ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আরজ আলী মাতুব্বর উনার সত্যের সন্ধানে বইটিতে হিল্লা বিয়ে সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। ইসলামে হিল্লা বিয়ে বলতে কিছু নেই। কারণ কোন স্বামী যদি তার স্ত্রীকে সাথে সাথে ৩ তালাক দিয়ে দেয় তাহলে সে তাকে কমপক্ষে ৮ মাসের আগে বিয়ে করতে পারবে না। ইসলামী শরীয়তে তালাক দেওয়ার নিয়ম হল ১ তালাক বলার পর ১ মাস অপেক্ষা করতে হবে। যদি এর মাঝেও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মিটমাট না হয় তবে আবার ১ তালাক বলে ১ মাস অপেক্ষা করতে হবে। ৩ তালাক কার্যকর হওয়ার পর ঐ স্ত্রীকে ৪ মাস ইদ্দত পালন করতে হবে। এই স্বাভাবিক তালাক পক্রিয়ায় ঐ স্ত্রী অন্য কোন পুরুষ লোক কে বিয়ে না করেই ৪ মাস ইদ্দত পালন শেষে আবার পূর্বের স্বামীকে বিয়ে করতে পারবে। এই ৪ মাস সে কোন পুরুষ লোক কে বিয়ে করতে পারবে না। কিন্তু ৩ তালাক যদি কোন স্বামী সাথে সাথে দিয়ে দেয় তাহলে ঐ স্ত্রীকে ৪ মাস ইদ্দত পালন শেষে নতুন করে আবার অন্য কোন পুরুষ কে বিয়ে করতে হবে। ঐ স্বামী আবার তাকে তালাক দিলে তাকে আরো ৪ মাস নতুন করে ইদ্দত পালন করতে হবে। অর্থ্যাৎ ৮ মাস ইদ্দত পালন করার পর ঐ স্ত্রী তার প্রথম স্বামীকে বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু তথাকথিত হিল্লা বিয়ে তে প্রথম স্বামী ৩ তালাক দেয়ার পর পর ঐ স্ত্রী সাথে সাথে ৪ মাস ইদ্দত পালন না করে আবার নতুন বিয়ে করে। তার নতুন স্বামী তাকে পরের দিন সকালে তালাক দিয়ে দেয়। বিয়ের ২ দিনের মাঝেই স্ত্রী তার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যায় অর্থ্যাৎ ৮ মাসের ইদ্দত পালন ২ দিনেই সমাপ্ত হয়ে যায় যেটা ইসলামী শরীয়ত অনুসারে পুরাপুরি হারাম। কোন হক্কানী আলেম এই হিল্লা বিয়ের সাথে জরিত থাকে না, দেখা যায় গ্রামের কিছু কাঠমোল্লা যারা শুদ্ধ করে কোরানই পড়তে জানে না তারাই এই তথাকথিত হিল্লা বিয়ের আয়োজন করে। কোন মাযহাবেই হিল্লা বিয়ে বলতে কিছু নেই। বিস্তারিত জানার জন্য আল-কোরানের সূরা তালাকের তাফসীর পড়তে পারেন।