ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

ফকির সেলিম
রামিনের ক্ষুধা লেগেছে। সামনে একটা সার্ভিস সেন্টার পড়লো। থামলাম সেখানে। পোর্টল্যান্ডের কাছাকাছি সেটি। জিপিএস বলছে সেখান থেকে আমাদের গন্তব্যের দুরত্ব ২৩ মাইল। সার্ভিস সেন্টারটি বেশ সাজানো গোছানো। পার্কিং লটের সামনে শিংওয়ালা একটা জন্তুর স্ট্যাচু। মেটালের তৈরী। বিশাল হরিণ অথবা নীলগাইয়ের মতো দেখতে। রামিন আর আমি তার পাশে ছবি তুললাম। জন্তুটার ওপরে দুটো পতাকা। একটা জাতীয় পতাকা অপরটা মেইনের সরকারী পতাকা। বিভিন্ন এ্যাংগেল থেকে দুই বাপ ব্যাটা ছবি তুললাম।

সার্ভিস সেন্টারর ভেতরে ঢুকে পপাইসের চিকেন অর্ডার দিলাম। সংগে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর চিজ কুকিজ। তার আগে পুরো সার্বস সেন্টার ঘুরে দেখলাম দুজন। খেতে খেতে শহীদুলকে ফোন দিলাম। বললাম কতো ডলারের টিকেট খাইছো? ক্যামনে খাইলা? আরে কইওনা ১৮৫ ডলারের টিকেট দিছে। বললাম কতো স্পীড উঠায়ছিলা গাডীতে? একশর ওপরে। পয়েন্ট কাটছে? না, হাইওয়েতে পয়েন্ট কাটে না। যাক তবুও ভালো টাকার ওপর দিয়ে গেছে।

স্পীডিং টিকেটের আইন এক এক রাজ্যে এক এক রকম। ম্যাক্সিমাম স্পীড লিমিট ক্রস করে ১০ মাইল বেশী পর্যন্ত স্পীড হলে পুলিশ ধরে না। অর্থাৎ কোনো রাস্তায় লেখা স্পীড লিমিট ৪৫ মাইল। সেই রাস্তায় কেউ যদি ৫৫ মাইল স্পীডে যায়, পুলিশ সাধারণত ধরে না। তার বেশী হলে কেউ কেউ ধরে ওয়ার্নিং দিয়ে ছেডে দেয়। কেউ আবার টিকেট দিয়ে দেয়।

তবে ড্রাইভ করে ডিসি নিউইয়র্ক ফ্রিকোয়েন্ট আসা যাওয়া করে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে বলতে চাই যে নিউজার্সি টার্নপাইকের মতো হাইওয়েতে পুলিশ নির্ধারিত স্পীডের চেয়ে ২০ মাইল বেশী পর্যন্ত মাফ করে। গত তিন বছরে গডে মাসে ২ বার করে যদি ধরি, ৭২ বার নিউইয়র্ক ডিসি আসা যাওয়া করেছি। এর মধ্যে পুলিশে থামিয়েছে মোট তিনবার। তিনবারই ওভার স্পীডিং করার কারনে। একবার মৌখিক ওয়ার্নিং দিয়ে ছেডে দিয়েছে, দুবার টিকেট দিয়েছে। দুবারই ৯০ ডলার।

প্রথমবার ২০১৩ সালের মে মাসের শেষের দিকে বল্টিমোর ওয়াশিংটন পার্কওয়েতে নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়া যাওয়ার পথে। বাসা দেখতে যাচ্ছি। রুট ৮৯৫ ধরে বল্টিমোর হারবর টানেল ক্রস করার পর ছোট্ট একটা লোহার ব্রীজ পার হতে হয়। তারপরই পেছন থেকে পুলিশ লাল নীল লাইট ফ্ল্যাশ করতে থাকে। থামালাম।

পুলিশ দুজন পেছনে থামল। গাড়ী থেকে নেমে এসে পুলিশ বলে ড্রাইভার্স লাইসেন্স আর গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন দাও। আমারতো বুক ধড়ফর শুরু হলো। কারন আমার গাড়ী না। শাহজান ভাইয়ের গাড়ী আমার বাসায় রেখে ওরা বাংলাদেশ গিয়েছিল। হন্ডা ওডেসি। বড়ো গাড়ী। তাই একটু আরামে যাওয়া যাবে ভেবে ওই গাড়ী নিয়ে বের হই। ফ্লোরিডার নাম্বার প্লেট। আমার লাইসেন্স দিলাম। রেজিষ্ট্রশন কোথায় জানিও না। এখানে ওখানে খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম। পুলিশ বললো কার গাড়ী। বললাম আমার এক বন্ধুর। ওকে বলে আমার লাইসেন্স আর রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে চলে গেল।

২০-২৫ মিনিট পর ফিরে এসে বললো তুমি জানো কি কারনে তোমাকে থামিয়েছি? বললাম না। সে বললো ৫৫ মাইলের যায়গায় তুমি ৭৭-৭৮ মাইল বেগে গাড়ী চালিয়েছো। তবে এর জন্য তোমাকে টিকেট দিলাম না। শুধু ওয়ার্নিং দিলাম। তবে গাড়ী চালানোর সময় তুমি নিজের লেনে ছিলে না ঠিকমতো। লেন চেঞ্জ করেছো সংকেত না দিয়ে। সেজন্য তোমাকে এই ৯০ ডলারের সাইটেশন দিলাম। আমার লাইসেন্স আর গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশনের সঙ্গে লম্বা একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললো, ‘ড্রাইভ কেয়ারফুলি’। গোলাপী রঙ্গের কাগজের ওপরে লেখা citation সাইটেশন।