ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ব্যতিক্রমের প্রতি আকর্ষন মানুষের স্বভাবজাত, অন্যদিকে অলৌকিকত্বের প্রভাব আমাদের লৌকিক জীবনে সুদূর প্রসারী। আরবী মু’জেযা শব্দের অর্থ আসাধারন বিষয়, অলৌকিকত্ব।
রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অসংখ্য মু’জেযার মধ্যে প্রকাশ্য মু’জেযার সংখ্যা দশ হাজারেরও অধিক।

ব্যাখ্যাকারীগন প্রিয় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মু’জেযা গুলো কে তিন ভাগে বিভক্ত করে আলোচনা করেছেন। প্রথমতঃ যা তাঁর দেহ হতে বহির্ভূত। যথা- চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া, বৃক্ষ নিকটে আসা, ঊট ও হরিনের অভিযোগ ইত্যাদি। দ্বিতীয়তঃ যা তাঁর দেহ সম্পৃক্ত যথা- ‘মহরে নবুওয়াত’ যা হলো দু; কাধের মাঝখানে আল্লাহর রাসূল মোহাম্মাদ শব্দটি লেখা ছিল মৃত্যুর আগে পর্যন্ত। তৃতীয়তঃ তাঁর নৈতিক ও চারিত্রিক গুনাবলী যথা- নির্ভিক, অকুতোভয়, দানশীলতা, সত্য ভাষন, দুনিয়া বিমুখ ইত্যাদি। আল কোরানের সুরা ক্বামারে রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আংগুল দ্বারা চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার কথা বলা আছে। বদর যুদ্ধের আগের দিন বদর নামক স্থানে পৌঁছে রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন ‘ এটা আমুকের শাহাদাতের স্থান, এটা অমুকের (কাফেরের) হত্যার স্থান… সাহাবী (রাঃ)রা বলেন ‘রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যার জন্য যে স্থান দেখিয়েছেন, তার সামান্য এদিক সেদিক হয়নি।’ (মুসলিম) বিভিন্ন যুদ্ধে আকাশের ফেরেশতাগন অংশগ্রহন করতো। যা আল্লাহর সাহায্য ও রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মু’জেযার প্রমান। হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন- ‘ ওহুদের যুদ্ধের দিন আমি রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ডানে বামে সাদা পোষাকের দু জন কে (জিব্রাইল, মিকাইল) দেখলাম যাদের কে আর কোন দিন দেখেনি। (বুখারী, মুসলিম) সাহাবীর ভাংগা পা রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্পর্শে ভালো হওয়া আরো একটি মু’জেযা। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক (রাঃ) এর পা ভেংগে গেলে তিনি তা রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জানালে রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পায়ের উপর হাত বুলালেন। সাহাবী বলেন- ‘ এতে আমার পা এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলো যেন তাতে আমি কখনো আখাতই পাইনি। (বুখারী) স্বল্প খাদ্যে হাজার মানুষের পরিতৃপ্ত ভোজন হওয়া প্রিয়নবী রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উল্লেখযোগ্য মু’জেযা। এরুপ বহু ঘটনা বহু সাহাবী বর্ণনা করেছেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সকল সাহাবীগন ক্ষুধায় অস্থির ও দুর্বল হয়ে পরেছিলেন তখন জাবের (রাঃ) একটি বকরীর বাচ্চা জবাই করলেন আর এক সা পরিমান জবের রুটি তৈরি করলেন আর তা দিয়েই সবাই তৃপ্তিতে খেলেন। সাহাবী জাবের (রাঃ) আল্লাহর শপথ করে বলেন- ‘সকলে তৃপ্তি সহকারে খেয়ে চলে যাওয়ার পরও চুলায় গোশত ভর্তি ডেকচি ফুটছিল এবং রুটি হচ্ছিল।’(বুখারী, মুসলিম)

সামান্য পানিতে সবার প্রয়োজন পূরন হওয়ার মত ঘটনাকে প্রিয়নবী রাসুলুল্লাহ! সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মু’জেযা ছাড়া আর কি বলা যায় ? জাবির রাঃ এর বর্ণনায় র‌যেছে, হুদাইবিয়ার দিন একটি চামড়ার পাত্রে সামান্য পানি ছিল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে হাত রাখলেন আর সাথে সাথে তাঁর আংগুলের ফাঁক থেকে ঝর্ণার মত পানি বের হতে লাগলো। জাবির (রা) বলেন, ‘ আমরা ঐ পানি পান করলাম, তা দিয়ে অযু করলাম। জিজ্জাস করা হল, সংখ্যায় আপনারা কতজন ছিলেন? জাবির (রা.) বললেন, এক লাখ হলেও ঐ পানিই যথেষ্ট ছিল আর আমরা ছিলাম পনেরো শত! (বুখারী, মুসলিম)

তথ্যসুত্রঃ মাসিক মদিনা, ফেব্রুয়ারী, ২০১১,পৃষ্টা ৪৬।