ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আমার পিতা ফেরদৌসুর রহমান গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মারা গেছেন। উনার লিভারে সমস্যা ছিল। উনার শোকে আমার হৃদয় ছিড়ে যাচ্ছে। আমার সারা শরীর যেন শোকে ছিদ্র ছিদ্র হয়ে যাচ্ছে। আমার পিতা আমাকে কিরকম ভালবাসত তা এই ঘটনা টা পড়লে বুঝবেন। আমার পিতা একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। উনি মৌলভীবাজার জেলার B.R.D.B. এর উপ- পরিচালক ( Deputy director/D.D ) ছিলেন। সরকারী গাড়ি ব্যবহার করে অফিসে যাতায়াত করতেন। আমি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালইয়ের পদার্থ বিঞ্জান বিভাগের ৪র্থ বর্ষে পড়ছি। রাজনৈতিক কারণে আমি ১ মাস চট্রগ্রাম কারাগারে ছিলাম। এই ১ মাসে আমার পিতা নিজে একা ৬ বার মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে চট্রগ্রামে ট্রেন যোগে আসা যাওয়া করতেন। আমি কোর্ট হাজতে জিজ্ঞাস করলাম একদিন, ট্রেনের টিকেট যদি না পাও তাহলে কিভাবে মৌলভীবাজারে যাবে। আমার পিতা আমাকে বললেন সমস্যা নাই, আমি স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে বগির একপাশে নিচে বসে চলে যাবো। আমার কোন সমস্যা হবে না। তখনো উনার শরীর অসুস্থ। সেই অসুস্থ শরীর নিয়ে কোথায় মৌলভীবাজার জেলা আর কোথায় চট্রগ্রাম যাতায়াত করেছেন শুধু আমাকে দেখার জন্য। কিন্তু উনি না আসলেও পারতেন কারণ আমার মামলা চালাচ্ছিল আমি যে রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত তারাই। কিন্তু কোর্ট Date এ উনি আমাকে দেখতে পারবেন না সেটা উনি সহ্য করতে পারতেন না। তাই এই ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে উনি অসুস্থ শরীর নিয়ে এসে পড়তেন। সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে উনি সবসময় জেলার D.C, উনার Department এর D.G (Director General) এদের সাথে উঠাবসা করতেন। শেখ হাসিনার সাথে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়েও দেখা করেছেন। আর এই ব্যক্তি শুধু আমার জন্য বগির নিচে বসে যাওয়া আসা করতে কোন আপত্তি ছিল না। আমাকে এরকম ভালবাসতেন। জীবনে আমার পক্ষে কোনদিন বিলাসিতা করা সম্ভব হবে না। পিতাকে হারানোর কষ্টের যন্ত্রণায় আমার সকল আনন্দ শেষ। এই দেশের ছেলেরা প্রেমে ব্যর্থ হলে আত্মহত্যা করে। তারা যদি বুঝতো পিতা হারানোর কষ্ট হাজার বার আত্মহত্যা করলেও মোচন হবে না। এর চেয়ে বড় কষ্ট পৃথিবীতে আর কিছু নাই।