ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

করিম সাহেব অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারী কর্মচারী। এক বছর আগে অবসর নিয়েছেন। এখন থাকেন বড় ছেলের সাথে। তিনি যে রুমে থাকেন, সেই রুমের খাটের সামনের দেয়ালে রয়েছে তার স্মৃতিবিজড়িত একটি ঘড়ি। ঘড়িটি দুই দিন ধরে বন্ধ। সম্ভবত ব্যাটারী শেষ হয়ে গেছে। ব্যাটারী বদলানো দরকার। তিনি আজ সকালে দোকানে গেলেন ব্যাটারী কিনতে। দোকানদার এক জোড়া ব্যাটারীর দাম চাইলো ত্রিশ টাকা। তিনি একটু অবাক হলেন, এই একই ব্যাটারী তিনি গত দুই মাস আগে বিশ টাকা দিয়ে কিনেছেন। দোকানদার কারণ হিসাবে বললো ডলারের দাম বেড়ে গেছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ হলো বিদ্যুৎ। সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রচুর জ্বালানী তেল আমদানী করতে হয়, যার কারণে ডলারের উপর চাপ পড়ে এবং এর সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে ডলারের দাম বেড়ে যায়। এতে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। সাধারণত সরকার যে দামে জ্বালানী তেল আমদানী করে তাতে ভর্তুকি দিয়ে এর চেয়ে কম দামে সরবরাহ করে থাকে। সরকার তার ভর্তুকি কমিয়ে আনার জন্য জ্বালানী তেল আর বিদ্যুতের দাম বারবার বাড়াতে থাকে। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহনখাতে ভাড়া বেড়ে যায়, যার প্রভাব পন্যের উপর এসে পড়ে এবং পন্যের দাম বাড়তে থাকে। এছাড়া বেসরকারী খাতে যারা বিদেশ থেকে পন্য আমদানী করে থাকে তাদেরকে ডলার বা ঐদেশের মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ফলে আমদানীকারককে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হয়, যা পন্যের মূল্যের উপর চাপিয়ে দেয় এবং পন্যের দাম বেড়ে যায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন সমষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর গতি-প্রকৃতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষনে বাংলাদেশের অবস্থান ভাল আছে। কিন্তু আমরা যারা সাধারণ মানুষ আছি, আমরা এইসব সূচক,তথ্য-উপাত্ত বুঝিনা। আমরা বুঝি আমরা যা আয় করি তা দিয়ে যেনো আমাদের বাসস্থান, আহার যোগান সম্ভব হয়। কিন্তু সেটা ধীরে ধীরে অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে, আয় ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকছে না।

দেশের উন্নয়নের জন্য সরকার যেসব নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তা সম্ভবত কোন সুদূরপ্রসারী চিন্তা নিয়ে করা হয় না। যার জন্য এইসব নীতির সুফল জনগণ পায় না। বরং একটা সময় এটা মানুষের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের উচিত কোন পরিকল্পনা করার সময় এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে এর ভবিষ্যত সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে বাস্তবায়ন করা।