ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

সাইটেশন নেয়ার জন্যে নিউয়র্কে কতোজনকে কতো দৌঁড়ঝাঁপ করতে দেখেছি। নানা অভিবাসি সম্প্রদায়ের নেতারা সিটি হল থেকে একটি সাইটেশন পাওয়ার জন্যে কতো কি করেন। মূলধারার রাজনীতিবিদদের কতো আদর যত্ন করতে হয় সিটির পক্ষ থেকে একটা সাইটেশন পেতে। এটিএন বাংলায় কাজ করা আবস্থায় একবার এটিএনকে দেয়া হলো সাইটেশন। সম্ভবত ২০১০ সালে। এর জন্যে এটিএনের আমাদের কারো কিছু দৌঁড়ঝাপ করতে হয়নি। তবে এটিএন ফ্যানেরা বোধকরি ধর্ণা দিয়েই তা সিটি কর্পোরেশন থেকে নিশ্চিত করেছিল। আমাদেরকে বুঝতে দেয়া হয়নি। তবে সাইটেশন পেতে কি পরিমাণ কাঠখড় পোড়াতে হয় তা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। এটিএনের সঙ্গে সেবার কমিউনিটির অন্য যেসকল নেতা ঐ সাইটেশন পেয়েছিলেন, হয়ত তারাই তদ্বির করেছিলেন এটিএনকে দেয়ার জন্যে।

নিউইয়র্ক সিটি হল থেক সাইটেশন আনতে গিয়েছিলাম। লাকিলি সেবার আমাদের চেয়াম্যান ড. মাহফুজুর রহমান সাহেব উপস্থিত ছিলেন। তো ওই প্রথম ওই শেষ; সিটি হলের সাইটেশন পাওয়া। আর আজ রাস্তায় থামিয়ে আমাকে সাইটেশন দল মেরীল্যান্ড পুলিশ।

যাক, মূল কথায় আসি। মেইন সফরে যাওয়ার যে ঘটনা বলছিলাম। সার্ভিস সেন্টারের এমাথা থেকে ওমাথা ঘুরে প্রত্যেকটা আইটেম দেখলাম রামিন আর আমি। কি করবো। টাইম পার করতে হবেতো। আবারো বাইরে গিয়ে বাপ বেটা মূজের মুর্তির সংগে ছবি তুললাম। প্রায় দেড় ঘন্টা কেটে গেল। শহীদুলকে ফোন দিলাম। বললো আমরাতো হোটেলে চলে এসেছি। মেজাজটা ভীষণ খারাপ হলো। বললাম, “ব্যাটা তাইলে আমগোরে দুই ঘন্টা বহাইয়া রাখলি ক্যান? ফাজিল একটা”।

ফোন কেটে দ্রুত বেরিয়ে পডলাম। হোটল পর্যন্ত যেতে আধা ঘন্টা লাগলো। লবিতে ওরা ওপেক্ষা করছিল। অপেক্ষা না করে অবশ্য উপায় ছিল না। হোটেলের বুকিং আমার নামে। জিনিষপত্র নামিয়ে চেক ইন করলাম। ক্ল্যারিওন হোটেলটি ৬ বা ৭ তলা। আমাদের রুম ৫ তলায়। দুইটা পাশাপাশি। দর্পন আর শহীদুলের রুম ৪ তলায়। আগেই সিদ্ধান্ত ছিল সাইট সিইং করার। দ্রুত ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে পডলাম। কোথায় যাবো? শহীদুল হোটেলের লবি থেকে একটা ম্যাপ নিল। এখানকার অর্থাৎ পোর্টল্যান্ডের ১ নম্বর ট্যুরিস্ট এ্যাট্রাকশন লাইট হাউস। জিপিএসে ঠিকানা ঠুকে বেরিয়ে পড়লাম।

লাইট হাউসে ঘন্টাখানেক খুব ভালো কাটল। মেইন রাজ্যের ঐতিহসিক এই লাইট হাউজের নাম ‘পোর্টল্যান্ড হেডলাইট’। গাল্ফ অব মেইনের ক্যাস্কো-বে’র পোর্টল্যান্ড হারবরে ১৭৯১ সালে প্রথম এই লাইটহাউজ নির্মিত হয়। প্রায় আড়াইশ বছর আগে নির্মিত হলেও সেখানে স্থাপিত সুউচ্চ টাওয়ার, আলোক সংকেত সাইরেন প্রথম থেকেই সবই ছিল স্বয়ংক্রিয়। ফোর্ট উইলিয়াম পার্কের পাশে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হেডলাইটের একপাশে অথৈ সাগর আর স্থলভাগে সবুজের সমারোহ। কি অসাধারণ সুন্দর স্থানটি।