ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন – “ যে ব্যক্তি স্বপ্ন যোগে আমাকে দেখবে সে যথার্থই আমাকে দেখবে। কারণ শয়তান আমার চেহারা ধারণ করতে সক্ষম নয়। ( মেশকাত শরীফ )।
আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন – “ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে
সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখবে। ( মুসলিম শরীফ )।

প্রাচীন সীরাত গ্রন্থ সমূহে এ জাতীয় অনেক হৃদয়গ্রাহী ঘটনা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মদীনা পাবলিকেশন্স, ৩৮/২ বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাওলানা মহিউদ্দীন খান কর্তৃক সম্পাদিত – “স্বপ্নযোগে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বই টিতে এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে।
আমি সেখান থেকে কিছু ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ধারাবাহিক ভাবে ইনশাল্লাহ।

ঘটনা ৩:
ইমাম আবুল হাসান আশআরী ( রাঃ ) ছিলেন আহলে সুন্নাতুল জামাতের একজন স্মরণীয় দার্শনিক। প্রথম জীবনে তিনি মোতাযেলা মতবাদের অনুসারী ছিলেন। এরা যুক্তি কে হাদিসের উপর স্থান দিত। ইমাম আশআরী বর্ণনা করেন,- “ এক রমযানের মাসের প্রথম দশকে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বলছেন- “ আমার হাদীস সমর্থন কর কারণ এগুলি সত্য।’’ এ স্বপ্ন দেখার পর আমি দ্বিধা দ্বন্দে পতিত হয়ে গেলাম। এমতাবস্থায় রমযানের ২য় দশকে পুনরায় স্বপ্নে দেখলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাস করছেন আমি তোমাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম, তার কি করলে ? আমি বললাম,- “ ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমি সনদ পরীক্ষা করে হাদীস গ্রহন করি এবং এসব হাদীস কে যুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে দার্শনিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি ’’- আমার এ কথা শুনার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার বললেন,- আমার হাদীস গুলোকে সমর্থন কর কারণ এগুলি যথার্থ।’’ এ স্বপ্ন দেখার পর আমি একটু চিন্তাগ্রস্থ অবস্থায় জাগ্রত হলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম যে, দার্শনিক চিন্তাধারা একেবারেই ত্যাগ করবো।
প্রতি রমযানের ২৭ তারিখে আমি বসরায় আলেমগনের একটি বিশেষ মজলিসের আয়োজন করতাম এবং তাতে সকলে মিলে সমগ্র কোরানের পাঠ শোনা হতো।
এবারকার ২৭ রাত্রিতে আমি ঘরে এসে শুয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ এনেছেন এবং সে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাস করছেন। আমি জবাবে বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি দার্শনিক চিন্তা ত্যাগ করে এখন শুধুমাত্র কোরান- হাদীস পাঠ করছি।
জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,- “ আমি তোমাকে দর্শনচর্চা পরিত্যাগ করতে বলিনি। শুধু বলেছিলাম,- আমার হাদীস সমর্থন করবে।
এরপর থেকে আমি যুক্তি বুদ্ধির উপর নবী-করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস কে প্রাধান্য দিতে শুরু করি। প্রতিটি হাদীসের সমর্থনেই আমি এমনসব যুক্তির অবতারণা করতে শুরু করি, যা আমার নিজের মাথায়ও আগে কখনো আসতো না। প্রতিপক্ষের লোকেরাও আমার যুক্তি শুনে নির্বাক হয়ে যেতো ! আমি অনুভব করলাম, নবী-করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ বাস্তবায়নের ফলেই আল্লাহ পাক আমার মুখে এসব অচিন্তনীয় যুক্তি তুলে দিচ্ছেন।