ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

গুরুজন বলেছিলেন-
মানব জীবন যাত্রী বিহীন তরী,
একলাই বাইতে হয়
নয়তো ডুবতে হয়।
এ ঘাটে ও ঘাটে অনেক ঘুরেছি
লুকানো পাথরে ঠোকর খেয়েছি
আর চোরা বালিতে ডুবেছি আকন্ঠ।
অবশেষে সেই নদী, সেই আমি
সেই তরী, সেই বৈঠা
ঝড়ের রাতের নিঃসঙ্গ হিজল বনের ডাহুক।

ওয়েব পাতায় ঝির ঝিরে বাতাস
দোল খাচ্ছিল মিছেমিছি
একদিন তুফান বয়ে গেল
নিকষ কালো রাতের আঁধার ঠেলে
এক ঝলক চাঁদের আলো নিয়ে এলে
তুমি সাগরের তীর হতে
এক মুঠো মিষ্টি হাওয়া এনে
ছোঁয়ালে আমার কপালে।
বহুদিন পর সেদিন মনে হলো
আমার পালকের উষ্ণতা
জুড়িয়ে দিচ্ছে কারো স্নেহের নিঃশ্বাস।

কুয়াশা কি করে জানবে
ঝলমলে ঊষার আলো
তার বন্ধু নয়,
হারিয়ে যাওয়ার বার্তাবাহক।
ঝর্না কখনো জানে না
নদী তাকে বুকে টেনে নেয়
শুধু সাগরে ভাসাতে।
ঝড়ের বিদায়ে স্তব্দ প্রভাতের ন্যায়
কহু-কুজন-কাকলী হারালো হিজলবন।

সে প্রভাতে আলো ফোটেনি
সূর্য উঠেনি, পাখিরা গায়নি সংগীত
ফোটেনি জুঁই, যুথী আর মল্লিকারা
আমি আবার খড়কুটো জড়ো করে
বুনতে বসলাম আমার কল্পনার পৃথিবী।

অবশেষে তুমি এলে-
ডেকে নিলে মমতা মহলে
চির মমতাময়ী।