ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন-

দেশেরে মহাসড়কগুলোর ৯০ ভাগ ক্ষত সারানো হয়ছে।এখন কোথাও খানাখন্দ নেই। ইট, সুরকি ও বালু দিয়ে মহাসড়কের গর্তগুলো ভরাট করা হয়েছে। রোদ থাকলে মহাসড়কের বাকি ক্ষতটুকু সারানো সম্ভব হবে । ঈদে কোথাও গাড়ি থেমে থাকবে না।

অতএব ঈদে সবাই সবাই বাড়ি যেতে পারবেন। রাস্তার টেনশন শেষ। মন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নই উঠেনা।

গতকাল খবরে দেখলাম বাসগুলো যাত্রী সংকটে ভূগছে। রাস্তার ক্ষত সারার খবরে নিশ্চয় বাসযাত্রী বেড়ে যাবে।

কিন্তু সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহেবরা কী করবেন। তারাতো ঘোষনা দিয়ে রেখেছেন- যোগাযোগমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঈদ করবেন। সিদ্ধান্তে কী অটল থাকবেন?

পাদটীকা: প্রথম আলোর কার্টুনটিতে দেখা যাচ্ছে ঈদ যাত্রীদের জন্য যোগযোগমন্ত্রী কার্পেট বিছিয়ে দিচ্ছেন। কী সৌভাগ্য আমাদের দেশের সাধারণ নাগরিকদের!

