ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

পৃথিবীতে মা-বাবা এমন এক অাশ্রয় সংস্থা যার তুলনা পৃথিবীতে কোন বাট খারায় পরিমাপ করা যায় না! যায় না সেই পরম স্নেহের ওজন দেওয়া কোনো ওয়েট মেশিনে। সুতরাং মা এবং বাবা তাদের শেষ বয়সে কেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকবে প্রশ্ন অচেতন প্রতিটি সন্তানের বিবেকের নিকট। যখন অামরা অসহায় ছিলাম মুখে দুধ তুলে না দিলে উদরপূর্তি করতে পারতাম না! সেই দিন কে ছিলো অামার, অাপনার পাশে ভেবেছেন কি কখনো সুস্থ মস্তিষ্কে? তবে কেন অাপনার রুমে এসি, দুটি ফ্যান অার মায়ের রুমে পুরাতন হাত পাখা! অাপনার বিছানায় ফোম, জাজিম, অার মায়ের ঘরে পুরাতন ছেঁড়া, ছিন্ন কাঁথা? অাপনার রুমের দামি খাট-পালংকের কথা না হয় বাদই দিলাম। কেননা অাপনার স্ট্যাটাস অাজ অন্য রকম বলে কথা! অাপনি যা উদরপূর্তি করেন তা কি অাপনার সেই বৃদ্ধ মা-বাবা পাচ্ছে?

অামরা জানি প্রতিটি পুত্রবধু যেমন মেয়ে হতে পারেনা ঠিক তেমনি প্রতিটি শাশুড়ি মা হতে পারেন না। এটা এক চরম বাস্তবতা। কিছু শাশুড়ি মায়েরা অাছেন যারা কোনো দিন পরের মেয়েকে নিজের মেয়ের স্নেহ-ভালোবাসাটুকু কোনো ক্রমেই দিতে পারেন না। ঠিক তেমনি কিছু মেয়েরা অাছে যারা ইচ্ছা করলেই নিজের মা-বাবার সন্মানটুকু তার স্বামীর মা-বাবাকে দিতে পারে না! এটা এক মর্মান্তিক অপ্রিয়কর বাস্তবতা। যার ফলে বৃদ্ধাশ্রমের মতো সংস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্ত সচেতন ছেলে হিসেবে অাপনার দায়িত্ব পালনে অাপনি সচেষ্ট তো? কারন পুত্রবধু হিসেবে অাপনার স্ত্রীকে অাপনার মা-বাবা তৈরি করে নিতে পারেনি! তাই তাদের যথাযোগ্য প্রাপ্য শ্রদ্ধা-সন্মান তারা পেতে ব্যর্থ! অথবা অাপনার স্ত্রী অাপনার মা-বাবাকে অাপন মা-বাবার দৃষ্টিতে মেনে নিতে পারেনি! ব্যর্থতা কারো না কারো তো অবশ্যই রয়েছে। কিন্ত ছেলে হিসেবে অাপনি কতোটুকু দায়িত্ব পালন করছেন?

অাপনি একজন সরকারি চাকরিজীবী অথচ অাপনার মা ক্যান্সারজনিত রোগে দিনের পর দিন কুকুরের মতো কাতরে মারা গেছেন! অাবার হজ্ব পালন করছেন অাপনি টাকার বিনিময়ে! ধিক্কার জানাই সেই অর্থ সম্পদের পাহাড়ে! অাপনি অনেক বড় ব্যবসায়ী। এলাকা এক বাক্যে চেনে। এক নামে জানে। অথচ অাপনার বৃদ্ধা মায়ের ঘরে পুরনো হাত পাখা? বুঝি না অামি এতো টাকার পাহাড় কার অবদানে? কিছু পুত্রবধুরা পুরাতন প্রতিশোধগ্রহণ করে। অার অাপনি? এ সকল সন্তানদের অবদানে মা-বাবাদের শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রম নামক জেল খানায় থাকতে হয়। প্রয়োজন সচেতনতা অার মানসিকতার পরিবতর্নের তবেই অামরা সুখী সমৃদ্ধি পরিবার তৈরি করতে পারবো। পারবো শ্রদ্ধা-সন্মানের সুষম বন্টন করতে।