ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা


কী হাসি-খুশি চেহারার মানুষ! দেখলেই ভালো লাগার অন্যরকম একটা অনুভূতি সৃষ্টি হয়। ‘মাটির ময়না’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর মধুমিতা হলে গিয়ে দেখিছি। আমি হলে ঢুকছি আর তারেক মাসুদ সাহেব সস্ত্রীক হল থেকে বেরিয়ে আসছেন।

সেই মানুষটির প্রাণ কেড়ে নিল সড়ক দুর্ঘটনা নামের দানব। তার সাথে মিশুক মুনীরসহ আরও ৪ জনের নির্মম জীবনহানি ঘটলো। মীরসরাইয়ের ৪৫ কিশোর স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দাগও এখনো শুকোয়নি।
এগুলো সড়ক দুর্ঘটনা? আসলে এগুলো হচ্ছে হত্যাকান্ড। নিরেট হত্যা। আমরা, আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র, আমাদের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এই লোকগুলোকে নির্মমভাবে হত্যা করছে।

চিত্রনায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চনের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন কিংবা এ ধরনের আরও দু’একটি সংগঠনের কার্যক্রম কোন কাজেই আসছেনা। বড় দুর্ঘটনা ঘটলেই দুয়েক দিন আলোচনা, নানা পদক্ষেপের হুংকার। তারপর সব আগের মতোই।

রাস্তাঘাট নিয়ে এ কয়েকদিন পত্রিকায় যে সব খবর বেরিয়েছে তাতেই বুঝা যায়, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার কী হাল। এদিকে কারো কোন খেয়াল নেই। সবাই ব্যস্ত ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে কী চলছে তাও খবরে এসেছে। ভূয়া লাইসেন্সের ছড়াছড়ি, হেলপার গাড়ী চালাচ্ছে। গাড়ী পরীক্ষা না করেই বেরিয়ে পড়া, রাস্তায় প্রতিযোগিতা, চালকদের মাদকাসক্তি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেই। মীরেরসরাই ঘটনার পর বলা হলো গাড়ী চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বললে শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু আমি দুদিন আগেও খোদ রাজধানীতে বাসের চালককে চলন্ত অবস্থায় ফোনে কথা বলতে দেখলাম। কেউ তাকে বারণ করল না।

আমরা কেউই কারও এধরনের অকাল মৃত্যুকে মেনে নিতে পারিনা। আমাদের এর বিরুদ্ধে কঠিনভাবেই জেগে ওঠা দরকার। আমরা এসব হত্যাকান্ডের বিচার চাই। আমরা পাশাপাশি প্রতিকার চাই। একটি দুর্ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করলেই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হয়ে যাবেনা। আমরা চাই পুরো সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে কারণগুলো চিহ্নিত করে, সমাধান কিভাবে হতে পারে তা ঠিক করে সে অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ।