ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আরজ আলী মাতব্বরের কথা হয়ত আপনারা সবাই শুনেছেন। নাস্তিকদের খুব প্রিয় ব্যক্তি হচ্ছেন উনি। উনি উনার বইয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করেছেন। উনি প্রশ্ন করেছেন যে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা যদি একজনই হন, তাহলে পৃথিবীতে এত ধর্ম কেন ? চারিদিকে এত ধর্মের ছড়াছড়ি কেন ? আল-কোরানে অনেক নবীর কথা বলা হয়েছে, যেমন ঈসা আলাইহিসসাল্লাম, মূসা আলাইহিসসাল্লাম, দাউদ আলাইহিসসাল্লাম, উযাইর আলাইহিসসাল্লাম প্রভৃতি। এদের মাঝে খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবর্তক হলেন যিশু খ্রিষ্ট যাকে আমরা হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম হিসাবে বলি। যিশু খ্রিষ্ট কে খ্রিষ্টানরা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার পুত্র হিসাবে সম্বোধন করে। হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এর মায়ের নাম মরিয়ম যাকে খ্রিষ্টানরা মাতা মেরী হিসাবে ডাকে। কোরানে মরিয়ম নামে একটি সূরা আছে। হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এর নানার নাম হচ্ছে ইমরান। আবার আল-ইমরান নামেও একটি সূরা আছে যেখানে হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম সম্পর্কে অনেক কথা আছে। আমরা হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে ১ জন রাসূল হিসাবে স্বীকার করি। ইহুদী ধর্মের প্রবর্তক হলেন মূসা আলাইহিস সাল্লাম যাকে আমরা ১ জন রাসূল হিসাবে মানি। ইহুদীরা হযরত উযাইর আলাইহিসসাল্লাম কে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার পুত্র হিসাবে সম্বোধন করে। আল-কোরানে বনী ইসরাঈল নামে এক টি সূরা আছে যেখানে ইহুদী সম্প্রদায় সম্পর্কে অনেক আলোচনা করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ ঈসা ও মূসা ও উযাইর আলাইহিসসাল্লাম এই ৩ জন কেই আল-কোরানে সম্মানিত রাসূল হিসাবে বলা হয়েছে। আল-কোরানে আরো বলা হয়েছে যে, ইঞ্জিল শরীফ যেটা বর্তমানে বাইবেল নামে পরিচিত সেখানেও শেষ নবী অর্থ্যাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আবির্ভাব সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা আছে। ইহুদীদের ধর্ম গ্রন্থ তাওরাত যেটাকে ইহুদীরা বলে তালমূদ আর খ্রিষ্টানরা বলে old Testament। সেখানেও শেষ নবী অর্থ্যাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আবির্ভাব সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়ের ইহুদী পন্ডিত রাও ব্যাপারটা স্বীকার করতো কিন্তু শেষ নবী বনী ইসরাঈল বংশে জন্ম গ্রহন না করার কারনে তারা হিংসার বশবর্তী হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে স্বীকার করেনি। আল-কোরানে সাবেঈন নামক একটি জাতির কথা বলা হয়েছে। অনেক মুসলিম তত্ববিদ বলেন এই সাবেঈন জাতিটাই হচ্ছেন প্রাচীন হিন্দু সমাজ। হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বেদ এর ৪ টি ভাগ, ঋকবেদ, অথর্ব বেদ, সামবেদ, যজুর্জ বেদ। বেদের অনেক জায়গায় একেশ্বরবাদের কথা রয়েছে। ডাক্তার জাকির নায়েক প্রমান করে দিয়েছেন যে বেদে কল্কির অবতার বলতে যাকে বুঝানো হয়েছে উনি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া আর কেঊ না। তাছাড়া বেদে অল্লোপনিষেদ নামে একটি অধ্যায় রয়েছে যেটার মূল ভাবার্থের সাথে আল-কোরানের সূরা ইখলাসের ভাবার্থের পুরা মিল পাওয়া যায়। সংস্কৃত ভাষায় আল্লাহ কে অল্লো বলা হয়। অর্থ্যাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি পৃথিবীর সব ধর্মই একেশ্বরবাদের কথা বলেছে। কখনোই শিরক অর্থ্যাৎ আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সাথে অংশীবাদ করতে বলে নাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আবির্ভাবের কথা পৃথিবীর সব ধর্মেই বলা হয়েছিল। অর্থ্যাৎ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কখনই এত ধর্ম তৈরি করেননি। মানুষ নিজেরাই শয়তানের চক্রান্তে পড়ে ধর্মকে বিকৃত করেছে। আল-কোরানের পাতায় পাতায় একেশ্বরবাদের আহবান করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মানুষ কে পৃথিবীর জীবনে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই পৃথিবীর এত ধর্ম থাকাটা কখনই আল্লাহ সুবহানাতায়ালার ব্যর্থতা নয়।