ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

দুপুরে আমরা যত ভাল খাবার খাইনা কেন ,বিকেলের স্ন্যাক্স ছাড়া আমাদের যেন চলেই না । সারাদিনের পরিশ্রমের ফলে দেহে চলে আসে ক্লান্তি । মন চাইছে কোথাও বসে একটু সতেজ হতে । অফিস থেকে বেড়িয়ে, বন্ধুদের সাথে আড্ডায়,কোথাও বেড়ানোর ফাঁকে কিংবা কেনাকাটা করার মাঝে সবাই চান ক্লান্তি দূর করে নিজেকে সতেজ রাখতে । আর তখনই প্রয়োজন পড়ে ক্যাফে এবং কফির দোকানগুলোর কথা। এতে করে প্রিয়জনের উষ্ণ সান্নিধ্য লাভ হয় আবার একটু জিরিয়ে নিয়ে প্রাণবন্ত হওয়া যায়। কি গ্রীষ্ম কি শীতে স্নাক্সের সাথে এক কাপ কফি খেয়ে দেহে মনে হয়ে যান চাঙ্গা ।হামাগুড়ি দিয়ে আসছে শীত । এ সময়ে মিষ্টি উষ্ণ কোমল গরম পানীয় আমাদের চাই ই। সকালের ঘুম থেকে ওঠা শুরু করে রাতে ঘুমুতে যাবার আগ পর্যন্ত অসংখ্যবার আমাদের চা কিংবা কফির প্রয়োজন হয়। যারা কড়া স্বাদ পছন্দ করেন তারা কফিকেই বেছে নিতে পারেন । খাবার আগে আমরা একটু জেনে নেই কফি সম্পর্কে –

আজ যে কফি ছাড়া সভ্য মানুষের চলেই না তা কিন্তু নবম শতকের আগে জানা যায়নি। কফির ব্যবহার ধরা হয় ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দের পর। মজার কথা হল, নবম শতকের আগেও কফি গাছ থাকলেও সে গাছের পাকা ফলটি গুঁড়ো করে গরম পানিতে গুলিয়ে খাওয়ার কথা কেউ ভাবেনি! ইথিওপিয়া থেকেই আরব বণিকেরা ৮৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ কফি বীজ নিয়ে যায় আরবে। আরবরা নাকি বীজ বিদেশে রপ্তানী করতে চায়নি। তবুও সেখান থেকেই কফি বিশ্বের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। ১৪৭৫ খ্রিস্টাব্দে তুরস্কের রাজধানী কন্সটানটিনেপলে স্থাপিত হয় পৃথিবীর প্রথম কফিশপ। ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডাচ coffie শব্দ থেকে ইংরেজী coffee শব্দটি এসেছে।

কফি গাছ সাধারনত উচ্চতায় ২০ থেকে ৩০ ফুট হয় । উজ্জ্বল সবুজ রঙের পাতার আকার হয় ডিম্বাকৃতি, ফুলের রং সাদা আর বেশ সুগন্ধী । থোকা – থোকা ফল ধরে, প্রথমে রং হয় হালকা সবুজ, পরে লাল এবং শেষে গাঢ় বাদামী রং ধারন করে । ফলের ভিতরে মিষ্টি শাসে মুড়নো দুটি বীজ থাকে । কফির পাকা বীজ ১৫ দিনের মত রোদে ফেলে রাখা হয়। তারপর পুড়িয়ে গুঁড়ো করে কফি তৈরি হয়। অবশ্য কফি তৈরির আরেকটি পদ্ধতি আছে। সেটি হল বীজটি পানিতে ধুয়ে গাজিয়ে নেওয়া। পরে অবশ্য পুড়িয়ে গুঁড়ো করা হয়।

বিজ্ঞানীরা কফিকে সভ্য মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসার জন্য সিভেট নামে এক ধরনের বিড়ালকে কৃত্বিত্ব দিচ্ছেন। কেননা, এই সিভেট-বিড়াল মধ্য আফ্রিকা থেকে কফির বীজ বহন করে এনেছিল ইথিওপিয়ার পাহাড়ে।
১৬১৫সালে ইউরোপে ভেনিসের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কফি বানিজ্য শুরু হয় । ভেনিসেই ইউরোপের প্রথম কফি হাউস স্থাপিত হয় ১৬২৩ সালে । ১৬১৬ সালে ডাচরা কফি নিয়ে যায় হল্যান্ডে। ইন্দোনেশিয়ায় ডাচ কলোনি ছিলো- সেখানে কফির আবাদ শুরু হয় ।

আমেরিকা ১৬৬৮ সালের দিকে প্রথম কফি ব্যাবহারের কথা জানা যায় । অবশ্য ১৭২০ সালে লাতিন আমেরিকায় কফির চাষবাস শুরু হয় ।ফরাসি, ব্রিটিশ এবং ডাচরা লাতিন আমেরিকায় কপির প্রচলন করে । বর্তমানে উত্তর আমেরিকাই কফির সবচেয়ে বড় ভোক্তা । মার্কিনিরা প্রতি বছর গড়ে ১১০ বিলিয়ন কফি খায় ।
দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বের চাহিদার দুই/ তৃতীয়াংশ কফি উৎপাদন হয় ।কিন্তু পূর্ব আফ্রিকার ইথিওপিয়ার কফিয়া আরাবিকাই স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় ।

