ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

সবেমাত্র বিয়ের কলেমা শেষ হল সদ্য বিদেশ ফেরত নাসিরউদ্দিন শেখ-এর। দীর্ঘদিন আরব দেশে থাকায় সবাই তাকে “আরব শেখ” বলে ডাকে। নামে যেমন কাজেও তেমন সে। সবসময় শেখদের মত মাথা উঁচু করে চলে। উচ্চবংশীয়, অর্থনৈতিক অবস্থাও চোখে পড়ার মত। তবে তার শ্বশুর বাড়ীর অবস্থা তেমন ভালো নয় কিন্তু শিক্ষিত পরিবার। শিক্ষিত আর মেয়ে রূপসী হওয়ায় সে এই পরিবারে সম্মন্ধ করে।
মহাধুমধামের সাথে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর শেখ সাহেব দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে উত্তেজনাকর আর রোমাঞ্চকর রাত-বাসররাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। দেরী হওয়ায় ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা অনুভব করে সে।
একসময় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শেখ সাহেব মাথা উঁচু করে পৌরুষত্বের জ্বলজ্বলে ভাব ফুটিয়ে ঢুকতে যায় সেই প্রত্যাশিত বাসরঘরটিতে যেখানে বসে আছে তার রূপসী বধূ। কিন্তু ঢুকতে যেতেই দুর্ঘটনা, মাথার সাথে টক্কর লাগে বাসরঘরের দরজার উপরের চৌকাঠের। প্রথমে মাথাটি তার ভনভন করতে থাকে, তারপর ফুলে যায়। চক্ষুলজ্জায় কিছু হয়নি এমন ভাব ফুটিয়ে এগিয়ে যায় বাসরখাটের দিকে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে শেখ সাহেব অবাক হয়ে লক্ষ্য করে তার শ্বশুর বাড়ীর প্রতিটি দরজা অনেক নীচু করে তৈরী করা আর নীচের চৌকাঠ অনেকটা উঁচু। কৌতূহল চাপতে না পেরে সে তার শ্বশুরকে জিজ্ঞেস করে এর কারণ। উত্তরে তিনি যা বললেন তাতে শেখ সাহেবের পৌরুষত্ব,বংশীয় মর্যাদা আর অর্থনৈতিক যে অহংকার ছিল তা নিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হল।
দরজা নীচু করে তৈরীর কারণ হল সবাই যাতে মাথা নীচু করে বিনয়ী হয়ে চলার চেষ্টা করে আর নীচের চৌকাঠ উঁচু রাখার কারণ হল সবাই যাতে দেখেশুনে পথ চলে। বিনয় ও বিনম্রতাকে পরিবারের সদস্যদের অভ্যাসের অংশে পরিণত করার জন্য তিনি এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হচ্ছে অপরাধীদের শ্বশুরবাড়ী। এখানে মূলত একজন অপরাধী নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করে, আবার নিজেকে সংশোধন করারও সুযোগ পায়। বিভিন্ন কাজে নিজেকে দক্ষ করে যাতে পরবর্তী মুক্ত জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
কারাগারে প্রবেশের জন্য বিরাট ফটকের মধ্যে থাকে ছোট একটা “পকেট গেইট ” যা এই শ্বশুর বাড়ীতে ঢোকার প্রথমেই কোন অপরাধীকে সংশোধনের প্রথম শর্ত-বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা দেয়।
প্রাক্তন মন্ত্রী লতীফ সিদ্দিকী এখন একটি আলোচিত নাম। হজ্ব, তাবলীগ -জামায়াত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে সম্প্রতি তিনি অপরাধী বিবেচিত হয়েছেন। তার মতে “আধুনিক” আর “মুক্ত” মানুষ হিসাবে তিনি এইসব কথা বলেছেন। অহংকার ও দাম্ভিকতা তাকে অক্টোপাসের মত জড়িয়ে ধরেছে অথচ একজন আধুনিক মানুষ মানেই হল একজন বিনয়ী মানুষ। তিনি শ্বশুরবাড়ীরূপী কারাগারে ঢোকার সময়ও পকেট গেইট ব্যবহার না করে প্রধান গেইট ব্যবহার করতে দিতে বাধ্য করে প্রমান করে দিয়েছন যে “বিনয়ী” শব্দটি তার ডিকশনারিতে নাই।

ট্যাগঃ:

মন্তব্য ২ পঠিত