ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

কুসংস্কার অামাদের সমাজের কিছু মানুষের নিকট এক নিমর্ম সত্য বলে বিবেচিত, মূলত এই কুসংস্কার গুলি এক হাস্যস্পদ ব্যতীত অন্য কিছু নয়। যেমন এক পাবনা ও নাটোরের দম্পতির সন্তান গর্ভে থাকায় কোন কিছু জবাই করা থেকে বিরত থাকছে দীর্ঘ নয় মাস পর্যন্ত। কোন দিন চন্দ্র গ্রহণ অথবা সূর্য গ্রহণ লাগবে সেই অাগাম বার্তায় নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত অাহার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকছে। এছাড়াও অাসরের নামাযের পর থেকে ফ্রিজ খোলা দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত তাদের নিকট। অাবার মাথায় দেখলাম মাছ ধরার জাল খোঁপার সাথে গেঁথে রেখেছেন বাতাস লাগবে বলে।

সন্তান হওয়ার পরে দিন অথবা রাতের বেলা বহু দিন পর্যন্ত টয়লেট গেলে ঘরে ফিরে নিজের শরীর কে ঝাড়ু দিয়ে অাপাত মস্তক মুছে নেয় যাতে শয়তান অথবা বাতাস প্রসূতি কে স্পর্শ না করতে পারে। এছাড়াও ঘরের সামনে জাল, বিভিন্ন গাছের ডাল তুষের ধোঁয়া দিয়ে থাকে। কিছু ফ্যামেলীতে নবজাতকের জন্মের অাগে থেকেই কুরবানির গরুর হাড্ডি সঞ্চিত রাখা হয়, নবজাতক এবং তার মা যখন বাহিরে কোথাও বের হয় তা সাথে রাখা হয়। যা থেকে অনেক সময় বিকট দুর্গন্ধ নির্গত হয়ে থাকে। এগুলি কিছু জেলা ভিত্তিক প্রথা।

অামি ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এলাকায় এই নিয়মগুলির প্রচলন লক্ষ্য করেছি, (যদিও অাল্ট্রা মর্ডান ফ্যামেলিতে এই প্রথা কিছুটা কম)। প্রকৃত পক্ষে এগুলি ইসলাম ও সহীহ হাদিস বিরোধী কু প্রথা যার মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি হেয় প্রতিপন্ন হয়। সব চাইতে অবাক লাগে যেখানে মোটামুটি একজন শিক্ষিত পার্সন হয়েও ফ্যামিলিক্যাল গন্ডির প্রথা অাঁকরে ধরে রাখে। কিছু মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস, প্রথা না মানলে নবজাতক অটিস্টিক হয়। অনেক সময় নাকি প্রেগন্যান্সি মিসক্যারিজ হয়ে যায়! হ্যাঁ, অামাদের দেশে অটিস্টিক বা অটিজম শিশুর যদিও অভাব নেই, কিন্তু এর মূল কারণ কু প্রথা না মানার কারণে না। অামাদের মেডিক্যাল সাইন্স যদিও ব্যর্থ এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে, কিন্তু অামরা তাই বলে কুসংস্কারে অাচ্ছন্ন থাকবো- এ কেমন চিন্তাধারা ডিজিটাল যুগে পদার্পন করে?