ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

constable_banner

আমেরিকা, ব্রিটেন ও বাংলাদেশী পুলিশের একটি করে দল বিশেষ প্রশিক্ষণে সুন্দরবনে গেল। প্রথম দিন আমেরিকান পুলিশ দলটিকে বলা হলো একটি হরিণ ধরে আনতে। তারা একটি হরিণ ধরে আনল। পরদিন ব্রিটিশ পুলিশের দলটিকে একই কথা বলা হলে তারা তাই করল। শেষের দিন বাংলাদেশী পুলিশের দলটিকে বলা হলে তারা একটি তাগড়া বাঘ ধরে নিয়ে এসে বেদম পেটাতে শুরু করল। তখন বাঘটি পড়িমরি করে স্বীকার গেল,
ভাই আমারে আর মারবেন না, আমিই হরিণ!

গল্পের মোরাল দাঁড়ালো, বাঘে ছুঁলে আঠার ঘা আর বাংলাদেশী পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা। আমাদের বঙ্গসমাজে আরক্ষাবাহিনীর কিছু বেপথো সদস্যের কর্মকান্ডের কারণে পুলিশ নিয়ে এ ধরণের নানা মুখরোচক কৌতুকার্টুন প্রচলিত আছে। এই যেমন ধরুন-
প্রাণ থাকলেই মানুষ হয়, কিন্তু পুলিশ না হলে অমানুষ হওয়া যায়না।
মাছের রাজা ইলিশ, ডাঙায় রাজা পুলিশ।
মানুষ থেকে পুলিশ হওয়া যায় কিন্তু পুলিশ থেকে মানুষ হওয়া যায়না।
ঘুষ এবং পুলিশ দুটোই পরস্পরের পরিপূরক।
মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মের মাঝে কিন্তু পুলিশ বাঁচে ঘুষের মাঝে।
পুলিশ দেখে কেউ করিসনে ভয়
আড়ালে তোর মরণ হাসে।
শুনহ জনগন ভাই !
সবার ওপরে পুলিশ সত্য
তাহার উপরে নাই।
পুলিশের মাইর দুনিয়ার বাইর। ইত্যাদি।

কিন্তু পুলিশ যে, আমাদের সমাজেরই কারো ভাই, কারো বোন, কারো সন্তান, কারো বাবা মা, এই কথা কৌতুককারীদের খেয়াল থাকে না। একটি গ্লাসে অর্ধেক পানি ভর্তি থাকলে নেতিবাচক ধারার লোকেরা বলবেন গ্লাস অর্ধেক খালি আর ইতিবাচক ধারার লোকেরা বলবেন গ্লাসতো অর্ধেক ভরা। এটা হলো দৃষ্টিভঙ্গি বা বোধের পার্থক্য। আমরা সেই ইতিবাচক বোধ থেকেই আজ পুলিশের নায়কদের কথাই বলব।আমাদের বাংলাদেশের এসময়ের পুলিশ নায়ক কুমিল্লার বুড়িচং’র ইন্দবতী গ্রামের কনস্টেবল পারভেজ হোসেন।

২৩ জুলাই ২০১৫। সকাল সাতটা। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট। ছিনতাই, ছিনতাই—চিৎকার শুনে এগিয়ে যান টুরিস্ট পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ হোসেন। ধাওয়া দিয়ে জাপটে ধরেন এক ছিনতাইকারীকে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন পারভেজের মতোই দেড় শতাধিক টুরিস্ট পুলিশ। এমনিভাবে পারভেজের মতো হাজারো পুলিশ নিজেদের পরিবারের মায়া ত্যাগ করে ছুটিছাটা আরাম আয়েশ ভুলে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে যায় প্রতিটি উৎসব পার্বণেই।

