ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

১৯৭১ এর ২ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৫ টা থেকে দুপর দুইটা পর্যন্ত কেরানিগঞ্জ থানার জিঞ্জিরা,কালিন্দি,শুভাদ্দা এই তিন এলাকাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ এর মত আরও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড চালায়।তবে এই গণহত্যা সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। সেইদিন এই গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার এর মত মানুষ শহীদ হয়…এবং এতে পাকিস্তানিরা বিমান,মাটি ও নদী সব ক্ষেত্র থেকে আঘাত করে..

পবিত্র ইসলামের বিশ্বস্ত খাদেম,পাকিস্তানের দেশপ্রেমিক ও প্রোফেসনাল সেনাবাহিনী ঢাকা নগরীতে তাদের অভিযান শুরু করেছিল পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে,অন্ধকারে।পাছে পাক সেনাদের কাপুরুষ ও নৈশশিকারি বলে বাঙ্গালিরা মনে করে;তাই তারা যে শুধু রাতের অন্ধকারেই নয় দিনের আলোতে ও নির্বিচার গণহত্যায় সমান দক্ষ সেইটা প্রমান করার জন্যই জিঞ্জিরা গণহত্যা শুভ সূচনা কাকডাকা ভোঁরে হয়েছিল।সবচেয়ে বড় বিষয় হল দুটো গণহত্যাই শুক্রবার হয়েছিল..মনে হয় নিজেদেরকে খাঁটি ইসলামের সেবক মনে করে তারা পবিত্র দিনটিকে এই নর হত্যার জন্য বেছে নিয়েছিল।

জিঞ্জিরা গণহত্যার নেতৃতে ছিল খুনি টিক্কার কাছের সেবক ব্রিগেডিয়ার রশিদ।গ্রামের পর গ্রাম তারা জ্বালিয়ে দেয়।সমানে জিঞ্জিরা,কালিন্দি, শুভাদ্দা এই তিন ইউনিয়ন এর লোকদের উপর গুলি,অগ্নিসংযোগ,লুন্থন;ধর্ষিতা হল কেরানিগঞ্জ এর মা-বোনেরা…হিন্দু এলাকা গুলো প্রধানত তাদের টার্গেট ছিল।মান্দাইল ডাকের সামনের পুকর পাঁড়ে একসাথে ষাট জন মানুষকে দাঁড় করিএ হত্যা করে।কালিন্দির এক বাড়িতে বর্বর বাহিনী পাশবিক অত্যাচার করতে গিয়ে এগারোজন মহিলাকে হত্যা করে।সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে দুপর দুইটা পর্যন্ত চলে আইহত্যা,লুণ্ঠন ,ধর্ষণ এর মত চরম বর্বরতা।

আমরা পঁচিশে মার্চ কাল রাত্রি হিসেবে পালন করি।কিন্তু আমরা এখনও এই জিঞ্জিরা গণহত্যা সম্পর্কে ভালোভাবে জানিনা…তাই আমার আশা থাকবে আমরা পঁচিশে মার্চ এর পাশাপাশি ২ এপ্রিল জিঞ্জিরা গণহত্যা দিবস পালন করব।এবং সরকার এই দিনটির কথা সরকারিভাবে প্রকাশ করবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য…

এই লেখাটি প্রধানত আমদের দেশের গর্ব কবি নির্মলেন্দু গুন এর আত্মজীবনী “আত্মকথা,১৯৭১” থেকে সংগৃহীত..