ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

‘শেয়ার বাজার, এ এক অদ্ভুদ বাজার’ বলে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন দেশের বর্তমান অর্থমন্ত্রী, এর আগে সমালোচিত হয়েছিলেন শাহ্ এ এম এস কিবরিয়া, তিনি কয়েক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন ‘আমি শেয়ার বাজার বুঝিনা’। সমালোচনা আগে যারা করেছিলো আর বর্তমানে যারা করছে তারা অভিন্ন নয় (ঘোলা পানির মাছ শিকারী আর মিটমিট বুদ্ধিজীবি) আর দুই বারই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চাল-চুলোহীন লোভী শিল্পপতি (যারা ২ টাকা বিনিয়োগ করে ২০০০ টাকা লাভকে স্বাভাবিক ভাবে আর লোকসানের মুখে পরলে হাইমাউ করে কেঁদে সর্বস্ব হারানোর বিলাপ করে)। অর্থনীতির মৌখিক তত্ত্ব ‘যাকে বলা যায় অর্থনৈতিক ভাষা যা বাংলা বা ইংরেজী নয় জটিল অর্থহীন মিশ্রিত ভাষা’ যারা আওরান তারা ঠিকই গণমাধ্যমে সময় দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছেন আর নিজেদের তৈলাক্ত চেহারা দেখাতে পেরে গর্বিত হয়েছেন। তাদের বিশ্লেষণ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি কারন দেশ ও মানুয়ের দুর্দশার সাথে তাদের আচরনের কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। তারপরও অসম্ভবের দেশে এরা বেশ মূল্যবান, তাদেরই পরামর্শ অথবা সমালোচনায় প্রভাবিত হয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন যার মধ্যে ‘শেয়ার বাজার স্টাবিলাইজেশন ফান্ড’ নামক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি ফান্ড গঠন করার পদক্ষেপ অন্যতম, যদিও এই উদ্যোগের সামনের দিকে যে লোমশ ব্যক্তির আনাগোনা দেখা যায়-সন্দেহ জনক মনে হয় তাকে, আচরনগত দিক বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় শেয়ার বাজার পতনের পেছনে তার পরামর্শগত ও কৌশলগত অবদান রয়েছে। যদিও এর আগে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে পতন রোধ কারা যায় নি, তারপরও এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহনের পেছনে মূল কারন দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে তথা পুরো অর্থনীতিকেই গতিহীন করে দেওয়া। ইতিপূর্বে গৃহিত সরকারি কোন অর্থনৈতিক উদ্যোগই শেয়ার বাজারের পতন ঠেকাতে পারেনি তাই বুঝতে বাকি থাকেনা এই সমস্যা অর্থনৈতিক নয়, এর সাথে রাজনৈতিক সুধার যোগাযোগ রয়েছে।

গত ডিসেম্বরের আগ পর্যন্তও শেয়ার বাজার ছিলো ব্যক্তিশ্রেণীর বেশির ভাগ বিনিয়োগ কারিদের জন্য দৈনন্দিন আয়ের এক অন্যতম মাধ্যম, যারা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে শেয়ারের দাম বাড়লে তা বিক্রি করে খুবই দ্রুত লাভের আশায়। কিন্তু শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বাস্তব কারন হচ্ছে লভ্যাংশ অর্জন এবং এর সময় কাল হবে দীর্ঘমেয়াদী। আর লভ্যাংশ অর্জনের জন্য বিনিয়োগ করতে হলে তাদের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানের পোর্ট-ফলিওকে বিশ্লেষণ এবং সে অনুযায়ী বিনিয়োগ, যদিও সে যোগ্যতা সাধারন বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগেরই নেই, মুষ্টিমেয় কিছু লোকের এই গাণিতিক ক্ষমতা আছে যারা এই পতনের সাথে জড়িত। তারা শেয়ার বাজারের এই পতনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভাবে তাদেরে দৃষ্টিতে ‘কাফের’ মুক্ত করতে চাচ্ছে বিনিময়ে তারা নিশ্চিত করছে বায়বীয় হুর আর বাস্তব অর্থের প্রবাহ। এই সব মেধাবিরা ‘অর্থের সময় মূল্যে’র ব্যবহার জানে তাই অতিমূল্যায়িত এবং সময়ের তাগিদে অবমূল্যায়িত শেয়ারের বিনিময়ে কাঙ্খিত পরিমান অর্থ তারা সময়মত কিভাবে তুলে নিতে হবে সে কৌশল তারা আয়ত্ত করেছে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক পক্ষ লিপিষ্টিক, হলুদ-গোলাপি শাড়ি, বায়ুভবন/মহল আর সিঙ্গাপুর মালোশিয়ায় অন্যের নামে করা ক্রেডিট কার্ডে মার্কেটিংয়ে ব্যস্ত আর অন্য পক্ষ ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে চিন্তিত।

শেয়ার বাজারে পতন শুরুর প্রথমিক সময়টার দিকে একটু দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাবো তখন অর্থনৈতিক পরিবেশ মোটামুটি স্বাভাবিক ছিলো, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ব্যক্তিদের বোরখা সমেত আটক করা হয়। তখন স্বাধীনতা বিরোধী এবং নির্দিষ্ট ইস্যু বাস্তাবয়নের জন্য যেসব দলের সৃষ্টি হয়েছে তারা এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারে নি, আবার বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের জন্যে ঐ সময়কেও উপযুক্ত ভাবেনি, কারন তখন অন্য কোন রাজনৈতিক ইস্যু ছিলো না যার কারনে মানুষকে অন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পারবে। কিন্তু এখন বিচারের আন্তর্জাতিক মানের নামে তারা সরাসরি এই বিচারের বিরোধীতা করছে। কারন দলীয় সুবিধা ভোগী গোষ্ঠীর সাথে সাথে যারা শেয়ার বাজারে ক্ষতিগ্রস্হ হযেছে তারাও নিবেদিত ভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিবে এই আশায় যে এই দল ক্ষমতায় গেলে তাদরে হারানো পুঁজি আবার ফেরত পাবে। বাঙালি জাতী কোন সময়ই এতটা মেধাবী ছিলোনা যে তারা পরিস্থিতির সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে, যাদের কারনে তারা নিঃস্ব তাদের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলবে আর কিছু দিন বাদেই।

দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং বাস্তব দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সরকারের উচিত সততার সাথে শেয়ার বাজার পতনের পেছনে রাজনৈতিক ভাবে যারা কলকাঠি নাড়ছেন তাদের মুখোশ জনগনের সমনে তুলে ধরা, যা খুবই সম্ভব সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের বিও একাউন্ট ও ব্যাংক হিসাব বিশ্লেনের মাধ্যমে। দেশের শেয়ার বাজার যখন অর্থহীন ভাবে ফুঁলে ফেঁপে উঠেছিলো তখন যারা এর কুপ্রভাব বুঝতে পারেনি আর যারা তা বুঝতে পেরে এর কুফলকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে লালন করেছে তাদের কথায় নয় সরকারকে এই উদ্যোগ নিতে হবে দেশপ্রেমের প্রেরনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে, যদিও কাজটি সহজ সাধ্য নয় কারন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং মেধাহীনতার কারনে বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ এখন ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রনে। এই বলয় থেকে বের হয়ে আসতে হবে না হলে একদিন আবারও উদ্বাস্তু হয়ে দেশে দেশে ঘুরতে হবে, তখন করার আর কিছুই থাকবেনা লাঞ্ছিত হওয়া ছাড়া।