আমাদের দেশে প্রতি ১২০০ জন মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ। এই হিসেবে এবারের ঈদের ছুটি পেয়েছিল মাত্র ৩০ ভাগ পুলিশ সদস্য । পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের স্বপ্ন বুকে লালন করলেও ৭০ ভাগ সদস্যই ছুটি পাননি। বাংলাদেশের সকল পেশাতেই ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম অসাধুতা লোক ঠকানো বা রাষ্ট্রের সাথে প্রবঞ্চনা এক ধরণের ওপেন সিক্রেট। পুলিশও তার বাইরে নয়। কিন্তু এমন আর কোনো পেশা নজির নেই যেখানে আনন্দ আয়োজন বা উৎসবের দিনগুলোতে এতো বেশি সদস্যকে কর্মস্থলে থাকতে বাধ্য করা হয়।
সাংবাদিক হিসেবেই ট্রাফিক পুলিশের কাজকর্ম রাস্তায় গিয়েই দেখবার সুযোগ হয়। সেখানে আমাদেরই ভাই বেড়াদর বন্ধুরা কাজ করেন। ঈদ যাত্রায় রাস্তার ভোগান্তির জন্য সড়ক বিভাগ, চালক বা যাত্রীসাধারণের দায়বদ্ধতা থাকলেও যুগ যুগ ধরে গালাগাল খেয়ে চলেন ট্রাফিক পুলিশেরা। কিন্তু পরিবার পরিজনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বাদ দিয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বা ধুলোয় মাখামাখি হয়ে দিনরাত একটানা ডিউটি করে করে তাদের মন বেদনার্ত হলেও শৃঙ্খলা ভাঙ্গেন না তারা ।
তারপরও মানুষ বা মিডিয়ার সকল সমালোচনার ঝড় তাদেরকেই বিদ্ধ করে একচ্ছত্রভাবে।
কিন্তু ভুল ভ্রান্তির বাইরে কেউ আছেন এমনটা কারো বলবার সাধ্য নেই।

তাই অনেক পুলিশ সদস্য নিদারুণ দুঃখবোধ নিয়েই বলেন,
কি বিচিত্র এক সমীকরণ!
ঈদের নামাজ কিংবা পারিবারিক আনন্দ ত্যাগ করে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে পুলিশ। তবুও পুলিশ অজনপ্রিয় থেকে যাচ্ছে। পুলিশের কষ্টের চূড়ান্ত ফল হিসাবে অর্জিত সাফল্য অদৃশ্য, কিন্তু ব্যর্থতাগুলো বোল্ড, আন্ডারলাইন্ড, কালারফুল হয়ে টিভি স্ক্রলে স্লো মোশনে বাম দিকে দৌঁড়ায় এবং পত্রিকার প্রথম পাতার রসময় খবর হয়ে ফোটে উঠে।

কোন প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদধারী কর্মকর্তা চাকুরীচ্যুত হলে নিউজ হয় না, কিন্তু পুলিশের একজন কনস্টেবল ক্লোজড হলেও টিভি’র স্ক্রলে সর্বশেষ প্রাপ্ত ‘টপ নিউজ’ হিসাবে লাল রঙা বড় হরফে প্রচার পেতে থাকে। অথচ ৭০ ভাগ সদস্যের ঈদানন্দ বিসর্জনের বিনিময়ে কোটি পরিবারের নির্বিঘ্নে ঈদ করতে পারার খবরটা ‘সানি লিওনি’র বাসা পরিবর্তনের নিউজ থেকেও হাজারগুণ কম গুরুত্ব পেয়ে থাকে। অনেকে বলে থাকে- এটা তো পুলিশের দায়িত্ব। পাবলিকের ট্যাক্সের টাকায় তাদের সংসার চলে ! তাদের কাজের আবার প্রশংসা কিসের?

ঘরের বউও তো রান্না ভালো করলে আমরা প্রশংসা করি অনুপ্রেরণা জোগাতে। আবার রান্না খারাপ করলেও সমালোচনা করি মানোন্নয়নের জন্য। আমরা কি আমাদের কষ্টের টাকায় বাজার করার কথা বলে প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকি ? কেউ বিরত থাকতে পারে, তবে নিশ্চিতভাবে তিনি কোন ভালো গৃহকর্তা নন।

আমাদেরই মতো মানুষ বলেই পুলিশেও ভিলেন শ্রেণির দেখা মেলে সহসা। এই যেমন ধরুণ রাজন হত্যাকারী কামরুলকে টাকা খেয়ে সৌদি পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া বা রাজনের মা বাবার অভিযোগের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখানো পুলিশ আছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকার কুমির বনে যাওয়া অসংখ্য নীতিভ্রষ্ট পুলিশ আমরা চিনি। অনেক সময় টাকার বিনিময়ে নির্যাতিতের পক্ষে না থেকে ভয়ঙ্কর নির্যাতনকারীর পক্ষেই যায় পুলিশ। এমনকি গুম খুনের এন্তার অভিযোগও রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ধর্ষক পুলিশও আছে। এমনধারার অসাধু পুলিশ হরহামেশাই পাওয়া যায়। বিপথগামী অসাধু পুলিশের নেতিবাচক কর্মকান্ডে তাদের দুর্নাম বিস্তর। পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিধিবিধান অনুযায়ী অনেকের শাস্তিও হচ্ছে।

