ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন – “ যে ব্যক্তি স্বপ্ন যোগে আমাকে দেখবে সে যথার্থই আমাকে দেখবে। কারণ শয়তান আমার চেহারা ধারণ করতে সক্ষম নয়। ( মেশকাত শরীফ )।

আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন – “ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে
সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখবে। ( মুসলিম শরীফ )।
প্রাচীন সীরাত গ্রন্থ সমূহে এ জাতীয় অনেক ঘটনা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মদীনা পাবলিকেশন্স, ৩৮/২ বাংলাবাজার, ঢাকা প্রকাশিত মাওলানা মহিউদ্দীন খান কর্তৃক প্রকাশিত – “স্বপ্নযোগে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বই টিতে এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে।
আমি সেখান থেকে কিছু ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ধারাবাহিক ভাবে ইনশাল্লাহ।

ঘটনা ১:
আব্দুর রহীম ইবনে আব্দুর রহমান নামক এক বুযুর্গ বর্ণনা করেন- “ একবার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে হাতে মারাত্মক ব্যাথা পাই এবং হাত ফুলে যায়। রাতের বেলায় ব্যাথা এত বেড়ে যায় যে, সমগ্র রাত ছটফট করে কাটিয়ে দিই। শেষরাতের দিকে চোখ একটু বন্ধ হয়ে গেলে স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাতলাভ করে আরজ করিঃ “ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এক্সময় আপনি বলেছিলেন যে, তুমি এত বেশি দুরুদ পাঠ কর যে, এক এক সময় তোমার দুরুদ আমাকে বিচলিত করে তোলে”।
এতটুকু বলার সাথে সাথে আমার চোখ খুলে গেল এবং আশ্চর্যান্বিত হয়ে লক্ষ্য করি যে, হাতের ফুলা ও বেদনা উভয়ই দূর হয়ে গেছে।

ঘটনা ২ :
অষ্টম শতাব্দীর তিনজন বিশিষ্ট মোহাদ্দেস মুহাম্মাদ ইবনে নসর মারওয়াযী, মুহাম্মাদ ইবনে জারীর এবং মুহাম্মাদ ইবনে মানযার যৌথভাবে হাদীস লিপিবদ্ধ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। সংসারবিমুখ এ তিন সাধকের কারও নিকট কোন খাবার ছিল না। খাবারের ব্যবস্থা কে করবেন এ ব্যাপারে লটারির মাধ্যমে একজনের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হলো। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত সে ব্যক্তি নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং একটানা নামায পড়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করতে লাগলেন।
সময়টা ছিল দ্বিপ্রহর। মিসরের শাসন কর্তা দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রাম নিতেছিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখলেন : রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নির্দেশ দিচ্ছেন, হাদীসের খাদেম সে তিন ব্যক্তির নিকট খাবার নেই, ব্যবস্থা করো। স্বপ্নের মধ্যে এদের অবস্থানস্থলও বলে দেওয়া হলো।
চোখ খোলার সাথে সাথে শাসনকর্তা দ্রুত ১০০০ স্বর্ণমুদ্রা সে তিন সাধকের নিকট পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন।