ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আরেকটি শত্রু বধ হলো! অন লাইন পত্রিকা ‘শীর্ষনিউজ ডট কম’ অবশেষে বন্ধ হয়ে গেল। রোববার দুপুর থেকে তাতে সংবাদ আপলোড করা হচ্ছেনা। এর প্রধান শিরোনামে লেখা আছে, ‘শীর্ষ নিউজের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত।’

গত ৩১ জুলাই ভোররাতে সংবাদ মাধ্যমটির সম্পাদক একরামুল হককে গ্রেফতার করার ২১ দিনের মাথায় এটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলো কতৃপক্ষ আর্থিক অনটনের কারনে বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাতাশে বেড়ানো খবর হচ্ছে- যাদের ইশারায় এই অনলাইন পত্রিকাটির ওপর সরকারি খড়ক নেমে এসেছিল তাদের সাথে একরামুল হকের পরিবারের আপোষরফার অংশ হিসেবে প্রথমে দুর্নীতি সংক্রান্ত খবরের জন্য দু:প্রকাশ করা হয়, তারপর প্রকাশনা স্থগিত করা হয়। বিনিময়ে এর সম্পাদককে আর রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন না করা, নতুন মামলায় না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলার ক্ষেত্রে বরাবরই উচ্চকণ্ঠ আওয়ামী লীগেরই একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী একটি সংবাদমাধ্যমকে এভাবে থামিয়ে দেয়ার প্রধান নায়ক। অপরাধ- এই সংবাদ মাধ্যমটিতে ওই প্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রীর এই মহান কর্মের (!) সঙ্গী হয়েছেন বর্তমান সরকারের আরো কিছু প্রভাবশালী যাদের দুর্নীতির ব্যাপারেও শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজে একাধিক রিপোর্ট এসেছে।

গ্রেফতারের আগে এর সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল, সচিবালয়ে সম্পাদকের ওপর হামলার চেষ্টা, ফোনে নানা হুমকী-ধমকী ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। পত্রিকার পক্ষ থেকে এটি বন্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে মর্মে আগাম আশংকাও প্রকাশ করা হয়।

তারপরই গ্রেফতারের মাত্র একদিন আগে গোপনে একটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। আর ৩১ জুলাই রাতের আধারে সম্পাদককে গ্রেফতার করে পরে আরও দুটি মামলা করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ মানে কি সেটা কারো বুঝতে কারো বাকি থাকেনা।

বাসর রাতে বিড়াল মারার মতো বর্তমান সরকার একটি অনিয়মের সূত্র করে, বেসরকারি টিভি ‘চ্যানেল ওয়ান, বন্ধ করে দেয় রাতারাতি। আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে এরই প্রকাশককে দিয়ে মামলা করিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে তাকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডে নিয়ে চ্যাং ধোলাই দেয়া হয় বিবস্ত্র করে। অবশ্য আমারদেশ আইনী লড়াইয়ে জিতে আবার প্রকাশিত হচ্ছে। নজিরবিহীনভাবে সাজাভোগ করন মাহমুদুর রহমানও ।

যে কারনেই হোক সম্প্রতি ‘সরকার বিরোধী’ হয়ে উঠা একুশে টেলিভিশনও আদালতের শোকজ খেয়ে রেড সিগন্যাল পেয়েছে। যুগান্তর পত্রিকা হঠাৎ সরকার বিরোধী হয়ে ওঠেও আবার কিছুটা রণেভংগ দিয়েছে। প্রথম আলোর ওপর অদৃশ্য চাপ সৃষ্টির কথাও বাতাসে ভেসেছিল। ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় এই পত্রিকার সম্পাদক জড়িত এমন- বক্তব্যও আমরা আওয়ামীলীগের কিছু নেতার মুখ থেকে শুনেছি। সেই থেকে তাদের ব্যালেন্স করে চলার চেষ্টা লক্ষণীয়।

টেলিভিশন টক শো বলতে গেলে বন্ধ। সরকারের তথ্যমন্ত্রী বয়ান অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক টক শো বন্ধ হয়নি। টিভি চ্যানেলগুলো ‘এটা করতে পারবে, এটা করতে পারবেনা’ এসব চাপের মধ্যে আছে বলে বিভিন্নভাবে জানা যায়। সরকারি টিভির খবর ও সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বাধ্য করা হয়।

সরকারের সিনিয়র নেতা শেখ ফজলুল করীম সেলিম কয়দিন আগেও বাকশালের গুনগান গাইলেন। আওয়ামীলীগের অনেক নেতাও বাকশালকে এখনো সঠিক মনে করেন। উপরোক্ত ঘটনাগুলো বাকশালের চেতনা বস্তবায়নের অংশ কিনা সেই প্রশ্ন আসতেই পারে। কারণ আমরা জানি, বাকশাল হয়েছিল চারটি ছাড়া সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে। সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে।

বর্তমান সরকারের প্রতি যাতের অতি দুর্বলতা আছে তাদের শুনতে তিতা লাগলেও এটা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, গণতন্ত্রে বহু মত ও পথ যে আছে সেটা এই সরকার বেমালুম যেন ভুলে যাচ্ছে। বিরুদ্ধ শক্তি, রাজনৈতিক সমালোচনাকে সহ্য করার মতো ধৈর্ষ যেন এই সরকারের নেই। জনমতের প্রতিও যেন তোয়াক্কা নেই। না হয়, এভাবে জনমত উপেক্ষা করে, একমাত্র জাতীয় পার্টি ছাড়া সকল দলের মতামত অপেক্ষা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি ব্যবস্থা কিভাবে তারা বাতিল করে দিতে পারলো। আর সংবিধানকে কিভাবে জগাখিচুড়িতে পরিণত করলো। ‘৭২ এর সংবিধানে ফেরার নামে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনলো। আবার ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করলো। দুটোর অবস্থান একসাথে কিভাবে হয়। শুরুতে যথারীতি বিসমিল্লাহও থাকলো, ভিতরে আল্লাহও ওপর আস্থা বিশ্বাস বাদ দেয়া হলো।

বিরোধী দল মাজা ভাঙ্গা। এরা অতীতে ক্ষমতায় থেকে যেসব পাপ করে এসেছে যেসব পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই তাদের জান বের হয়ে যাচ্ছে। সরকারি দলকে তাদের ভুল ধরে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে সঠিক পথে রাখবে সেই মুরোদ তাদের নেই। তারা জনগনের দিকে তাকিয়ে থেকে আশায় বুক বাধছে- গণবিস্ফোরণ ঘটলে তারা তরতর করে ক্ষমতায় দিয়ে সব ঠিকঠাক করে ফেলবে। এই দলটির মওদুদ সাহেবের কথা শুনলে মনে হয়, ওনাদের ক্ষমতায় যাওয়াটা এই কয়েক মিনিটের ব্যাপার। তার মুখে শুনা যায়, ‘এটা রাখবো না, এটা বাতিল করা হবে…………..।’

এদিকে কিন্তু আমাদের দেশ, জাতি, গণতন্ত্রের যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই যাচ্ছে। দুনিয়া যেখানে তরতর এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে আমরা দেখছি কোন সংবাদ মাধ্যমে কী আসছে তা নিয়েই আমাদের সরকারের বড় মাথা । বিদেশী পত্রিকা দ্যা ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদন নিয়ে কয়েকদিন আগেই সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা কী না করলেন, কী না বললেন?