ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

২০১৭ সালের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবস। যা অর্জিত হয়েছিলো কিছু দুঃসাহসিক দেশপ্রেমী মহান মু্ক্তিযোদ্ধার জীবনবাজি অভিযানের ফলশ্রুতিতে। যার বিনিময়ে জাতি পেল বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার বিরল সন্মান! কিন্ত অর্জিত এই স্বাধীনতা যাদের অকৃত্রিম বিসর্জনের ফসল তারা কি আজ সবাই সমাজে স্বীকৃত? না কিছু স্বার্থান্বেসী মানুষের ভীড়ে ছিটকে পরা নক্ষত্র? যা পুবাকাশে ঝলমল হয়ে জ্বলে থাকার পরিবর্তে নিষিক্ত ডোবার কচুরি পানা!

মহান এই স্বাধীনতা দিবসে মহান রাষ্ট্রনায়ক শেখ মুজিবরের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট মু্ক্তিযোদ্ধা মোঃ মকবুল হোসেনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন এটা। প্রকৃত মু্ক্তিযোদ্ধারা কি মু্ক্তিযোদ্ধা ‘খেতাব’ অর্জনের জন্য ৭১ এর মতো যুদ্ধ চালিয়ে যাবে?

মু্ক্তিযোদ্ধা মোঃ মকবুল হোসেন ১৯৭১ সালের পূর্বে ফোর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্ট এ চাকুরীরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে ১৯৭১ সালের ১৮ই মে তারিখে মু্ক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি থ্রি নট থ্রি রাইফেল ও গ্রেনেড অস্ত্র পরিচালনায় প্রশিক্ষণ নেন অধিনায়ক ঢালু মেজর হামিদুল্লাহ খানের অধীনে। তার সেক্টর ছিলো ১১ নং। তিনি ইকবাল ঈ আলম কামাল কোম্পানিতে সহযোদ্ধাদের সাথে কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

কিন্ত কথাটি অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সহ যোদ্বারা আজ সবাই স্বীকৃত ও সন্মান প্রাপ্ত। আর জনাব মকবুল হোসেন সনদপ্রাপ্ত মু্ক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বীকৃতি পেলেন না। কেন এটা হলো তার জন্য মু্ক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কি জবাব দিবেন?

কষ্ট ছিলোনা, তবে আফসোস এখানেই যে, যারা মু্ক্তিযোদ্ধার ছদ্মবেশে নারীর ইজ্জত নষ্ট করছে তাদের সন্তানেরা আজ সমাজে ঠাঁই পেয়েছে আর জনাব মকবুল হোসেনের সন্তানেরা কি দোষ করলো- জবাব দিবেন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? কিছু না পেয়ে কষ্ট নেই, কিন্ত দুঃখ এখানেই যে, মু্ক্তি সংগ্রামী জনাব মকবুল হোসেন তো জীবন যুদ্ধের শেষ প্রান্তে, হয়তো নিষ্ঠুর পৃথিবী তাকে বিদায় জানাবে কিছু সময় ব্যবধানে, কিন্ত ওনার আমৃত্যু স্বপ্ন ছিলো মৃত্যু নামক অমোঘ সত্যের স্বাদ গ্রহণের পূর্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মু্ক্তি যোদ্ধার খেতাব গ্রহণ করতে। হবে কি পূরণ সেই চিরন্তর প্রত্যাশার?- জানতে চায় মু্ক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে পুত্রবধু ডাঃ ফাহিম সারমিন ও পুত্র মোঃ ইব্রাহিম খলিল।