বাংলাদেশে কফি তেমন বেশি জনপ্রিয় নয় । তবে কফিকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে ।বর্তমান ক্যাফে ও কফিশপগুলো তার প্রমান ।বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় কফিচাষের চেষ্টা চলছে । হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও কফি উৎপাদন হবে ।

উইকিপিডিয়া মারফত জানা যায় প্রায় ৭০টি দেশে এই ফলের গাছ জন্মে। সবুজ কফি বিশ্বের সব থেকে বেশি বিক্রীত কৃষিপণ্যের মধ্যে একটি। কফিতে ক্যাফেইন নামক উত্তেজক পদার্থ রয়েছে। ৮ আউন্স কফিতে প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। ক্যাফেইন (caffeine) এর জন্যে কফি মানুষের উপর উত্তেজক প্রভাব ফেলে ও উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বর্তমান সময়ে চায়ের পর কফি বিশ্বের অত্যধিক জনপ্রিয় উষ্ণ কোমল পানীয়। কফি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিক্রিত পণ্য (জ্বালানী তেলের পরে), এবং বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বেশি পান কৃত পানীয়ের মধ্যে অন্যতম। ১৯৯৮-২০০০ সালের মধ্যে ৬,৭ মিলিয়ন টন কফি উৎপন্ন হয়েছে। ২০১০ সাল নাগাদ কফির উৎপাদন বেড়ে ৭ মিলিয়ন টনে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হয়েছিলো।

কফি পিয়াসীরাই জানেন এককাপ কফির গভীর আকর্ষন ক্ষমতার কথা । কফি কেবল মাত্র উষ্ণ কোমল পানীয়ই নয় – কি প্রাচ্যে, কি পশ্চিমে এবার পরিবেশনা শিল্পসম্মত ও বটে ।
ঢাকায় জনপ্রিয় কিছু কফিশপ ও ক্যাফের মধ্যে আছে –
সোনারগা হোটেলের “দি লবি লাউঞ্জ” “দি পুল ক্যাফে” ।
গুলশান -২ আছে ওয়েসটিন ঢাকা হোটেলের “এ্যাটরিউম লাউঞ্জ” এবং “ডেইলি ট্রিটস”। এছাড়া গুলশান-২ আছে “বিটার সুইট ক্যাফে” গুলশান-৪৫ নম্বর রোডে আছে “স্প্লাস(পুল সাইড ক্যাফে )” “দি লিভং রুম” ১৩৮ নম্বর রোডে আছে “একজিট লাউঞ্জ” ।
গুলশান -১ রয়েছে “রেড শিফট” “দি বেঞ্চ”
“বারিস্তা লাভাজা” এর রয়েছে দুটি শাখা- একটি কাওরান বাজার , অপরটি উত্তরা।
“ক্যাফে ম্যাংগো” ধানমন্ডি ৬ নম্বর , গুলশান -২ এবং লালমাটিয়ার জাকির হোসোন রোডে ১টি করে মোট ৩টি শাখা রয়েছে ।
বনানী-১১তে রয়েছে প্লাটিনাম সুইটস এর “ক্যাফে নিমো” আরো আছে “ফাইস্তা ক্যাফে” “ফ্লোর ৬ লাউঞ্জ এন্ড গ্রিল” “ হাল্ফ পাস্ট ইলেভেন” “ মাইন্ট উলট্রা লাইঞ্জ” “স্মোক মিউজিক ক্যাফে” “টেরা এন্ড বিস্ট্রো” “জোন জিরো লাউঞ্জ” “টাইম আউট”। ২৪ নম্বর রোডে রয়েছে “মিলাঞ্জ কফি এন্ড কনভারসেশন”।
বারিধারা-৯ রয়েছে “মারমেইড গ্যালারী ক্যাফে”।
কফি ওয়ার্ল্ডের ৪টি শাখা রয়েছে। বনানী-১১, ধানমন্ডি- ২৭, গুলশান-১ এবং উত্তরা -৩ নম্বর সেক্টর ।
“কফি ১১” শপ রয়েছে যথাক্রমে বনানী-২২ ও গুলশান-২ ।
ধানমন্ডি-৭রয়েছে “এইচ ২০ লাউঞ্জ”।
বনানী-১৬ এবং ধানমন্ডি -২ রয়েছে “হেলভিটিয়া” এর দুটি শাখা ।
“ কজমো লাউঞ্জ “ এর দুটি শাখা রয়েছে বনানী -১১ ও ধানমন্ডি-৫।
শাহজাদপুর ধাবায় রয়েছে “নরথ ইন্ড কফি” ।

কফিশপের তথ্য নেয়া হয়েছে ঢাকাস্নব থেকে।

সূত্র:
১. সংক্ষেপে কফি-কাহিনী
২. উইকিপিডিয়া