ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

আমার এই লেখা, গদ্য পদ্য প্রবন্ধ নিব্ন্ধ গল্প, যাই বলা হোক তা কল্পনা প্রসূত নয়।  কারুর না কারুর কাছে শোনা বা শেখা অথবা অভিজ্ঞতায় লব্ধ।

প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিনিয়ত কতো মানুষের সাথে মিশছি। প্রতি মুহুর্তেই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করছে আমাদের। পাশাপাশি বাড়ছে জ্ঞানের ভান্ডার। আর একের কাছে শেখা নতুন জ্ঞান অপরের সাথে ভাগাভাগি করাটাই সভ্যতার অগ্রগতির ধারা। আামি যা দেখছি শুনছি শিখছি তা আপনাদেরকে জানাতে চাই।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের খবর সংগ্রহের জন্যে নিউইয়র্ক এ্যাসাইনমেন্ট। প্রথমদিন আড্ডা হচ্ছিল জ্যাকসনহাইটসের রুজভেল্ট এভিনিউ ও ৭৩ স্ট্রিটের কর্নারে এখন সময় অফিসে। ওই আড্ডার কিছুটা সময়ের আলোচনা।

এখন সময় সম্পাদক কাজী শামসুল হক জীবনের ক্ষুদ্রতা বোঝাতে বললেন,

‘আকাশের দিকে তাকাও, দেখবে কতো ক্ষুদ্র তুমি। আর যারা মনে করেন আমি জ্ঞানী অনেক জানি, ওপরের দিকে তাকালে বুঝবে ওই শুন্যতায় কতো অজানা বিরাজ করছে। নীচের দিকে তাকালে দেখা যায় মাটি। এর নীচেতো কিছু নেই। এর মধ্যেই জীবন সীমাবদ্ধ। অথচ এই সীমাবদ্ধ জীবনেও আমরা কতো দ্বন্দ্বে লিপ্ত সর্বদাই’।

“তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে আসতে”-কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া জনপ্রিয় এই গানটির রচিয়তা মেহফুজ ভাই- কাজী ভাইয়ের বক্তব্যের সমর্থন করলেন। বললেন, ‘কাজী ভাই দুই লাইনে যে সারাংস টানলেন সেটিই আসল সত্য। বাংলায় স্কুলে যেমন সারাংস লিখতে হতো, দুই লাইনে সারাংস করে দিলেন জীবন সম্পর্ক বিষয়ে’।

মেহফুজ ভাই বললেন, ‘আমরা অনেক সময় শুনি একে অপরকে বলছে ভাই তুমিতো সুখী মানুষ। কে সুখী কে সুখী নয় এটা একজন সম্পর্কে অন্যে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আমি মনে করি একটা মানুষ যদি শারিরকভাবে সুস্থ্য থাকে তার সুখী হওয়া উচিৎ। আর সুখ বিষয়টি আবছা বিষয়। এর কোনো সংজ্ঞা নেই’।

বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে যে কোনো বিষয়ে চট করে ধারণা নেয়া যায় আনলাইন জ্ঞানকোষ থেকে। ঐ জ্ঞানকোষের ওপর আস্থা রাখা যাক বা নাপ যাক অন্তত ধারনাটাতো হয়। সুখ সম্পর্কে উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে নেয়া বিবরণ হচ্ছে: ‘সুখ একটি মানবিক অনুভুতি। সুখ মনের একটি অবস্থা বা অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়’।

জৈবিক, মানসিক, মনস্তাত্বিক, দর্শনভিত্তক, এবং ধার্মিক দিক থেকে সুখের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এর উৎস নির্ণয়ের প্রচেষ্টা করা হয়েছে। সুখ পরিমাপ করা কঠিন। গবেষকেরা একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন যা দিয়ে সুখের পরিমাপ কিছুটা করা সম্ভব। সুখকে ইতিবাচক কর্ম ও আবেগের সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনটি বিশেষ অবস্থাকেও সুখ বলে বিবেচনা করা হয়: আনন্দ, অঙ্গীকার এবং অর্থ।

সুখের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয় হচ্ছে: সামাজিক সম্পর্ক, বহির্মুখী বা অন্তর্মুখী অবস্থা, বৈবাহিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা, আশাবাদ, ধর্মীয় সম্পৃক্ততা, আয় এবং মানুষের সাথে নৈকট্য।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সুখের সংজ্ঞা দিয়ে কবিতা লেখেন:

সুখ মানে একটি জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে
ঝাপিয়ে পড়া,
সুখ মানে ভালোবাসার টাকাগুলো
অচল কোরে দেয়া।
সুখ মানে নারী ফেলে, ফুল ফেলে
আগুনে সমর্পিত হওয়া।
সুখ মানে নির্বিঘ্নে একটি নির্বিকার
সিগারেট ধরানো।

এই আধুনিক সময়ে বিজ্ঞানীরা সুখ মেপেছেন পাঁচটি উপায়ে।

আগে সুখ বলতে ধনসম্পদ এবং সৌভাগ্য বোঝানো হতো। এখন অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুখকে একটি মানসিক অবস্থা হিসেবে দেখা হয়।

মানুষ এখন সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে যুক্ত। তাদের হাসিখুশি মেজাজের আঁচ পাওয়া যায় তাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট দেখলে। একজন মানুষ খুশি থাকলে অবশ্যই তা নিয়ে টুইটারে লিখবে। আর তা থেকেই বোঝা যায় তারা কতো সুখী।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাঝে সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয় ফেসবুক। আর এর মাঝে যে মানুষের মেজাজের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যাবে তা তো বলাই বাহুল্য। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পাশাপাশি নিজের অনুভুতিও প্রকাশ করা যায় “ফিলিং” নামের একটি অপশন ব্যবহার করে। এখানে “ওয়ান্ডারফুল” অথবা “গ্রেট” অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে বোঝা যায় মানুষটি আসলে হাশিখুশি বোধ করছে কি না।

ইনস্টাগ্রামে মানুষ নিজের ব্যক্তিগত ছবি এবং পারিপার্শ্বিকের ছবি তুলে প্রকাশ করে থাকে। মানুষ হাসিখুশি থাকলে স্বভাবতই আর ছবি তুলে অন্যদের কাছে তা প্রকাশ করতে চাইবে। এভাবেই ইনস্টাগ্রামে হাসিমুখের ছবি তুলে তা প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে মানুষের সুখের পরিমাণ বোঝা যায়। এদিক থেকে সুখী মানুষের সংখ্যা সবচাইতে বেশি ব্রাজিলে। জাপান আর ভ্যাটিকান সিটির মানুষ আবার এদিক দিয়ে বড়ই অসুখী বলে মনে হয়।

কেউ বলেন ভোগে সুখ; আবার অনেক বলেন ত্যাগেই সুখ। সুখ আসলে কি? সে প্রশ্ন মনে হয় থেকেই যাবে অন্তত:-কাল।