ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমি কয়েকদিন ধরে অবাক বিষ্ময়ে লক্ষ্য করছি আমাদের রাজনীতির হালহকিকত। আমার কাছে মনে হচ্ছে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে দেশকে একটি অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিএনপি-জামাতসহ বিরোধী দলের অনেক খারাপ দিক- দুর্বলতা আছে। কিন্ত এই পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং দেশকে একটা খারাপ অবস্থায় নেয়ার পিছনে এই মুহুর্তে তাদের পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা আছে বলে বাহ্যিকভাবে মনে হচ্ছেনা।

আমরা দেখছি সরকারের অতি বাড়াবাড়ি। সরকারই ঘটনার মূল নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ। সরকারই ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরী করছে।

জামাতকে রাজপথে নামতে না দিয়ে ক্ষুব্দ করে তাদের দিয়ে গাড়ী পোড়ানোর দায়-দায়িত্ব শেষ পযন্ত সরকারের ঘাড়েই পড়ে। তারা রাজপথে মিছিল করতে পারবেনা কেন, যদি অন্যরা পারে। তারাতো নিষিদ্ধ নয়। তারা মিছিল করলেই সরকারের এতো বড় কী ক্ষতি হয়ে যেতো।

আবার হরতালের সময় ইউসুফ নামের যে পিকেটারকে পুলিশ বুটের নীচে পিষ্ট করলো সেটা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর করিয়েছেন বলা যায়। তিনি তার পুলিশ বাহিনীকে হরতালের নামে নৈরাজ্য ঠেকাতে বলেছেন। পুলিশের যুক্তি দেবে- মিছিল থেকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হবে-এই আশংকায় এই কাজ।

ছবিটি পরদিনের পত্রিকায় প্রকাশিত

ছাত্রলীগ মাঠে নেমেছে পুলিশের পাশাপাশি। রোববার প্রেস ক্লাবের সামনে জগন্নাথ বিশ্বিবিদ্যালয়ের এক ছাত্রের গলায় পা চেপে ধরে এই ছাত্রলীগ। যে দৃশ্য প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে। এভাবে প্রতিপক্ষকে ঠেঙ্গানোর জন্য ছাত্রলীগকে মাঠে নামিয়েছেন আশরাফ-হানীফ সাহেবরা। এর দায়-দায়িত্ব তাদের।

রাস্তায় বিরোধী দল নামতে পারেনা। কিন্তু সরকারি দল অস্ত্র নিয়ে মিছিল করছে। সরকারি দল এসব দায় এড়াতে পারেনা। পরিস্থিতি খারাপ করার জন্য এই মুহুর্তে সরকারি দলই সরাসরি দায়ী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একতরফাভাবে বাতিল করে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে তার আগেই। এর পরিণাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে আল্লাহই ভালো জানেন।

এই অবস্থায় আমরা সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। আমরা দায়িত্বশীলদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করি। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাথে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করেন অত্যন্ত খারাপ ভাষায় তখন আমরা শুধু হতাশাই দেখি।