ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ইসলামের অভ্যুদয়ের পূর্ববর্তী পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় পৃথিবীর প্রত্যেক প্রান্তের নারী বহু সংখ্যক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। নারীর না ছিল উত্তরাধিকার, না ছিল স্বামীর কাছে কোন অধিকার, না ছিল বিয়ে ও তালাকের উপর নিজের কোন অধিকার। আরব সমাজের পুরুষেরা লোক লজ্জার ভয়ে কন্যা সন্তান কে জীবন্ত অবস্থায় মাটিতে পুতে ফেলত। কোরানেও এ ব্যাপারে বলা হয়েছেঃ ‘‘ যখন মাটিতে প্রোথিত মেয়ে শিশু কে জিজ্ঞাস করা হবে যে, কি কারনে তাকে হত্যা করা হবে?’’ ( সূরা আত তাকভীর, আয়াত-৯)

ইসলামী ধর্মমতে নারীরা ইবাদত থেকে শুরু করে উত্তরাধিকার, বিয়ে, অর্থ উপার্জন, তালাক ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যায় অধিকার ভোগ করবে।আল কোরানে একটি সূরার নাম হলো নিসা যার অর্থ হলো স্ত্রী জাতি।

ইবাদতের ক্ষেত্রেঃ
আল কোরানে ইবাদতের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমমর্যাদা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেনঃ “ নিশ্চয় মুসলিম নারী ও পুরুষ, মুমিন নারী ও পুরুষ,
বিনয়ী নারী ও পুরুষ, প্রার্থনাকারী নারী ও পুরুষ, ধৈর্যধারী নারী ও পুরুষ, সত্যবাদী নারী ও পুরুষ, সদকা প্রদানকারী নারী ও পুরুষ, রোযাদার নারী ও পুরুষ, আল্লাহকে ষ্মরনকারী নারী ও পুরুষ- এদের সকলের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার নির্ধারন করে রেখেছেন। ( সূরা আল-আহযাব, আয়াত-৩৫)

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেঃ আল কোরানের সূরা নিসার ৬, ১০-১২ ও ১৭৫ আয়াতে নারীর উত্তরাধিকারের ব্যাপারে সুস্পট ভাবে বলা হয়েছে। এই আয়াত অনুসারে (ক) কখনো নারীর অংশ পুরুষের অংশের সমান, যেমন একই মায়ের উদরে জণ্মগ্রহনকারী বৈপিত্রেয় বোনের সাথে যখন আর কেউ থাকেনা এবং অনুরুপ বৈপিত্রেয় ভাইয়ের সাথে যখন আর কেউ থাকেনা, তখন এই ভাই ও বোন উত্তরাধিকারের এক ষষ্ঠাংশ করে পাবে।

(খ) সাধারনভাবে ও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নারী পাবে পুরুষের অর্ধেক। তবে কখনো বেশিও পেতে পারে যেমন কোন ব্যক্তি এক কন্যা, এক স্ত্রী ও পিতামাতা রেখে মারা গেলে তার সম্পত্তির অর্ধেক পাবে কন্যা। সম্পত্তিকে মোট ২৪ ভাগে ভাগ করে ১২ ভাগ কন্যাকে দিয়ে বাকী ৩ ভাগ স্ত্রীকে, ৪ ভাগ মাতাকে এবং ৫ ভাগ পিতাকে দেয়া হবে।

পারিবারিক ক্ষেত্রেঃ
ইসলামী বিধানমতে সংসার জীবনে পুরুষের অপর যে ধরনের ও যতখানি আর্থিক দায়দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়, নারীর উপর তেমন ন্যস্ত করা হয় না। পুরুষই স্ত্রীকে মোহরানা দিয়ে থাকে এবং পরিবারের বাসস্থান বাবদ এবং স্ত্রী ও সন্তানদের খোরপোশ বাবদ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করে থাকে।

পক্ষান্তরে নারী মোহরানা গ্রহন করে থাকে। সে ধনী হলেও নিজের জন্য ও নিজের সন্তানের জন্য এক পয়সা ব্যয় করতে বাধ্য নয়। একারনেই উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে তার অংশ পুরুষের চেয়ে কম হওয়া ন্যায়সংগত।