ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

১. আব্বাসীয় খিলাফতের অন্যতম স্থপতি মুতাসিম বিল্লাহ এর সময়ে এক দরবেশ কে চুরির অপরাধে পুলিশ ভুল বশত গ্রেফতার করে। সেই রাতেই খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ স্বপ্নে দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নির্দেশ দিচ্ছে সেই দরবেশ কে এখুনি ছেড়ে দিতে। খলিফা স্বপ্নে দেখার সাথে সাথে খালি পায়ে, খালি মাথায় জেল খানায় প্রবেশ করে সাথে সাথে দরবেশ কে ছেড়ে দেন। খুব বিনয়ের সাথে দরবেশ কে জিজ্জাস করেন উনার কোন প্রয়োজন থাকলে তাকে বলতে। দরবেশ উত্তরে বলে- “হে আবু মুসলিম, যে ব্যক্তির এমন বন্ধু আছে যে তোমাকে অর্ধ রাত্রে জাগিয়ে এখানে নিয়ে আস্তে পারে, সে তার নিজের অভাব অভিযোগ তাকে না বলে তোমাকে কেন বলতে যাবে?” দরবেশের এই জবাব শুনে খলিফা কাঁদতে লাগলেন।

২. ভারত বর্ষের বিখ্যাত আলেম শায়খুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানি (রা:)
মসজিদে নব্বীতে হাদিস শিক্ষা দেবার সময়ে এক ছাত্র কে হায়াতুন নবী এই বিষয় টি কিছুতেই বুঝানো যাচ্ছিল না। ছাত্র টি বার বার প্রশ্ন করেই যাচ্ছিল। শেষে বিরক্ত হয়ে হুসাইন আহমদ মাদানি (রা:) ছাত্র টিকে বললেন মসজিদে নব্বীর পাশে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওজা শরীফের দিকে দৃষ্টি দিতে। ছাত্র টি সেদিকে তাকানোর সাথে সাথে দেখতে পেলো রওজা শরীফের গম্বুয, মিনার কিছুই নেই। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে আছেন। ছাত্র টি সে দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাইলে হযরত হুসাইন আহমদ মাদানি (রা:) তাকে নিষেধ করেন। এর কিছুক্ষন পরেই রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারা অদৃশ্য হয়ে যায়।

৩. ‘মানাহেজুল-হাসনাত’ গ্রন্থে ইবনে ফাকেহানীর কিতাবে ‘ ফজরে-মুনির’ থেকে বর্ণিত আছে যে, শায়খ সালেহ মূসা নামক একজন অন্ধ বুযুর্গ ছিলেন। তিনি তার নিজের এক টি ঘটনা বর্ণনা করেন যে, একবার এক জাহাজ নিমজ্জিত হতে থাকে, যাতে তিনিও ছিলেন। জাহাজের যাত্রীরা সবাই ভীতগ্রস্থ হয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। হঠাৎ শায়খ সালেহ মূসা (রাঃ) তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তন্দ্রা অবস্থায় তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নে দেখেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে একটি দুরুদ শিখিয়ে দিয়ে বললেনঃ জাহাজের আরোহীদের বলো, তারা যেন এই দুরুদ টি হাজার বার পড়ে। সেমতে জাহাজের আরোহীরা দুরুদ টি ৩০০ বার পড়তেই জাহাজ টি বিপদ মুক্ত হয়ে গেল। এই দুরুদটি কে ‘দুরুদে তুনাজ্জিনা’ বলা হয়। এই দুরুদ শরিফের বরকত অপরিসীম। এর দ্বারা সর্ব প্রকার মহামারী ও জ্বরা-ব্যাধি থেকে হেফাযত হয় এবং অন্তর অভূতপূর্ব প্রশান্তি লাভ করে। এটা বুযুর্গগণের পরীক্ষিত। এই দুরুদ শরিফ টি বাজারের যে কোন ভালো অযিফার বইয়ে পাওয়া যাবে।

এরকম আরো অনেক ঘটনা আপনারা এই বই থেকে পড়তে পারবেন- “স্বপ্নযোগে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”, লেখক মাওলানা মহিউদ্দীন খান, মদীনা পাবলিকেশন্স, ৩৮/২ বাংলাবাজার, ঢাকা।