কিন্তু তাই বলে কি মানবিকবোধসম্পন্ন পুলিশদেরও একই কাতারে ফেলবেন? যারা সত্যিকারেই জনগণের পক্ষে থাকে তাদেরকেও গণহারে খারাপ পেশাজীবি বলে গালাগাল দিতে থাকবেন? জাতীয়তাবাদী জামায়াতীদের আন্দোলনের সময় রাজশাহীতে শিবিরের ষণ্ডাপান্ডারা মাথা থেতলে দিলে যে পুলিশ সদস্যটি প্রাণ হারান তাঁর জন্য কি আপনারও প্রাণ কাঁদবে না।

TOPSHOTS

একবার কি ভাবনায় আসবে না, কক্সবাজারে যে পুলিশ সদস্যটি ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরতে গিয়ে মারা গেলেন। তিনি কোন প্রেক্ষিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে সরাসরি ছুড়িসজ্জিত ক্রিমিনালকে ধরতে গেলেন? তার মানে হলো, তাঁর কাছে এমন কোনো আধুনিক অস্ত্র বা আধুনিক প্রশিক্ষণ ছিল না, যা দিয়ে আসলে দূর থেকেই শত্রু ঘায়েল করা যায়। আপনি শুধু পুলিশের সেবাই চাইবেন তাঁকে সাপোর্ট দেবেন না তা কী করে হয়?
আপনি বিপদগ্রস্ত হলে কেন কিভাবে আসলে পুলিশ এগিয়ে আসবে, এখান থেকে উত্তর মিলিয়ে নিতে পারেন।

পাবিলিকের টাকায় পুলিশ চলে একথা সত্য। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালন করতে গিয়ে বেপরোয়া তান্ডবকারী সেই পাবলিকের হাতে যখন নির্মমভাবে তাদের সদস্যরা প্রাণ হারান এবং সেই দৃশ্য টেলিভিশনে লাইভ দেখানো হয়, তা স্বচক্ষে দেখে পুলিশ হৃদয়ও কাঁদে বৈকি! তাদের মনেও প্রশ্ন জাগে, পুলিশ এভাবেই মরে, মৃত্যু তার প্রাপ্য! গভঃমেন্ট সার্ভিস হোল্ডারদের মধ্যে সমমর্যাদার অন্যদের চেয়েও সমবেতনেই অমানুষিক শ্রম দিতে হয় পুলিশদের। প্রয়োজনের তুলনায় এক চতুর্থাংশ পুলিশ সদস্যই ৩০ দিনের ১৮ দিনই পরিবার সংসার ভুলে ঘুমহীন রাত্রীকালীন ডিউটি করে যান ১৬ কোটি মানুষকে নিরাপদে রাখবার প্রয়াসে।

তেমন একটি বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্যের কোন অপরাধ বা অক্ষমতার বিষয়টিকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে জনগনের বিপক্ষে দাঁড় করানো সমীচিন কিনা তা ভেবে দেখবার সময় এসেছে। যতই খারাপ ভাবি আর গালাগাল করি পুলিশ বাহিনী ছাড়া একটি সভ্য সমাজের অস্তিত্ব কি সম্ভব? আমরা পুলিশের নায়কদের কথা বেমালুম চেপে যাই বা ভুলে যাওয়ার বাহানা করি। কিন্তু অসাধু পুলিশের কুকীর্তিকে ফলাও করে প্রচার করে পুরো বাহিনীকেই নেগেটিভ ট্রেন্ড বানিয়ে ফেলি। কিন্তু এই অসাধুরা কি আমার আপনার পরিবারের বাইরের কেউ?

