ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

প্রিয়তমাষু!
জানতে চেয়েছিলে, কেমন আছি?
আবার কবে ফেরবো দেশে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি ভাল আছি
তবে বুকের ভেতর অসংখ্য অক্সিজেনের দায়,
পাতা ঝড়া গাছের মত ঠায় দাঁড়িয়ে।
তবু ভাল আছি।

ভেবেছিলাম অগ্রাহণ পেরোলে পৌষ আসবে,
তোমার পাশে বসে এই শীতের গান শুনবো
কিন্তু পৌষ আর এলো না, চলে এলাম বহু দূরে।

একজোড়া চিলের বাসা ছিল আমাদের
শিমুল গাছে,
পাতা ঝড়া গাছের দৈন্যতাকে ফেলে
উড়ে গেছে পাখি।

আজ আমিও যেন সেই পালতক চিল
প্রিয় খড়কুটো ছেড়ে আসা বেঁধেছি
গাছের ডালে,
যেন ভাগ্যের ক্ষেতে চাষ করেছি
চৈত্রের খড়া,
শিঁড়দাঁড়া পুড়ে যাচ্ছে রোধে
অহেতুক ক্রোধ-বিক্ষোভ করে
পাঁজরের খাঁচায়।

তোমার পাঠানো ভালবাসা
খোরমার মত শুকিয়ে গেছে
দিন ফুরালে ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে-
বিশাল আকাশ,
নক্ষত্র ভর করে আমার চোখের পাতায়,
এক ঝাঁক উল্কা ছুটোছুটি করে চোখের তারায়,
আমি বিহ্বল হয়ে পড়ি,
তুমি কিছু ভেবো না তো,
আমি বেশ আছি।

এই ভাবে পুড়ে পুড়ে, ঘুরে ঘুরে রোজ
শরীর থেকে ঝড়ার নিত্য আষাড়,
অতঃপর অক্সিজেন এর দায় ঘুঁচিয়ে,
এই আমি হাত ভর্তি ফুলের বুকেট নিয়ে
তোমার কাছে ফিরে আসবো, প্লীজ
এটুকু অপেক্ষা করো।