ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

পোষ্টটি বেশ দীর্ঘ এবং এতে লেখকের অনেক আবেগের প্রতিফলন রয়েছে, সাংবাদিকরাই দেশের একমাত্র দেশপ্রেমিক ও বুদ্ধিদিপ্ত গোষ্ঠি নয় এই বিষয়টি আমাদের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আলোচিত সম্প্রচার নীতিমালার ভুলগুলো সম্পর্কে আলোচনার জন্য। (অবশ্য ওগুলোকে ভুল বলা যায়না, ইচ্ছাকৃত কোন কজকে ভুল বলা যায়না বলা যায় চতুরি) এদেশে অনেক স্পর্শকাতর ঘটনা যেমন বলা যায় বিডিআর বিদ্রোহ ভয়াবহ মোড় নেওয়ার পেছনে অদক্ষ্য-অপেশাজীবি সাংবাদিকতার কিছু অবদান রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিকানা ব্যবসায়ী ও একশ্রেনীর সুবিধাভোগী রাজনৈতিকদের দখলে, যার তুচ্ছ ঘটনাকে সংবাদে রুপান্তরিত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় অথবা বিজ্ঞাপনী আয় বাড়াতে চায়। যার প্রতিফলনে ঐসব সংবাদ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।

এতো এতো সাংবাদিকের ভিড়ে প্রয়ই সংবাদের সংকট হয় তাই পঞ্চম শ্রেনীর রাজনৈতিকদের হৈইচৈইয়ে টেলিভিশন খোলা দায়। অধিকাশ সময়ই সংবাদ আর দুঃসংবাদের পার্থক্য তারা বুঝে উঠেনা। গত দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশন একুশে টিভির হাত ধরে ভিন্ন ধরনের সাংবাদিকতার পথচলা, তখনকার প্রেক্ষাপট ছিলো বিটিভি অতিমাত্রায় সরকারি কর্মকান্ডের তোষামোদি(যা এখনও বিদ্যমান) এবং মানুষের বিটিভি ছাড়া আর কোন উপায়ও ছিলো না, কিন্তু আজ আর সেই দিন নেই, দেশে সম্প্রচার মাধ্যমের অভাব নেই কিন্তু তারপরও তথ্য বিন্যস্ত ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়না কারন সংবাদ মাধ্যমগুলো মালিকানার অসততা এবং মানসম্পন্ন সাংবাদিকের অভাব। বাংলাদেশের সম্প্রচার সংবাদ মাধ্যমের সংবাদে অন্যতম প্রধান একটি সংবাদ হচ্ছে নিত্য পণ্যের বাজার দর, যা বাজারে অনাহুত প্যানিক সৃষ্টি করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে, সংবাদ সংশ্লিষ্টদের বুঝতে হবে মানুষ বাজার দর শোনার জন্য সব সময়ই উৎপেতে থাকেনা। আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোন দেশে এই সবের কোন সংবাদ মূল্য আছে, ভারতে কিছুটা প্রচার করা হলেও এত উৎসাহ দেখা যায় না, কোন কোন দিন বাজার দর কমলে অথবা কম উঠানামা করলে আমাদের সংবাদ কর্মীদের মলিনতা নিশ্চই পাঠকদের দৃষ্টি এড়ায়নি। আবার সংবাদ শুরু হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে শুধু তাই নয় একেক সময়ের সংবাদ একেক প্রতিষ্টানের নামে, আবার শিরোনাম আরেক প্রতিষ্ঠানের নামে, বিরোতি আরেক প্রতিষ্ঠানের নামে, খেলার সংবাদ আরেক প্রতিষ্ঠানের নামে, এত সব কিছুর দ্বারা কি প্রকাশ পায় সংবাদের বানিজ্যিকর আর নিম্ন রুচি বোধ। সংবাদে এতো বিজ্ঞাপনের ভিড়ে বুঝতে বাকি থাকে না দেশপ্রেমে আর তথ্যের অবাধ ব্যবহার নয় বরং অর্থ প্রাপ্তিই তাদের প্রধান প্রেরনা। এই সব সাংবাদিক আর তাদের নিয়োগ কর্তাদের জন্য কোন নীতিমালাই যথেষ্ট নয় তারা তাদের অর্থের প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য নতুন পথ নিশ্চই বেড় করে নিবে।

তথ্যের অবাধ চলাচল সরকার কোন ভাবেই প্রতিহত করতে পারবেনা, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তা কোন ভাবেই তা সম্ভব নয় তা যেকোন সাধারন জ্ঞান সম্পন্ন মানুষই বুঝতে পারে। তবে দেশে একটি সম্প্রচার নীতিমালা থাকলে তা সংবাদ কর্মীদের পথচলাকে অনেক ভাবেই সহায়তা করতে পার। তথ্যের ব্যবহার এবং অপব্যহার দুই হতে পারে, সরকারের সম্প্রচার নীতিমালার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তথ্যের অপব্যবহার রোধ করা যাতে তা মানুষের মনে ভুল ধারনা সৃষ্টি করতে না পারে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষুন্ন না হয়, পৃথিবীর সবদেশেই সম্প্রচার নীতিমালা রয়েছে। আমরা যদি গণতন্ত্রের জন্মভূমির দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো তারা সংবাদকে কিভাবে সেন্সর করেছে ইরাক এবং আফগান যুদ্ধে, তারা বিশ্ববাসীকে অন্ধকারে রেখেছে তাদের নিজেদের স্বার্থে। তাই সভ্যরাও অসভ্যতা করে!

বাংলাদেশে এখন কোন সম্প্রচার নীতিমালা নেই তাতে কি লাভ হয়েছে জনগনের, আমরা কি তথ্যের পূর্ণ ব্যবহার দেখতে পাই, নিশ্চই না কেন?, এর কারন নিম্ন মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা। দেশে মান সম্পন্ন সাংবাদিকে ও সংবাদ কর্মীর অভাব রয়েছে, এই অভাব কে দূর করবে তা নিশ্পই সরকার দুর করবেনা, কারন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মজা কে ছাড়তে চায়।

সরকার প্রনীত সম্প্রচার নীতিমালা ত্রুটি মুক্ত নয় কারন তারা চাইবে মানুষকে অন্ধকারে রাখতে তাদের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু তাদের এটা বুঝতে হবে কোন সংবাদই এখন আর ছাপিয়ে রাখার উপায় নেই, ডিজিটাল পদ্ধতিতেই তা পৌঁছে যাবে সেইসব মানুষের কাছে যার মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।

শেষে বলতে চাই তথ্য এবং তথ্য প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব আর তা করতে পারে সত্যিকারের মেধাবী দেশপ্রেমিকেরা যারা দেশপ্রেমের বানিজ্যিকরন করে তারা নয়।কারন দেশটুকু শুধু মতিঝিল, গুলশান, ধানমন্তি আর চন্দ্রিমা উদ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এই ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইলে মধ্য আছে পাটক্ষেত, হাসনাহেনা, শিউলি-চামেলীর গাছ যারা নিস্বার্থ সুবাস ছড়ায় আবার আছে অপরিকল্পিত ভাগাড় যার ইচ্ছায় অনিচ্ছয় গন্ধ ছড়ায়।