ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

1525370_10153335002656328_8198079793130590259_n

আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ এখন সুপার কানেক্টিভিটিতে সংযুক্ত হতে চলেছে…
সমুদ্রজয়ী বা সীমান্তজয়ী আমরা…
যমুনা সেতু হয়েছে, পদ্মা সেতুও হচ্ছে…
ফ্লাইওভারে ভরে গেছে ঢাকার রাজপথ…
পোশাক রপ্তানীতে বিশ্বে দ্বিতীয় আমরা…
পদ্মাপারে শ্রমিকের ঘামনিশ্রিত বৈদেশিক রেমিটেন্সের অবাধ প্রবাহ এখন…
সারাবিশ্বে সমীহ জাগানিয়া ক্রিকেট সক্ষমতাও আমাদের আছে…
আমাদের রিজার্ভে এখন ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মজুদ…
বিশ্বে ৪৪তম বা ক্রয় সক্ষমতার দিক থেকে ৩৩তম অর্থনৈতিক শক্তি আমরাই…
আমরা মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাচ্ছি…
অস্ত্র আমদানি নয় রপ্তানিটাই আমাদের স্বপ্ন…
যুদ্ধবিমান বানানোর ঘোষণাও রয়েছে আমাদের…
নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থিক সক্ষমতা, গড় আয়ু, শিশু বা মাতৃমৃত্যুর হারসহ সকল সামাজিক বা মানবিক সূচকেও আমরা পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে…
আমাদের রয়েছে সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী যারা বিশ্বশান্তিতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে…
সেই আমরা কিনা মায়ানমারের সাথে দেশের সবচে’ ছোট সীমান্ত ১৯৩ কি:মি: পাহারা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি।

বছরের পর বছর ধরে জান্তা সরকারের নিগ্রহ প্রোডাক্ট হাজার হাজার রোহিঙ্গার বোঝা আমাদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে! যারা কিনা মুসলমান নামের দোহাই দিয়ে দেশের মৌলবাদী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে, তাদেরই উস্কানিতে হেন অপকর্ম নেই, যা না করে যাচ্ছে! তারপরও আমরা উদারনৈতিক রাষ্ট্র বলে দেশহীন বিশৃঙ্খল রোহিঙ্গারা আমাদের আদর যত্নে পুষ্ট হয়েই যাচ্ছে। আর এতে করে আমাদের সরলতা, মানবতা বা উদারতাকে দুর্বলতা ভেবে মায়ানমারের নিকৃষ্ট জান্তা সরকার বারবার উদোর পিন্ডি বুদোর ঘারে চাপানোর প্রয়াস পেয়েই যাচ্ছে। এখন ওদের বার এতো বেড়েছে যে, জেনেভা কনভেনশন বা আন্তর্জাতিক আইনের রীতিনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরো বাংলাদেশকেই সাতদিনধরে হাতকড়া পরিয়ে রাখছে। জান্তা সরকারের এতোটা ঔদ্ধত্য যে, আমাদের বিজিবি সদস্য রাজ্জাককে ধরে নিয়ে গিয়ে তাঁর সাথে চরম অমানবিকতা দেখিয়ে যাচ্ছে তারা। আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক বর্ডার গার্ড সদস্য রাজ্জাককে রীতিমতো চোর ছ্যাছড় ঠাওরে ভয়াল বন্দিত্বের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দু:সাহসও দেখিয়েছে শ্বাপদ জান্তারা।

আর আমাদের অফিসিয়ালরা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা চেয়ে চেয়ে দেখে যাচ্ছেন, আর যেনবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় বলে যাচ্ছেন, ওরাতো মিলিটারি জায়ান্ট কারো কথা শোনে না!

এখন ওই জায়ান্টদের বুদ্ধিতে ব্লাকমেলের মওকাও পেয়ে বসেছে! তারা এখন সোৎসাহে দাবি করছে, আমাদের অপহৃত বিজিবি সদস্য ফেরত পেতে হলে মায়ানমার উপকূলে উদ্ধার অবৈধ অভিবাস প্রত্যাশায় সাগর পাড়ি দেয়া ৫৫৫ জন মানুষকেও সাদর সম্ভাষণ জানাতে হবে; অথচ ওই মানুষেরা কিনা তাদেরই অত্যাচারিত প্রোডাক্ট আরাকানী রোহিঙ্গা।

এ যেন মামাবাড়ির আয়েশী আবদার আর কী! এ যেন বেয়াই বেয়াই ইয়ার্কি! মহামশকরার নিলাজ কৌতুক!

তবে যে, আমাদের সূচক পারদের এতো উর্ধ্বগতি, তার এখন কী হবে?
সেই উর্ধ্বগতিওয়ালা ইমার্জিং টাইগারদের সাথে ইয়ার্কি করতে পারার দু:সাহস কি করে পায় স্বৈরতান্ত্রিক বর্মীয় জায়ান্টরা? ১৯৩ কি:মি: সীমান্ত থেকে একটা বিজিপি ধরে এনে আমরা এতোদিন কেন বলতে পারলাম না, তোমার হাজারো ক্রিমিনাল আরাকানী রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নাও, নাহলে আমাদের ক্ষমতায় তুলে আনা বেয়ারা বিজিপি পাওয়ার স্বপ্ন দেখোই না! আমাদের রাষ্ট্রীয় সকল সূচকের এতো বিস্ফোরণ; অথচ দক্ষিণ পূর্ব সীমান্ত নিয়ে প্রকৃত সমরবিদ্যার এতো অধ:গতি হলো কেমনে?

তবে আর আমাদের রপ্তানি অস্ত্র বা যুদ্ধবিমান তৈরীর স্বপ্ন বাহবা দিয়ে আসলে কী হবে? বিশ্বশান্তির অগ্রদূত আমরাই এই মিথ কথায় চিড়ে ভিজানোর চেষ্টায় আসলে কার কী লাভ? যদি আমরা আমাদের শক্তি, সামর্থ্য ও সাহসে বিজিবি রাজ্জাক তথা বাংলার সার্বভৌমত্বে পরানো উদ্ধত হাতকড়াটা সাতদিনেও ধুলায় মেশাতে না পারলাম!

এখন এসময় মহান নেতা ও অহিংসবাদের গুরু মহাত্মা গান্ধীজি বড় প্রাসঙ্গিক। তিনি ‘Roots of violence’ এর কারণ প্রসঙ্গে যথার্থই বলেছেন,
Wealth without work, Pleasure without conscience, Knowledge without character, Commerce without morality, Science without humanity, Worship without sacrifice, Politics without principles.

ফারদিন ফেরদৌসঃ লেখক ও সাংবাদিক
২২ জুন ২০১৫
facebook/fardeen.ferdous
twitter/fardeenferdous