ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

লাঞ্চের সময় প্রতি শনিবার আমরা নানা বিষয়ে গল্প করি। অধিবেশন শেষে সাড়ে বারোটার দিকে খেতে বসলাম। সিএনএনএ কষে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার খবর। কান ঝালাপালা হবার মতো। আমরাও শুরু করলাম লাঞ্চ আলোচনা। এবার একটা পরিবর্তনের আভাস মনে হচ্ছে। এই দেশেরতো প্রায় সাড়ে তিনশ বছর হয়ে গেল। নিরেট বুর্জোয়া অর্থনীতির একটু সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছে মানুষ।
এর আগে বারাক ওবাম প্রসিডেন্ট হওয়া সেই সংস্কারেরর সামান্য আভাস ছিল। নইলে দেশের জনসংখ্যার মাত্র ১৩-১৪ শতাংশ যে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়, তাদের একজন লোককে প্রসিডেন্ট বানালো আমেরিকানরা; এতো বিশ্বাস করাই কঠিন। তাছাড়া তিনিতো এই বুর্জোয়া দর্শনের মানুষ না। তবুও তাকে প্রসিডেন্ট বানালো আমেরকানরা। কেনো? সংস্কারের লক্ষ্যে। এ ধরণের সংস্কার মানব সমাজের প্রচলিত বিষয়। এটি বিপ্লব নয়। ধীরে ধীরে সমাজ ব্যাস্থার মানানসই পরিবর্তন।
ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সকে সবাই জানে সমাজতান্ত্রিক দর্শনে বিশ্বাসী। তাকে লুফে নিয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। ১৯ থেকে ২৯ বয়সী তরুণ আমেরিকানরাই বার্নি স্যান্ডার্সের শক্ত সমর্থক ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তাঁর। প্রার্থী হলেন ইতিহাস সৃষ্টি করে একজন নারী। হিলারী ক্লিনটন। এখন নির্বাচনের দুই দিন আগে শুরু হয়েছে নানামুখী নাটক।
রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পও সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। রাজনীতিক নন; কিন্তু ঐতিহ্যবাহী দল রিপাবলিকানের প্রার্থী হলেন। তারা বানালেন তাকে। তারা মানে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষনশীল মানষিকতার মানুষেরা। তার কর্ম চরিত্র পেশা সবকিছু নিয়ে নানা সমালোচনার পরও তাকে তারা প্রার্থী বানালেন। এখন জাতীয় জরিপে তিনি হিলারীর কাছাকাছি। টান টান উত্তেজনা নিয়ে বিশ্ববাসীর অপেক্ষা ৮ই নভেম্বর নির্বাচন দিবসের দিকে। দেখা যাক এবার বিপ্লব না সংস্কার কোনটা হয়।