ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সকালে নেটে বসেই শীর্ষ নিউজ ডট কমের সম্পাদক একরামুল হককে গ্রেফতারের খবরটি দেখে মর্মাহত হলাম । তবে আশ্চর্য হইনি এই কারনে যে, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই এ ধরনের এমন অনেক কাজ করে ফেলেছে।

শীর্ষ নিউজ/কাগজের বিরুদ্ধে সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যে এর সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়েছে এটা একেবারেই দিনের আলোর মতো পরিস্কার । তার ওপর সচিবালয়ে হামলা, সচিবালয়ে তার পত্রিকার বিরুদ্ধে পোস্টারিং, পিআইডি কর্তৃক ১০ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল, এরপরই ঘটলো গ্রেফতারের ঘটনা।

গতকালই কার্ড বাতিলের প্রতিবাদের প্রেস কাবের সামনে মানব বন্ধন হলো। যাতে সাবেক সচিব বদিউর রহমানসহ অনেক নিরপেক্ষ লোকও অংশ নিয়েছে বলে খবরে দেখেছি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতি বর্তমান সরকারের মনোভাব যে ভালো নয়। তা একেবারেই পরিস্কার।

চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হলো, প্রধান মন্ত্রীর পুত্র জয়ের বিরুদ্ধে লিখে আমার দেশ নিষিদ্ধ হলো, তার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেফতার হয়ে শাস্তি ভোগ করলেন, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ফারুকের ওপর পুলিশী হামলার কারণও নাকি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কথা বলা।

শুনা যায়, পিআইডিতে ভিন্ন মতের সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকের কার্ড নবায়ন করা হচ্ছেনা। কার্ড নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারে মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ভিন্ন মতের সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর রাজনৈতিক ‘টক শো’ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে দু’টার বিটিভির খবর প্রচার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সরকারের ইচ্ছেমতো সরকারি অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচার করতে বাধ্য করা হয়। এসব তো স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধের সামিল নয় কি?

ইতিমধ্যেই একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগ আগের মতোই বাকশালী আচরণ করছে বলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলা শুরু করেছে। বাকশাল কায়েমের সময় নাকি চারটি ছাড়া সব সংবাদপত্রও বাতিল করা হয়েচিল। এখন সংবাদপত্রের সাথে আবারও এমন আচরন এবং সরকারের রাজনৈতিক আচরণকে মিলিয়ে নিয়ে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আবারও বাকশালে ফিরে যাওয়া বা বাকশালী আচরণের অভিযোগ করলে অযৌক্তিক বলা যাবে কী?

অবশ্য আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে আওয়ামীলীগ অতীতে যেসব ভুল করেছে যে গুলো আর না করে সত্যিকার অর্থে দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেজন্য সংকীর্ণ ও হীনমন্যতা ছাড়তে হবে আওয়ামী লীগকে। আরও উদার ও সহনশীল মানসিকতা নিয়ে এগুতো হবে। মানুষের মৌলিক সমস্যা যেমন দ্রব্যমূল্য কমানো, আইন শৃংখলার উন্নতি, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সংকট দূর করা, কর্মসংস্থান, রাস্তা ঘাট ইত্যাদির সংস্কার, যানজট নিরসন ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে।