ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ইঁদুর সবসময়ই কিছু না কিছু কাটতে থাকে। যদি কাটার মতো কোনো কিছু না পায়, তাহলে হয়ত নিজের শরীরকেই সে তবিত করবে। অথবা তার দাঁত এত বড় হয়ে যাবে যে বিপদেই পড়তে হবে তাকে। সুতরাং সে সব সময় কেটেই যাচ্ছে। এতে তার থিসিসের বই কাটা পড়ল, না কার অতি মূল্যবান দলিল, না কারো পিএইচডির সার্টিফিকেট কেটে লণ্ডভণ্ড করছে, তা দেখার সময় তাদের নেই।

বর্তমানে আমাদের দেশের অবস্থাও হয়েছে ঠিক সে সেরকমই। তিনবছর আগে যখন জোট সরকার মতায় আসে তখন বিভিন্ন জায়গায় বেদম পিটুনি খেয়েছিল বিএনপির লোকজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মার খেয়েছিল ছাত্রদল ও শিবিরের ছেলেপেলেরাও। কিন্তু তাদের মারের চোটে কয়েকদিন পর যখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে অন্তরালে চলে গেল বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা, তখন নিজেদের ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন। কারণ ততদিনে তাদের হাত তো ধারালো হয়ে গিয়েছিল। সেই হাত নিয়ন্ত্রণ করেতে পারেননি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। তার রাগ অভিমান ধমকি কোনো কিছুই তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সম হয়নি। অনেকে বলে, এর পেছনে প্রধানমন্ত্রীর আশির্বাদ থাকার কারণেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল ছাত্রলীগ যুবলীগের কর্মীরা।

এইতো কিছুদিন আগেও সরকার যা-ই করতো না কেন সূচারুরূপে তার বিরোধিতা করে নিজেদের বিরোধী দলের নামকরণে সার্থকতা প্রমাণ করেছিল বিএনপিসহ সহযোগী অন্য দলগুলো। কিন্তু অতি সম্প্রতি গুম, হত্যার পাশাপাশি, কাউকে জেলে মুফতে অন্ন ধ্বংসের কাজে লাগিয়ে দেওয়ায় শূন্য হয়ে পড়েছে বিরোধী দলের মঞ্চ। কিন্তু তাহলে সরকারি দল করবেটা কি?

আর তাই বোধ হয় একবার অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে নিয়ে, তো আরেকবার বিচারপতিকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন তারা। সায়ীদ স্যার বা বিচারপতি শামসুদ্দিন কী বলেছিলেন, তা হয়তো সাধারণ মানুষ অতটা গুরুত্ব নিয়ে দেখেননি বা খেয়াল করেননি। কিন্তু কী নিয়ে এত বিতর্ক তা জানতে সাধারণ মানুষ দ্বিতীয় দফায় ভাল করেই তাদের বক্তব্যগুলো পড়ে দেখেছে। আর এরপর এ সম্পর্কে সাধারণ জনগণের কী মন্তব্য তা জানতে হলে গলির মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে একটু যেতে হবে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের। অথবা আলোচনাটা কোনো লোকাল বাসেও শুরু করিয়ে দেখতে পারেন জনগণের মন্তব্য কী।

যদি ক্যানভাসার হতাম আমি তাহলে বলতাম, এসব স্থানে আপনি আরো জানতে পারবেন, সরকারের পরিশুদ্ধ রেল মন্ত্রণালয় নিয়ে এখন জনগণের মতামত কী? কুইক রেন্টাল নিয়ে সাধারণ জনগণ কতটুকু উচ্ছ্বসিত, দ্রব্যমূল্য নিয়ে তারা কতটুকু স্বস্তিতে আছে, লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে তারা কতটা আনন্দিত? আপনাদের উন্নয়নের জোয়ারে তারা কতটুকু ভেসেছে, আর কতটুকু ভাসতে চায়? পাবলিক পরীায় এত হারে পাশ করায় তাদের চিন্তা কোনদিকে যাচ্ছে? দেশের শিল্প কারখানা যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে তাদের মন্তব্য কী? দেশের দুর্নীতি-সম্প্রীতি সম্পর্কে তারা কতটুকু জানে ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। যে কোনো বিষয়েই আলাপ তুলে দিলে জানতে পারবেন আপনি যা জানতে চাইছেন।

আমি যদি ক্যানভাসার হতাম, তাহলে এগুলোই বলতাম। কিন্তু যেহেতু আমি সে পদেরও যোগ্য নই, তাই বলা থেকে বিরত থাকলাম।