ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বলা হয়ে থাকে এদেশের জনশক্তির তিনভাগের একভাগ যুব সমাজ, এর সাথে অনুক্ত কথামালা গুলো হচ্ছে এই অংশের বেশির ভাগই বেকার অবার যে সামান্য অংশের কাজ আছে তদের বেশির ভাগই নাম মাত্র মূল্যে শ্রম বিক্রি করে দেশকে বহিঃবিশ্বের কাছে সস্তা শ্রমের দেশ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। এই সব পরিচিতি আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদানে দেশে একটি অভিজাত শ্রেনী গড়ে উঠেছে যারা আবার নির্যাতিতের প্রতিনিধি হিসেবে দেশ পরিচালকের দায়িত্ব পেতে প্রতি বসন্তে(পাঁচ বছর পর পর) মেতে উঠে, আর এরই মাঝে স্বপ্নের পরিধি বাড়তে থাকে স্বপ্রণোদিত বৈশিষ্টে।

গত নির্বাচনে বর্তমান শাসক দল(গণতান্ত্রিক দেশে এই শব্দটি আসলে কি ব্যবহার্য?) এর প্রচারনায় বহুল ব্যবহৃদ দুটি অঙ্গিকারের একটি হচ্ছে তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্য দ্রব্যের ব্যবস্হা করবে এবং ঘরে ঘরে একজন করে কর্মক্ষম লোকের চাকুরির ব্যবস্থা করবে, এই সব প্রতিশ্রুতি না দিলেও হয়তো জাতির এক ধরনেরে পতন সম্ভোগী-প্রতিশোধ পরায়নতা থেকে বর্তমান ক্ষমতাশীন দল ক্ষমতায় আসতো, যে ভাবে আগামীতে আসবে হয়তো অন্য কেউ, প্রতিশ্রুতিগুলোর উপযোগিতা এখনও বর্তমান অন্য কারো প্রতিশ্রুতি হওয়ার জন্যে, হবেও হয়তো অল্প কিছু দিন বাদেই। আর অতীতের মাঝে মিথ্যা ঐতিহ্য খোঁজা এ জাতির বর্তমান শ্রেষ্ঠরা এর নেতৃত্ব দিবে যেমনটি দেয় তাদের প্রতিযোগীও।

দেশ পরিচালনায় ক্ষমতাশীন দলের ব্যর্থতার আসল চিত্র তুলে ধরার মত মেধাবী এদেশের বিরোধী দল কখনই ছিলো না, তার প্রয়োজন অবশ্য পরেনা, কারন তারা বর্তমানের চেয়ে অতীতের বিষ্টায় গড়াগড়ি খেয়ে ভবিষ্যৎকে হরণ করতে প্রশিক্ষিত। দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্ব গতি নিয়ে মাতামাতি করতে শোনা গেলেও যুবসমাজের মাঝে যে স্বপ্নের মাদকতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় ভাবে তার কৈফিয়ত কেউ চায়না,কথিত অসাধারনেরা যখন ব্যস্ত ভবিষ্যতের স্বপ্নে আর তখন সাধরনের বর্তমানের জন্য রয়েছে গরীব দেশের ধনী-সুপ্রশিক্ষিত সুশৃঙ্খল বাহিনী। আর এই সবের মাঝে জন্ম-জন্মান্তরের জৈবিক বিকাশে আমরা বয়ে চলি সয়ে যাওয়ার প্রবনাতা।

এই সব প্রবনতা আরো প্রশিক্ষিত হয়ে পরে যখন দেখি রাজনৈতিক অস্হিরতা আর প্রশাসনিক জটিলতায় গড়ে প্রতিটি ছাত্রের জীবন থেকে অন্তত তিন বছর ঝড়ে পরে আর পুরস্কার হিসেবে দেশের বুড়ো ভাল্লুকেরা আরও দুই বছর যথেচ্ছা মধু আহরণের সুযোগ পায় তাদেরই হাত ধরে যারা যুবকদের লোভ দেখিয়েছিল কর্মময় ভবিষ্যতের।

প্রতি বছর সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, এক বছরের বিজ্ঞপ্তির পরীক্ষা হয় আরেক বছরের শেষে, ফল প্রকাশিত হতে লাগে আরো বছর দুয়েক ফল প্রকাশে সাধারনের অবশ্য বুঁক জুড়ায়না, কোঠায় কোঠায় বিভক্ত এ দেশের সুযোগের সমতার জন্য যেন আরেকটি যুদ্ধের প্রয়োজন। যদিও বাঙালির মহান সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ “রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির সুযোগের সমতা” অংশটি নিম্নরুপ

“১৯। (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন।

(২) মানুষে মানুয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র উন্নয়নের সমান স্তর উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণ করিবেন।”

সংবিধানে উল্লেখিত সুযোগের সমতা দানের চমৎকার উক্তি এ যেস পাঠ বিমুখ রবীন্দ্র গবেষকের কবি সম্পর্কিত উচ্ছসিত প্রসংশার মত শোনায়।

বেঁচে থাকা সাধরন মুক্তিযোদ্ধারা ‍যখন সাধারন মানবিক সম্মান পায়না তখন মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের জন্য সরকারি চাকুরির ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত। বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের যারা এখনও নীতিতে অটল তাদের প্লেটে আহার জোটেনা কিন্তু রাজাকারেরা দেশের পতাকা লাগানো গাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। বাঙালীর সম্মান বোধ হাস্যকার ঠেকে আমার কাছে, আমি অন্তত ব্যক্তিগত ভাবে এসব থেকে মুক্ত থাকতে চাই।