ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

রাজনৈতিক নেতাদের মুখ থেকে শোনা যায় ‘দলের চেয়ে দেশ বড়’ এই নীতিতে তারা বিশ্বাসী ।

কিন্তু আমরা বাস্তবে কি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এই নীতির কোন প্রতিফলন পাচ্ছি?

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দেশের চেয়ে শুধু দল নয়, ক্ষমতাই বড়-এ নীতিরই বার বার প্রতিফলন দেখছি।

দেশের সাধারণ জনগন ও তাদের স্বার্থ নিয়ে ভাবার সময় দলগুলোর যেন নেই।

আমরা সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার দাপট, পানি সংকট, লোডলেডিং ও গ্যাস সংকটে দুির্বসহ জীবন যাপন করছি। আইন শৃংখলার অবনতির কারনে জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি, ইভটিজিং ও শিক্ষক নামের নরপশুরা যখন আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্র্থীদের যৌণ হয়রানী করে পুরো সমাজকে কলুষিত করে তুলছে, উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা ভয়াবহভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে তখন এগুলো নিয়ে যেন মাথাব্যাথ্যা নেই কারো।

মাথাব্যাথা নেই সীমান্তে আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়ার কিংবা আমাদের প্রবাসে কর্মরতদের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে। কোটি বেকার যুককের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশকে এগিয়ে নেয়ারও বাস্তবধর্মী কোন কার্যক্রম নেই।

আমাদের সরকার ও বিরোধী দলের মাথাব্যাথা সংবিধান কাটাছেড়া, এটা-ওটা লাগানো ও বাদ দেয়া নিয়ে। তাদের মাথা ব্যথা কার নামের বরাদ্দকৃত বাড়ী অতীতে কে বাতিল করেছে, এখন আবার কারা বাতিল করেছে। কার ছেলেদের দুর্নীতির অভিযোগ কত বেশী এসব প্রতিযোগিতামূলক বক্তব্য ও মামলা, বিচার নিয়েই তাদের ব্যস্ততা। ক্ষমতা ধরে রাখা এবং ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার চিন্তায় বিভোর তারা।

আগের ধারাবাহিকতায় হরতাল, ভাংচুর ইত্যাদির চর্চা ও পুলিশ দিয়ে ঠেঙানোর অতীতের পূনরাবৃতি। যারফলশ্রুতি অর্থনীতির ক্ষতি, দেশের ক্ষতি।

সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের সুযোগ কোথায় তাদের?

এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের চর্চা। রাজনীতিবিদরা বোধ নয়, আমাদের এসব কথাকে নীতিকথা মনে করে চোখ বুলিয়েই সার।
আসুন আমরা সাধারণ মানুষই জেগে উঠি। রাজনৈতিক দল গুলোকে আমাদের সমস্যা, দেশের মূল সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার কাজে মনোনিবেশ করতে যে যেখান থেকে যেভাবে পারি আওয়াজ তুলি, কথা বলি।

বলি, প্লিজ, প্রতিহিংসাপরায়তা, অসহিষ্ণুতা, অন্ধ রাজনৈতিক বিশ্বাস বাদ দিয়ে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতীয় ঐক্যের চেতনা গড়ে তুলি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, র্দুনীতির বিচার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আইন কিংবা সংবিধানকে যুগোপযোগী করার কাজ স্বাভাবিক নিয়মে,স্বাভাবিক গতিতে জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রেখে চলুক।
এগুলোকেই যেন প্রধান এজেন্ডা বানানো না হয়। প্রধান এজেন্ডা হোক উপরোক্ত জাতীয় সমস্যাগুলো।

আসনু আমরা সকল ধরনের সংকীর্ণতার উর্ধে ওঠে সবাই দেশের ভালো চাই। তারপরই দল ও ব্যক্তির ভালোর কথা চিন্তা করি। দেশ ভালো থাকলে দলও ভালো থাকবে। আমি আপনিও ভালো থাকবো।