একবারও কেন জোর দিয়ে জানান দেই না, পুলিশের ব্যার্থতা ওভারকামের সূত্রটা আসলে কি? কোথায় তাদের অভাব? তার সম্পদ বা জনবলের সীমাবদ্ধতা কতটুকু? কি ভয়াবহ চাপ তাদের? আমরা নিশ্চয় পারি একজন অসৎ পুলিশের কর্মকান্ডের নিক্তিতে তাদের না মেপে বরং পুলিশের নায়কদের ত্যাগকে মহিমান্বিত করে মানবীয় বিবেক বোধসম্পন্ন, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল বাহিনী গড়ে উঠায় সাহায্য করতে।
একজন পুলিশের দিন শুরু হয় খুনোখুনির সংবাদ পেয়ে। তান্ডব বা রায়ট সামাল দিতে দিতেই দুপুরের খাবার পর্ব সারতে হয়। বৈকালিক নাস্তার সময় তার জন্য অপেক্ষা করে কোনো ধর্ষণের খবর। ছিনতাই বা ডাকাতির কাহিনী সামাল দিতে দিতে রাতের খাবার কোনোরকমে শেষ হয়। ভোরের দিকে আবার ওসির ফোন, সশস্ত্র দস্যুরা ৫ জনের লাশ ফেলে দিয়েছে, এখুনি বের হতে হবে। এমনধারার অপরাধ রাজ্যের মনোবিকারিক এক অবস্থার মধ্য দিয়েই চলে পুলিশের ২৪/৭ এর থ্যাংকলেস জব। পুলিশের কাছে রাত দিন বা যুদ্ধ শান্তিকালীন অবস্থা বলে কিছু নাই।
Cops are always in the line of fire.

career_banner

২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তানী শাসন, স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়া এরশাদের সামরিক শাসন মিলে আড়াশো বছর ধরে এই পুলিশ বাহিনী ব্যবহৃত হয়ে আসছে সাধারণ মানুষকে দমিয়ে রাখতে।
সেই উদ্ভট ট্রাডিশন রাতারাতি দূর হয়ে যাবে বলে যারা অলীক স্বপ্ন দেখেন, তাদের নিজেদেরই আগে শোধরাবার সময় এসেছে।

একজন দীনহীন দরিদ্র মানুষ তাঁর পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে লেগুনায় করে মহাসড়কে দূরের পথে ছুটছেন। আর একজন বেপরোয়া চালকের নিতান্ত গতি বিলাসিতা তাঁর প্রাণ কেড়ে নিয়ে বা পঙ্গু করে দিয়ে সেই পরিবারকে ভিক্ষার ঝুলি ধরিয়ে দেয়। তিনি হাসপাতালে যাবেন চিকিৎসা নিতে নগদ অর্থ ছাড়া ডাক্তার তাঁর দিকে ফিরেও তাকাবেন না। বিচার চাইতে যাবেন কোর্টে জায়গামতো অর্থ না দিলে কেউ তাঁর কথা ভ্রূক্ষেপও করবে না। তাঁর জন্য নিরাপদ বসবাস বা দিনাতিপাতের কথা কারও ভাববার সময় নেই। তাহলে সুনীতি বা শৃঙ্খলাটা আসলে কোথায় আছে? একলা সব দোষ বা দায় কেন তবে পুলিশই কলুর বলদের মতো বইতে থাকবে?

সকাল বেলা ছোট্ট বাবুটির কপাল বা কপোলে চুম্বন এঁকে দিয়ে যে পেশাজীবী মানুষটি ঘর থেকে বের হয়ে তাঁর কাজে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তে সুস্থ্য শরীরে ঘরে ফিরবার অধিকার আছে তাঁর। আর সেই প্রতিশ্রুত অধিকারটি সমুন্নত হতে পারে কেবল ব্যক্তির ইতিবাচক ধারায় বদলে যাবার সদিচ্ছায়। আমাদের সবার মনে মানবপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম ও দেশাত্ববোধ জাগ্রত হোক। শান্তি গৃহের খুঁজে যেন কেঁদে কেঁদে বেড়াতে না হয় আমাদের। আমরা যেন জননীর চরণতলে বসে থেকে জননী বলে ডাকবার সুখ অনুভব করতে পারি। জয় হোক আমাদের দেশনায়কদের।

ফারদিন ফেরদৌসঃ লেখক ও সাংবাদিক
২৫ জুলাই ২০১৫
https://www.facebook.com/fardeen.ferdous
https://twitter.com/fardeenferdous