ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আমার নাম মোঃ ফাহাদুল হক।জন্ম ২০/০৪/১৯৮১ ইং।ছোটবেলা থেকে আমি আমার একটি নিজের দুনিয়া নিয়ে থাকতে পছন্দ করতাম,যেমনঃ-ইলেকট্রনিক জিনিস,কম্পিউটার,মার্শাল আট,গীটার,বাঁশি।এবং আমি ১৯৯৯/২০০০সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সার্ক গেইমস মার্শাল আটে যাবার সুযোগ পাই…কিন্তু আমার বাবা আমাকে যেতে দেনি এবং আরও অনেক কিছুতে যোগতা থাকা সত্ত্বেও বাবা আমাকে সব কিছুতে না করেন।বর্তমানে আমি একটি বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানিতে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগে চাকুরী করছি।আমি গত ১০ বছর ধরে schizophrenia ও Bipolar Disorder রোগে ভুগছি।এর পিছে একটি ঘটনা আছে…….

 

২০০২ সাল আমি তখন একটি বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয় বি,বি,এ পড়ার জন্য মনে এক বিশাল স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হই। এবং তার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির উপর একটি আন্তজাতিক ডিপ্লোমা করতে থাকি।পড়াশোনাতে আমি ভালই হচ্ছিলো আমার।কিন্তু আমারসাথে অনেক মেয়েদের পরিচয় হল….কারণ আমি তখন দেখতে খুব সুন্দর ছিলাম।তাদের মধ্যে আমার একজনের প্রতি একটু করুণা হল।আমি দেখতাম যে, ঐ পাড়ার একটি ছেলে তাকে খুব বিরক্ত করত….জানালাম মেয়েটি নাকি ওই ছেলেটি সংগে স্কুল জীবনে একটা কিছু ছিল এবং ওই এলাকাবাসী সবার কাছে এটি খুবই……

 

সে আমার সহপাঠী দেখে আমি একদিন কথার ছলে তাকে সব জিজ্ঞাসা করি। সে আমাকে বলে ওই ছেলেটি আসলে একটা পাগল, ছেলেটির সাথে তার স্কুলে বন্ধুত ছিল কিন্তু প্রেম ছিলনা….ছেলেটি তার প্রেমে পড়ে পড়াশুনা নষ্ট করে তার জীবনের একটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।আমার কাছে সে সাহায্য চেলো। আমি তাকে নানা ভাবে পড়াশুনা দিক থেকে সাহায্য করতাম আস্তে আস্তে আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে পরলাম তার আচার ব্যাবহারে মনে হত সেও আমার প্রতি দুর্বল আসলে তানা সে জেনে গিেয়ছিল আমার খালা একজন সুনাম ধন্য শিল্পী এবং আমার বাবা একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তারপর মেয়েটি আমাকে একদিন বলল তার খুব Cultural Club এ কাজ করার ইচ্ছা, তখন আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু আমাকে মেয়েটির আসল ব্যাপার টা তুলে ধরল, আমার মাথায় আকাশ ভাংগে পড়ল।

 

আমি কিছু না বুঝে ওঠার আগে সে আমাকেও পাগল বলে সারা ক্যাম্পাস ছড়ানো শুরু করল।যে জাগায় যাই সেখানে আমাকে পাগল বলে….কেন বলে আমি জানি না। আমি আস্তে আস্তে নেশা জগতে চলতে থাকি…. কোন উপায় খুজে পাই না।আমার চাচাদের দিকে আনেক সমস্যা ছিল।তারা আমার মা, ছোট বোন ও আমাকে নিয়ে নানা রকম কথা আমার বাবার কানে প্রথম থেকে বলত।এটা আমি সহ্য করতাম…. কিন্তু আমার ছোট সুখের দুনিয়াটা যখন ভাঙে চুরমার হচ্ছিল…তখন আমার কিছুই করার ছিল না নেশা করা ছাড়া।এক সময়ে আমার মা ও আমরা সহ চাচাদের কারণে আমার নানা বাড়ি ঝগড়া করে চলে এলাম।

 

তবুও কষ্ট করে তথ্য প্রযুক্তির উপর একটি আন্তজাতিক ডিপ্লোমা শেষ করলাম এবং Best Project Award পেলাম। তারপর Business Studies Subject এ ইউনিভারসিটিতে সবার চেয়ে অধিক নম্বর পেলাম।কিন্তু…তাতেও হিংসা.. তবুও পাগল।

 