পুনশ্চ: 
এবিসি রেডিওকে সৈয়দ আবুল মকসুদ
আমরা রাজনীতিবিদদের ঘুম ভাঙাতে চাই

প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত খবরটি হলো——-

প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘আমরা সরকার বা কারও প্রতিপক্ষ নই। আমরা দেশের সাধারণ নাগরিক। এই দেশের রাজনীতিবিদেরা ঘুমিয়ে আছেন। আমরা তাঁদের ঘুম ভাঙাতে চাই। আর সে কারণেই আমরা ঈদের দিন শহীদ মিনারে গিয়ে প্রতিবাদী অবস্থান নেব।’ আজ রোববার বেসরকারি রেডিও এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সৈয়দ আবুল মকসুদ এসব কথা বলেন।
৩১ আগস্টের মধ্যে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদচ্যুত না করলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদী অবস্থান ধর্মঘট ও অনশনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী জনতা। গত ২৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।
ওই সমাবেশ থেকে পরীক্ষা ছাড়া চালকদের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ ও দেশের গণপরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবহন খাতে দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানানো হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দাবি করে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
শহীদ মিনারে প্রতিবাদী কর্মসূচির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘কিছু বিষয় তো দৃষ্টিগ্রাহ্য। একটি দেশের মূল্যবোধ বা শিক্ষার মান কতটা নেমে গেছে, সেটি হয়তো চট করে বোঝা যায় না। কিন্তু দেশের বিপর্যস্ত সড়কব্যবস্থা, মহাসড়কগুলোর বেহাল দশা—এগুলো তো সবাই দেখতে পাচ্ছে। একে তো লুকোনোর কিছু নেই। প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। আগে যেখানে যেতে দুই ঘণ্টা লাগত, এখন সাত-আট ঘণ্টা লাগছে। এটি তো চলতে পারে না।’
আবুল মকসুদ বলেন, ‘আমাদের ২৪ আগস্টের কর্মসূচিতে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দুর্যোগ উপেক্ষা করে ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, সবাই এসেছিলেন। এটি আমার একার কোনো কথা নয়। এটি নাগরিকদের মনের ভাষা। দেশের সড়ক যোগযোগে অব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ। আর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা তো কেবল ঈদের ব্যাপার নয়। এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি সব জড়িত। সড়ক যোগাযোগ ঠিক না থাকলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। বেগুন ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা হয়ে যাবে। কারণ কৃষক তাঁর উত্পাদিত পণ্য ঢাকায় পাঠাতে পারবেন না। ফলে সেটি পচে যাবে। আবার ঢাকায় পণ্য পাওয়া যাবে না বলে দাম বেড়ে যাবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ তো কেবল নয়, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী কী কষ্ট পাবে, সেটি বলে বোঝানো যাবে না।’
আবুল মকসুদ বলেন, ‘দেশের বেহাল সড়ক নিয়ে অনেক দিন ধরেই দেশের গণমাধ্যমগুলো সংবাদ পরিবেশন করছে। কিন্তু সরকারের টনক নড়েনি। আজকে নাগরিক সমাজ ক্ষুব্ধ মত দেওয়ার কারণেই প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিচ্ছেন। আমরা এই বেহাল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার প্রতিবাদেই শহীদ মিনারে যাচ্ছি। সেখানে কোনো আনন্দ করতে যাচ্ছি না। আমরা চাই, সরকারের ঘুম ভাঙুক।’
সরকার তো আপনাদের এই কর্মসূচির সমালোচনা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল মকসুদ বলেন, ‘নাগরিকদের এই উদ্যোগ তো নতুন কিছু নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা ছিলাম। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে আমরা ছিলাম। আর এই সরকার কি ভুলে গেছে, বিএনপির সময় আমরা কত বিষয়ে কত মিছিল-সমাবেশ করেছি। সরকার কি ভুলে গেছে, ভোটার তালিকা থেকে জাল ভোটার বাদ দেওয়ার জন্য আমি সারা দেশে ঘুরেছি। আজিজ সাহেবকে বাদ দেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় ছিলাম। আজকে সরকার সমালোচনা করছে। বিএনপির সময় তারাও যাচ্ছে-তাই ভাষায় গালিগালাজ করেছে।’
সরকারের একজন মন্ত্রী তো আপনার সমালোচনা করছে। এর জবাবে কী বলবেন জানতে চাইলে আবুল মকসুদ বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ। যাঁরা উঁচুতে আছেন, তাঁরা আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষকে নিয়ে কেন সমালোচনা করছেন, আমি বুঝতে পারছি না। কেউ যদি আমার মতো সামান্য মানুষকে তাচ্ছিল্য করেন, আমার বলার কিছু নেই। আর আমার আন্না হাজারে হওয়ার দরকার নেই। আমি আবুল মকসুদই থাকতে চাই।’
আবুল মকসুদ বলেন, ‘রাজনীতিবিদেরা একদল ক্ষমতায় যাবে, আরেক দল বিরোধী দলে। এদের মাঝখানে থাকবে নাগরিক সমাজ। ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী সবাই এই দলে। আধুনিক গণতন্ত্রে এই নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রের সম্পূরক শক্তি। নাগরিক সমাজের কাজটা হচ্ছে বিবেকের। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তরুণসমাজ, বিশেষ করে এই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। এই যুগে এসে গণতান্ত্রিক সরকারগুলোও যদি নাগরিক সমাজকে ধারণ করতে না পারে, তাহলে গণতন্ত্র তো শক্তিশালী হবে না।’
আবুল মকসুদ বলেন, ‘শহীদ মিনারে আমাদের কর্মসূচিতে তরুণসমাজের অনেক প্রতিনিধি এসেছিলেন। তরুণসমাজের চেতনা অনেক তীক্ষ। তাঁরা সব বোঝেন। তরুণেরা দেশের সমস্যা নিয়ে ভাবছেন। তাঁরা সমাধান চান। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো তরুণসমাজের এই চিন্তাকে ধারণ করতে পারছে না।’
আবুল মকসুদ বলেন, ‘ভারতে একজন আন্না হাজারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলেছেন। সরকারবিরোধী দল সবাই মিলে তাঁর দাবি গ্রহণ করেছে। এটিই গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন লোকও যদি কোনোকিছু নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে, তাহলে সেটিও শুনতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভাবেন, পাঁচ বছরের জন্য তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা যা খুশি, তা-ই করবেন। এটি গণতন্ত্র নয়। দেশ চালাতে গেলে সাধারণ মানুষের মনের কথা বুঝতে হয়। আর এই কারণেই নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নাগরিকেরা যত শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী হবে।’
শহীদ মিনারে কর্মসূচিতে সবাইকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবুল মকসুদ বলেন, ‘আমরা যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতাম, তাহলে তো সড়কেই অবস্থান নিতাম। কিন্তু সেটি না করে শহীদ মিনারে আমরা আমাদের বেদনার কথা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে চাই। আমরা তো সেখানে ঈদের আনন্দ করতে যাচ্ছি না। আমরা চাই, মানুষের জন্য রাস্তাঘাট নিরাপদ হোক। আমরা চাই, সরকার আমাদের এই দাবি বুঝবে।’