ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

১৭৭৮ সালে জর্জ ওয়াশিংটনের আমলে হেডলাইটের নির্মান কাজ শুরু হয় আর শেষ হয় ১৭৯১ সালে। ১৭৮৭ সাল। মেইন তখনো ম্যাসাচুসেটসের অংশ। জর্জ ওয়াশিংটন পোর্টল্যান্ড শহর থেকে জনাথন ব্রায়ান্ট ও জন নিকোলস নামের দুই কর্মকর্তা নিয়োগ করলেন লাইটহাউজ নির্মানের দায়িত্ব দিয়ে। ১৫০০ ডলার বরাদ্দ করা হলো নির্মান খরচ বাবদ। ১৭৯১ সালের জানুয়ারীতে নির্মান শেষ হয় ৫৮ ফুট উচ্চতার লাইটহাউসটি।

দূরের বস্তু ভালো করে দেখার সুবিধার্থে পরে তা আরো ২০ ফুট বাড়ানো হয়। বর্তমানে এর উচ্চতা মাটি থেকে ৮০ ফুট আর সমুদ্রের পানি থেকে ১০১ ফুট। ৪০০ ওয়াটের বাতি ফেলে এখান থেকে ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরের বস্তু দেখা যায়। ১৯৭৩ সাল থেকে এই লাইটহাউসকে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসাবে নিবন্ধিত করা হয়।

12037946_10207432937880634_6751070646550481210_n

এই লাইট হাউসের তলে বসে দিনের পর দিন অসংখ্য কবিতা লিখছেন বিশ্ববিখ্যাত কবি হেনরী ওয়ার্ডসওয়ার্থ লংফেলো। বাংলাদেশের এক কবি (দর্পন কবীর) আর এক ছড়াকার (এই অধম ফকির সেলিম) এখানে বসে ছবি তোলেন। বাংলাদেশের ইস্কুলের ইংরেজী পাঠ্যবইতে হেনরী ওয়ার্ডসওয়ার্থ লংফেলোর কবিতা “দা এ্যারো এ্যান্ড দা সং” বোধকরি সকলের মনে আছে। মনে করিয়ে দেই:

I shot an arrow into the air,
It fell to earth, I knew not where;
For, so swiftly it flew, the sight
Could not follow it in its flight.

I breathed a song into the air,
It fell to earth, I knew not where;
For who has sight so keen and strong,
That it can follow the flight of song?

Long, long afterward, in an oak
I found the arrow, still unbroke;
And the song, from beginning to end,
I found again in the heart of a friend.

 

12006248_10207432937960636_7503139849822301749_n

হেনরী ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলোর কবিতা ’দি এ্যারো এ্যান্ড দি সং’ কবিতাটি ছড়ার ছন্দে অনুবাদ করেছি:

একদা এক তীর ছুড়েছি আকাশপানে, বাতাসে
পড়েছে তা ধরায় কোথাও জানিনাযে কোথা সে?
ঘুরে ঘুরে উড়েউড়ে বাতাসেতে বিলীন সে তীর
পলকের ঝলকে না পড়ে, তাই প্রান অস্থির।

বাতাসের বেগ চিরে, ধীরে ধীরে গাই এক গান
পৃথিবীর কোন পাশে জানিনা সে গান ভাসে; পেতে রাখি কান
কার মনে অনুক্ষনে ভরে ওঠে, শক্তি ও ধন
কেবা পারে গানখানি গেথে মালা ভরে তার মন?

বহুকাল পর মোর, সেই ছোড়া তীরে
দেখা মেলে কোনো এক ওক গাছ চিরে
আর সেই সুর গানে আপ্লুত কোন প্রানে
বন্ধুর মনে প্রানে কিযে ঘনো দাগ টানে
খুঁজে পাই বুঝে পাই সেই তীর গান
অক্ষত আপ্লুত কিযে এক অপরূপ তান।

 

12038033_10207432947680879_4996921523607543026_n

পোর্টল্যান্ড হেডলাইটের গোডায় ছোট ছোট টিলার সমাহারে ৯০ একর যায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ফোর্ট উইলিয়াম পার্ক। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দুর্গ থেকে অসামান্য বীরত্ব ও কৃতিত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী।

এই পার্কের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হচ্ছে গোড্ডার্ড ম্যানসন। এটি নির্মানে সময় লাগে ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৯ সাল পর্যন্ত । আমেরিকার গৃহযুদ্ধকালীন সময়ে কর্নল গোড্ডার্ড এটি নির্মান করেন। ১৯০০ সালে ফেডারেল সরকার এর দখল নেয়ার পর থেকে সেনা কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার হিসাবে এটি ব্যাবহৃত হয়।