ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

পৃথিবীর দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কততম তা আমার জানা নেই কিন্তু আমাদের প্রিয় বাংলাদেশর Energy consumption বৃদ্ধির হার পৃথিবীতে ৩য় স্থান দখল করেছে প্রথম স্থানে আছে কাতার এবং ভিয়েতনাম আছে ২য় স্থানে। বাংলাদেশের Energy consumption এর হার ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ এই সময়ের মধ্যে ৬.৩% বেড়েছে আর কাতারের বেড়েছে ৯.৫%, আমাদের পরেই আছে সৌদিআরব, আরব আমিরাত। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সারা পৃথিবীতে এনার্জি consumption এর হার বেড়েছে ১.৮% যার মধ্যে ৪২.৬ শতাংশই বেড়েছে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে যার মধ্যে চায়না র আছে ২৩% বাংলাদেশের ৬.৩% কিন্তু কম নয়। একই সময়ে ভারতের ও পাকিস্থানের বেড়েছে যথাক্রমে ৫.৭% এবং ২.৩% , ২০০৫ সালে বাংলাদেশর তেলের হিসেবে এনার্জি ব্যাবহারে পরিমান ছিল ১৬.৯ মিলিয়ন টন এবং ভারত ও পকিস্থানের ছিল যথাক্রমে ৩৯৩.৩ ও ৬১.৭ মিলিয়ন টন অপরদিকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পকিস্থানের যথাক্রমে ছিল ৭২৩.৩, ৬১.৭ মিলিয়ন টন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ তেলের হিসেবে প্রতিদিন এনার্জি ব্যাবহার ছিল ১৪ হাজার ব্যারেল যা ২০১৬ সালে ছিল এক লাখ একত্রিশ হাজার ব্যারেল । অন্যদিকে ১৯৭১ সালে ভারত ও পকিস্তানের ছিল যথাক্রমে ৪ লাখ ১৬ হাজার ও ৮৭ হাজার যা ২০১৬ বেড়ে দাঁড়িয়ে ছিল ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার ও ৪ লাখ ৩৪ হাজার ব্যারেল। ভারত ও পাকিস্তানের এনার্জি ব্যবহারের পরিমান বেশি হলেও বৃদ্ধির হার কম। অপরদিকে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের তেল পরিশোধন ক্ষমতা বেড়েছে মাত্র ১.৮ % যা ভারত, পকিস্থানের বেড়েছে ৫.৩% ও ৩.৯% তার মানে হচ্ছে বাংলাদেশ অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে আছে ।

বাংলাদেশ তার বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ বাড়িয়েছে গ্যসের উপর যে কারনে গত দশ বছরে গ্যাস উৎপাদনের হার বেড়েছে ৬.৯% যদিও আমাদের প্রুভেন গ্যস রিজার্ভ ৭.৩ টিসিএফ অন্যদিকে ভারত ও পকিস্তানের ৪৩.৩ ও ১৬ টিসিএস গ্যস থাকা সত্ত্বেও ভারতের গ্যস উৎপাদন হার ০.১% কমেছে আর পাকিস্তানের ০.৭% বেড়েছে । ভারত ও পাকিস্তানের উৎপাদন কমলেও ব্যবহারের হার বেড়েছে যথাক্রমে ২.৫ % ও ১.১ % সুতরাং বোঝা যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান গ্যাস আমদানিতে মনযোগী। গত এক দশকে ভারতের জিডিপি বেড়েছে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার পাকিস্থানের বেড়েছে ১৭৪ বিলিয়ন ডলার আর বাংলাদেশের বেড়েছে ১৫২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়ন করতে হলে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন এর মধ্যে রয়েছে, দ্রুত বড় ধরনের সমুদ্র বন্দর, তেল গ্যস টার্মিনাল, তেল পরিশোধন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। কিন্তু সেদিকে মনযোগ দিয়েও ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি সরকার, মূলত কুটনৈতিক, রাজনৈতিক আর আমলাতান্ত্রিক অব্যস্থানপনায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে গভীরসমূদ্র বন্দর নির্মান, এলএনজি টার্মিনাল, তেল পরিশোধন ব্যবস্থা। হয়ত আর এক দশক লেগে যাবে এই সব প্রকল্প বাস্তবায়নে তত দিনে পৃথিবীর বাকি দেশগুলো আরো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে দেবে।