ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পূর্বাচল ক্যাম্পে দুইজন দক্ষ পাইলট খুবই ব্যস্ত। তাদের স্থির দৃষ্টি একটি বড় পর্দায়, আর হাতদুটো রয়েছে কন্ট্রোলারের উপর। তারা ছবি দেখছে,আর হিসাব করছে। মুহূর্তের ভুলে কয়েক ডজন নিরাপরাধ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটতে পারে। তারা নিয়ন্ত্রণ করছে দুই হাজার মাইল দূরের দুইটি আধুনিক ড্রোন। এটি ২০৩০ সালের কথা। এটাকে কি আমরা উন্নতি হিসাবে দেখবো? যদি উন্নতি হয় তাহলে এটা হবে বাংলাদেশের তখনকার কাল্পনিক অবস্থা।

ইদানিং যে শব্দটির সাথে আমরা প্রায়ই মুখোমুখি হই,তা হচ্ছে ড্রোন। ড্রোন হচ্ছে মনুষ্যবিহীন একটি বিমান যা বেশীরভাগ সামরিক পরিদর্শনকরণ অথবা লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্টকরণ কাজে ব্যবহ্রত হয়। এটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামরা বহন করে। আধুনিক ড্রোনে থাকে রাডার, মিসাইলসহ আধুনিক ব্যবস্থা। এটি বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে এবং ১৯৫০ সাল থেকে তৈরী শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত উন্নীতকরণ হয়ে আসছে। এর প্রথম ব্যবহার হয় ১৯৮০ সালে। পূর্বে ড্রোন সবচেয়ে বেশী উৎপাদন ও ব্যবহার করতো ইসরায়েল, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম অবস্থানে। পৃথিবীর অনেক দেশের সামরিক কতৃপক্ষ এটা অর্জনে আগ্রহী, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং ব্যবহারে পাইলটের জীবনহানির কোন শংকা নেই। এটি ৬০,০০০ ফিট উপরে এক নাগাড়ে ২০ঘন্টা পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। ভূমি থেকে এটি রিমোটের মাধ্যমে পাইলট নিয়ন্ত্রন করে অথবা প্রোগ্রাম করা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

ড্রোন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ফলদায়ক অস্ত্র যার মাধ্যমে বিরোধী পক্ষকে সহজে ঘায়েল করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী থেকে কমপক্ষে ৮বিগ্রেড সেনা ছাঁটাই করবে অর্থ্যাৎ ৫৭০,০০০ সেনা থেকে ৪৯০,০০০-এ নামিয়ে আনবে। কিন্তু ড্রোন কিংবা এর মত সরঞ্জাম আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়াবে। যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর ৬১টা ড্রোন এখন সবসময় এয়ার পেট্রোল ডিউটি করে থাকে। প্রত্যেক পেট্রোলে ৪টা করে ড্রোন অংশ নেয়। ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী তাদের প্রায় ৭৫০০টা ড্রোন আছে যার সংখ্যা ১০বছর আগে ছিল মাত্র ৫০টি। মে,২০১১-তে ওসামা বিন লাদেন হত্যাকান্ডে ড্রোন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০১০সালে ইরান “কারার” নামে একটি ড্রোনের পরীক্ষা চালিয়েছে যা ৪মিটার লম্বা এবং এর সীমা ১০০০কি্‌.মি.পর্যন্ত। এছাড়া ভারত,পাকিস্তান,রাশিয়া এবং চীন ড্রোন তৈরীর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটা সাধারণ ইউ.এস ড্রোন তৈরী করতে খরচ হয় ৪.৫মিলিয়ন ডলার থেকে ১১মিলিয়ন ডলার। আর উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন আধুনিক ড্রোন তৈরী করতে ৩০মিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি খরচ হতে পারে। ইউরোপের তৈরী প্রথম ড্রোন বিমান “এনইউরোএন” গত ২০শে জানুয়ারী উপস্থাপন করা হয়। ডিজাইন এবং প্রযুক্তি নিয়ে প্রায় ৫বছর ধরে গবেষণা করে এটি তৈরী হয়, বিশেষ করে “সিফোরআই” বৈশিষ্ট্য অর্থ্যাৎ কমান্ড,কমিনিউকেশন,কন্ট্রোল, কম্পিউটার এবং ইন্টেলিজেন্স এর একত্রীকরণের ফলে ড্রোন বিমানটি যুদ্ধক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

আবু হানিফ তিন বউ নিয়ে ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ প্রচন্ড আওয়াজে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। অভ্যাসবশত হাত চলে যায় পাশে রাখা একে-৬৯ রাইফেলের উপর। মাথায় পাগড়ীটা বেঁধে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সহযোদ্ধাদের খবর দিয়ে রাইফেলটা নিয়ে বাহিরে বের হয়। খবর পায় ভারত ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাংলাদেশে এখন ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চলছে, এ ব্যবস্থা নস্যাৎ করার জন্য ভারত উঠে-পড়ে লেগেছে। এটি ২০৩০সালের কথা। এটাকে কি আমরা অবনতি বলব? যদি অবনতি হয় তাহলে এটা হবে বাংলাদেশের তখনকার কাল্পনিক অবস্থা।