তারপর মা-বাবা আবার এক সাথে হলেন।মা ও আমার খালা কিছুটা আচ করতে পেরে…খালা প্রকটর বরাবর ই-মেইল করলেন এবং মা সরাসরই লিখিত নালিশ করলেন……কিন্তু কিছুই হল না।বরং বাসাতে নানা রকম হুমকি এলো।আমার উপর নানা রকম চাপ এলো… একদিন আমি বাসার দিকে যাচ্ছি হঠাৎ আমার মাথায়ে সজোরে কে আঘাত করল।

 

তারপর ১৪ দিন বিছানায়…তারপর আবলতাবল কথাবাত্তা…প্রথম ৩ মাস একজন ডাক্তার…তারপর আমার বাবা চাচা দের কথা শুনে নিয়ে গেল আর এক ডাক্তারের কাছে… তার ঔষধ খেয়ে আমি করো সাথে কথা বলি না,কারো চোখের দিকে ছাই না……।শুধু রাতের বেলাতে শুনি আমার বাবা খুব কষ্ট পেয়ে কাঁদছে “আমার ছেলেটার কি হল!!!!”,আমি শুধু শুনতাম কিন্তু প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ছিলাম।

 

তারপর ২ মাস পর আমি একটু টিক হলাম…আমার পড়াশোনা বন্ধ…চিন্তা করলাম একটা চাকরি নাই। অনেক কষ্টে নবাবপুরে একটা কম্পিউটারে ডাটা এন্ট্রি অফিসার এর কাজ নিলাম……লক্ষ্য ছিল বাবাকে খুশি করাবো আর টাকা জমিয়ে নেট ওয়াকিং ত্রাইনং শিখবো…বেতন ৩৫০০ টাকা।প্রথম তিন মাস জান দিয়ে কাজ করলাম…তখন ও বুঝিনি আমি মালিক একজন রাজনৈতিক লোক, সে আমাকে ডেকে একদিন বলল আমি তোমার

উপর অনেক খুশি এই নাও ৫০০০ টাকা,আমি খুশি হয়ে দিলাম,আর তুমি যদি আমার ডান হাতের মত কাজ করো তাহলে তোমার আর কোন চিন্তা করা লাগবে না। আমি একটু ভয় পেলাম। তারপর সেই ৫০০০ টাকা নিয়ে বাসায় রওনা দিলাম। আমার কপাল আসলেই খারাপ পথে ছিনতাইকারী ধরল, ৫০০০ টাকা দেয়ার পর রেহাই পেলাম।

 

বাসায় গিয়ে ঘটনা কিছু না বলে, শুধু বললাম আর চাকরীটা করব না।তারপর কমিশন ভিত্তিতে একটা কাজ পেলাম,যেমন ওয়েবসাইট এর কাজ আনলে মুল দামের ২০% কমিশন।এদিকে মা আমাকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বি,এ পড়ার জন্য ভর্তি করে দিলেন। আমি পড়তে থাকলাম আর ঐ কোম্পানির জন্য কাজ আনতে থাকলাম।

 

তারপর আমার বাবা ০৬/০৮/২০০৭ ইং তারিখে আমার জন্য অধিক চিন্তাই অফিসে অসুস্থ হয়ে ৩ দিন পর হাসপাতালে মারা যান। আমার কপাল আসলে খারাপ আমার চাচারাও আমার সাথে থাকল না।পরে আমার খালা

আমাকে একটা বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানিতে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন। আমি সেখানে ২ বছর চাকরি করি……ওখানে রাজনীতি সমস্যার কারনে চাকুরী ছেড়ে দেই। তারপর ১ বছর বসে থাকার পর আমার এক দূরসম্পর্কের আত্মীয় মানে আমার মামা আর একটি বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানিতে চাকুরি দেন। আমি বি,এ পাশ করি,৩য় বিভাগ। আমার বস আমাকে একটি Training ব্যবস্থা করে দেন। এর জন্য আমি তার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।

আমি জানি না আমাকে আর কত দূর যেতে হবে… তবুও মনকে বলি আর সাহস দেই, মনকে বলি আল্লাহ যা করে ভাল জন্য করে ফাহাদ…তুমি এসেছ একা এই পৃথিবীতে, একই যেতে হবে। আমি কিন্তু কোন মেথড জানি না…

আমি কোটিপতি হতে চাই না…চাই এমন কিছু গুণ যাতে আমাকে মানুষে ভরসা করতে পারে…পারে আমার কাছে শিক্ষা নিতে…একটি উদাহরণ হতে। মানুষের ভালোবাসা পেতে পারি।আমার শ্ত্রু যেন আমার মিত্র হয়ে যায়।

আমার জন্য দয়া করে যদি আপনারা মনে করেন সত্যিই সাদকা হয়ে তবে তাই করুন।

আল্লাহ হাফেয

মোঃ ফাহাদুল হক