ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মরিয়ম আলাইহিসসাল্লাম যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হন তখন উনার কাছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার দূত অর্থ্যাৎ ফেরেশতা আসেন। আল-কোরানে পুরো ঘটনাটি খুব সুন্দর ভাবে উল্লেখ আছে। “ এমতাবস্থায় আমি মরিয়মের নিকট নিজের রুহ (অর্থ্যাৎ ফেরেশতাকে ) পাঠালাম, আর সে তার সামনে এক পূর্ণাঙ্গ মানুষের আকারে আত্মপ্রকাশ করলো। ” সূরা মরিয়ম-১৭ )
-“ এ দেখে মরিয়ম বলে উঠলোঃ আমি তোমার হতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তুমি যদি সত্যই কোন খোদা ভীরু ব্যক্তি হয়ে থাকো। ” ( সূরা মরিয়ম-১৮ )
-“ আমিতো তোমার খোদার প্রেরিত ফেরেশতা, আমি এইজন্যই প্রেরিত হয়েছি যে, তোমাকে এক পবিত্র ছেলে দান করবো। ” সূরা মরিয়ম-১৯ )
-“ মরিয়ম বললোঃ আমার ছেলে হবে কি করে ? অথচ আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ পর্যন্ত করেনি। আর আমি কোন চরিত্রহীনা নই। ” ( সূরা মরিয়ম-২০ )
-“ ফেরেশতা বললোঃ এই ভাবেই হবে। তোমার রব বলিয়াছেন ইহা আমার পক্ষে সহজ, আর এইভাবে সৃস্টি এই জন্য করিব, যেন তাঁহাকে মানুষের জন্য একটা নিদর্শন করে দেই এবং নিজের তরফ থেকে এক রহমত বানাবো। এ কাজ অবশ্যই হবে। ” ( সূরা মরিয়ম-২০ )

অর্থ্যাৎ কোন পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই তোমার সন্তান হবে। সেটা কিভাবে হবে এটা আল-কোরানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেনঃ -“ আর সেই মহিলা, মরিয়মের কথা আলোচনা করুন, যে নিজের সতীত্বের মর্যাদা রক্ষা করেছিল, আমি তার গর্ভে স্বীয় রুহ ( আমার নির্দেশ ) ফুকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার ছেলেকে জগৎবাসীর জন্য এক বিরাট নিদর্শন বানিয়েছিলাম। ” ( সূরা আম্বিয়া-৯১ )

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাঁর স্বীয় কুদরতী শক্তি দ্বারা ফেরেশ্তার ফুঁক দেওয়ায় মরিয়ম আলাইহিসসাল্লাম গর্ভধারন করেন। এ গর্ভধারণের পর তার অবস্থা কি হলো সে সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন- “ অতঃপর যখন সন্তানের গর্ভসঞ্চার হলো, তৎপর তিনি দূরবর্তী কোন নির্জন স্থানে চলিয়া গেলেন। অনন্তর প্রসব বেদনার দরুন খেজুর বৃক্ষের দিকে অগ্রসর হলেন, বলিতে লাগিলেন, হায়! ইহার পূর্বেই যদি আমি মরিয়া যাইতাম, এবং এইরুপ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতাম যে, কাহারও আমার নাম স্মরন না থাকতো। ” ( সূরা মরিয়ম-২২ )
আল-কোরানে উল্লেখিত দূরবর্তী স্থান বুঝাতে ফিলিস্তিনের বায়তুল লাহাম নামক জায়গা টি বুঝানো হয়েছে। মূলত মরিয়ম আলাইহিসসাল্লাম লোক লজ্জার ভয়ে এই কথা গুলি বলেছিলেন। কারন উনি কুমারী অবস্থায় গর্ভধারন করেছেন। আর উনার পিতা ছিলেন বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদের সম্মানিত ইমাম। আর তাছাড়া সন্তান জন্ম দানের পর তার ভরন পোষনের ব্যাপারেও দুশ্চিন্তা গ্রস্থ ছিলেন।
এর পরের অবস্থা সম্পর্কে আল-কোরানে বলা হয়েছেঃ –“ পরক্ষনে ফেরেশতা সে গাছের পাদদেশ থেকে তাঁকে ডেকে বললোঃ চিন্তা করোনা, আপনার রব আপনার নিম্নস্থান থেকে একটি নহর/ঝর্ণা সৃস্টি করে দিয়েছে। আর ঐ খেজুর গাছ টি ধরে নাড়া দাও, তোমার উপর তাজা তাজা খেজুর ঝরে পড়বে। অতঃপর আপনি খান ও পান করুন এবং চক্ষু জুরান। অনন্তর আপনি লোকদের মধ্যে কাউকে দেখলে ইশারায় বলে দিন, আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে রোযা মানত করেছি, অতএব আজ কাহারও সঙ্গে কথা বলিবো না। অতঃপর সে তাহার সন্তানকে কোলে করিয়া স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট আনলো; লোকেরা বলিল, হে মরিয়ম! তুমি গুরুতর কাজ করিয়াছ, হে হারুনের ভগ্নী ! তোমার পিতা কোন খারাপ লোক ছিল না, আর তোমার মাতাও অসতী ছিলেন না। তখন মরিয়ম শিশুর দিকে ইঙ্গিত করিল, তাহারা বলিল, আমরা এমন ব্যক্তির সঙ্গে কিরূপে কথা বলিব-যে এখনও কোলের শিশু ? ঐ শিশু বলিয়া উঠিল, আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, এবং আমাকে নবী করিয়াছেন, আর তিনি আমাকে করিয়াছেন বরকতময়, আমি যেইখানেই থাকি না কেন, আর তিনি আমাকে নামায ও যাকাতের আদেশ করেছেন, যেই পর্যন্ত আমি জীবিত থাকি, আর আমাকে আমার মাতার সেবক করেছেন, এবং তিনি আমাকে অবাধ্য ও বদখত বানান নাই ” ( সূরা মরিয়ম, ২৪-৩১ )
স্তন্যপায়ী শিশু হযরত ঈসা আলাইহিসসাল্লাম এর জন্মের পরেই মাতার পবিত্রতার ব্যাপারে সাক্ষী দেওয়ার ঘটনাটি খোদ আল-কোরানেই চমৎকার ভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। আল-কোরানে হযরত মরিয়ম আলাইহিসসাল্লাম এর ব্যাপারে এতটুকুই বলা আছে। তবে সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে যে হযরত মরিয়ম আলাইহিসসাল্লাম হযরত ঈসা আলাইহিসসাল্লাম এর দুনিয়াতে অবস্থান কালেই মৃত্যুবরণ করেন।