন থেকে থাকে তবে তার দেহ কাঠামো হবে আপনার দেখা দেহ কাঠামো হতে ভিন্ন। হয়তো আপনার কল্পনার জগতে কোন দিন আসেনি এমন দেহ কাঠামো। বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য লেখক ও শিক্ষক একদিন দেখলাম তিনি মানব সদৃশ এলিয়েন চরিত্রের পাশে দাঁড়িয়ে বাচ্চাদের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে এটিই এলিয়েন। যেহেতু কেউ এলিয়েন দেখেননি তাই এই চরিত্র দিয়ে এলিয়েন বোঝাবার চেষ্টা নিতান্তই অবান্তর। শিক্ষার কাজ হচ্ছে মানুষের নিজস্ব চিন্তার দ্বার উনম্মুক্ত করা আপনা সৃষ্ট চরিত্র কে সঠিক বলে চালিয়ে দেওয়া নয়। আপনি মুক্তচিন্তার অধিকারী হলে নিশ্চয়ই একটা অবান্তর চরিত্রকে মানুষের মগজে স্থান করে দেওয়ার চেষ্টা করতেন না। বরং মানুষকে চিন্তার দ্বার দেখাতেন, এলিয়েন কি হতে পারে বা না হতে পারে। নির্দিষ্ট চরিত্র সৃষ্টি করে মন জগতে প্রবেশ করানো ব্যবসায়ীদের কাজ, একজন চিন্তাশীল মানুষের নয়। মানব সদৃশ বা মানব বিবর্তিত এলিয়েন চরিত্র শুধু কল্পনার বস্তু নয় এটি একটি ব্যবসায়িক পণ্য। মাল্টি বিলিয়ন ডলারের মুভি, ভিডিও গেমস, খেলনা, গল্পের বই, পোশাক, কার্টুন ব্যবসা সবকিছু হচছে মানব সদৃশ এলিয়েনকে কেন্দ্র করে। প্রকৃত পক্ষে এলিয়েন থাকুক আর নাই থাকুক ব্যবসায়িক কারণে এই এলিয়েন বিশ্বের কোটি কোটি শিশুর মগজ ধোলাই করছে। সুতরাং কে কখন কোন উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার মন জগতে স্থান করে নিচছে তা বোঝা দুরূহ।

গালিগালজ করতে চাইলে এই ঠিকানায় করুন https://www.facebook.com/ershad.pahlowan