ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন – “ যে ব্যক্তি স্বপ্ন যোগে আমাকে দেখবে সে যথার্থই আমাকে দেখবে। কারণ শয়তান আমার চেহারা ধারণ করতে সক্ষম নয়। ( মেশকাত শরীফ )।
আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন – “ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে
সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখবে। ( মুসলিম শরীফ )।
প্রাচীন সীরাত গ্রন্থ সমূহে এ জাতীয় অনেক হৃদয়গ্রাহী ঘটনা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মদীনা পাবলিকেশন্স, ৩৮/২ বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাওলানা মহিউদ্দীন খান কর্তৃক সম্পাদিত – “স্বপ্নযোগে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বই টিতে এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে।
আমি সেখান থেকে কিছু ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ধারাবাহিক ভাবে ইনশাল্লাহ।

ঘটনাটিঃ
ভারতের যুক্ত প্রদেশে সৈয়দ ওয়ারেছ আলী শাহ নামে একজন বিশিস্ট বুযুর্গ ছিলেন। তার অনুসারীগণ “ ওয়ারেছি ” নামে পরিচিত হন। শত বছর বয়সে ১৩২৩ হিজরী সিনের ৩০ শে মুহররম তারিখে দীবা শরীফে তার ইন্তেকাল হয়।

হযরত ওয়ারেছ আলী শাহ একাধারে রোযা রাখতেন। কোন কোন সময় দুই তিন দিনেও একবার ইফতার করতেন।
একবার তিনি হজ্বে রওয়ানা হলেন। সঙ্গে পথ খরছ কিছুই ছিল না। জাহাজে রোযা অবস্থায় তিন দিন চলে গেল, কিন্তু ইফতার করার মত কিছুই সংগ্রহ হলো না।
একই জাহাজে মোম্বাই এর বিখ্যাত ধনী ব্যবসায়ী শেঠ জিয়াউদ্দিনও যাচ্ছিলেন। এক রাতে তিনি স্বপ্ন দেখেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলছেন- “ জিয়াউদ্দিন! নিজে দিব্যি খাওয়া-দাওয়া করছো, আশপাশের অন্য লোকেরা কি অবস্থায় আছে, সে খোজ- খবর লও না ?
এ স্বপ্ন দেখে শেঠ সাহেব বিচলিত হয়ে পড়লেন। মনে মনে ভাবলেন, নিশ্চয়ই এই জাহাজে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কোন একজন বিশিস্ট বান্দা রয়েছেন, যার খাবারের কষ্ট লক্ষ্য করেই স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জাহাজের সকল ব্যক্তি সম্পর্কে খোজ খবর নিতে বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিল যে, সেই বুযুর্গ কে তিনি চিহ্নিত করবেন কি করে ? অগত্যা জাহাজের সকল যাত্রীকেই তিনি দাওয়াত করলেন। সবার খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর শেঠ সাহেব স্বয়ং খবর নিতে বের হলেন যে, কেউ খাবার থেকে বাদ পড়ে গেল কিনা ? গিয়ে দেখলেন, জাহাজের একেবারে নিম্নদেশে এক অন্ধকার স্থানে আল্লাহর এক বান্দা গভীর ধ্যানে নিমগ্ন অবস্থায় বসে রয়েছেন। শেঠ সাহেবের তখন বুঝতে বাকি থাকলো না যে, কার জন্য মমতায় বিগলিত হয়ে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এ নির্দেশ জারি করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে একটি একটি খাঞ্জায় করে খাবার এনে ধ্যানমগ্ন এ দরবেশের সামনে ধরলেন এবং কিছু খাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে লাগলেন। এই মহান দরবেশই ছিলেন হযরত সৈয়দ ওয়ারেছ আলী শাহ।