ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

10_Dr.+A.P

বাংলাদেশে এসে তরুণদের উদ্দেশ্যে সদাশয় শিক্ষক এপিজে আব্দুল কালাম বলেছিলেন,
প্রিয় বন্ধুরা, এদিকে তাকাও, কি দেখছ… আলো।
মনে পড়ে আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসনের কথা, তার বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কারের কথা।
টেলিফোন তোমাদের কার কথা মনে করিয়ে দেয়?… আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল।
বাংলাদেশের জন্মের কথা বললে তোমাদের কার নাম মনে আসে?… শেখ মুজিবুর রহমান।
নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে- আমাকে মানুষ কেন মনে রাখবে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার দূরদৃষ্টি থেকে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তেমন স্বপ্ন দেখার এবং তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য তরুণদের উৎসাহ দিয়েছিলেন ভারতের সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এই বিজ্ঞানী বলেছিলেন, জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে যেতে বার বার সমস্যা আসবে, সংকট পথ আটকাবে। কিন্তু হৃদয়ে রাখতে হবে একটি সংকল্প- আমি সংকটজয়ী হব, সব সমস্যা পেছনে ফেলে ছিনিয়ে নেব সাফল্য। জগতের মহান ব্যক্তিত্বদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিতেও তরুণদের উপদেশ দেন তিনি।

২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁর ঢাকা ভাষণের সেই অনুষ্ঠানে জীবনের সব পরীক্ষায় সফল এই মানুষটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কিসে তার আনন্দ। এপিজে কালামের সরল উত্তর, শিক্ষকতা আর গবেষণায়। নিজের লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দিতে কালাম ভারতজুড়ে চষে বেড়িয়েছেন; আইআইটি ও আইআইএম এর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়িয়েছেন, বিভিন্ন সম্মেলনে বক্তৃতা করেছেন; সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। জীবনের শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত গত দুই দশকে এক কোটি ৮০ লাখ তরুণের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন এই বিজ্ঞানী।

২৭ জুলাই ২০১৪ সোমবার সন্ধ্যায় মেঘালয়ের শিলংয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টে এক অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালেই অনন্তের পথে যাত্রা করেন ৮৪ বছর বয়সী অকৃতদার এই পন্ডিত পুরুষ। সেসময় তিনি ‘ক্রিয়েটিং আ লিভেবল প্ল্যানেট আর্থ’ বিষয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। জীবনের শেষ সময়টুকুতেও তাঁর মনে ছিল এই সুন্দর পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করার আকাঙ্খা।

FB_IMG_1438013607262
হিন্দু প্রধান ভারতে একজন মুসলমানকে জীবনের শীর্ষবিন্দুতে পৌছতে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে শ্রম ও সাধনার পরীক্ষার উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু দারিদ্র ও ধর্মের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ সার্থক ফুল হয়ে ফুটেছিলেন তিনি। সেই ফুলের রূপে ও ঘ্রাণে মুগ্ধ শুধু ভারত নয়, পুরো বিশ্ব।

জীবৎকালে লাখো মানুষকে তিনি স্বপ্নের ডানায় ভর দিয়ে সংকটজয়ের মন্ত্র শিখিয়ে গেছেন। ভারতের ‘মিসাইলম্যান খ্যাত’ সাবেক এই রাষ্ট্রপতি মানুষ হয়ে ক্ষুদ্র স্বার্থের পেছনে জীবনকে ছোটানোকে প্রকারান্তরে অপরাধ বলে গণ্য করতেন।
তরুণদের সাথে আলাপচারিতায় কালাম বলতেন, সবগুলো স্বপ্ন অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মহৎ যত বই আছে সব পড়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞান অর্জন চালিয়ে যেতে হবে। এবং এই স্বপ্নকে হতে হবে বিশাল।
তিনি বলতেন, যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো তা স্বপ্ন নয়, যা তোমাকে ঘুমাতে দেয়না, সেটাই স্বপ্ন।
আর সেই স্বপ্ন পূরণে ‘জীবনে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ একটি অপরাধ’ বলেই মনে করতেন সরল মানুষ কালাম।
ত্রয়োদশ শতকের পারস্যের কবি জালালউদ্দিন রুমির একটি কবিতা তার হৃদয়ে স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছিল আবাল্যেই।
‘আমি সম্ভাবনা নিয়ে জন্মেছি। আমি জন্মেছি মঙ্গল আর বিশ্বাস নিয়ে। আমি এসেছি স্বপ্ন নিয়ে। মহৎ লক্ষ্য নিয়েই আমার জন্ম। হামাগুড়ির জীবন আমার জন্য নয়, কারণ আমি ডানা নিয়ে এসেছি। আমি উড়ব, উড়ব, আমি উড়বই’।
এই কবিতা কালামের জীবন বদলে দিয়েছিল, ‘যাকে দুমুঠো খাবার জোটাতে আট বছর বয়সে সংবাদপত্র বিক্রি করতে হয়েছিল।

এপিজে আব্দুল কালাম ২০০২ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’ ছাড়াও ভারত তাকে সম্মানিত করেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ দিয়ে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় কাজ করেছেন।

অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে তিনি ভারতের প্রথম মহাকাশ যান এসএলভি-৩ তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ওই মহাকাশ যান দিয়েই ১৯৮০ সালে ভারত প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র ‘রোহিনী’ উৎক্ষেপণ করে।
ভারতের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা (স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল সিস্টেমস) এবং ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষায়ও প্রধান ভূমিকা রাখেন এই বিজ্ঞানী, যিনি পরে নিজেকে যুক্ত করেন পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচারে।

পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ে তাঁর অভিব্যক্তি ছিল এমন,
‘পারমাণবিক শক্তি তখন অমঙ্গলের, যখন তা মানব উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্র ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করা হয়’।

২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কালাম বলেছিলেন, ভারত, পাকিস্তানসহ সব দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার কাজে সামিল হওয়া উচিত।

পরমাণু বিজ্ঞানী আব্দুল কালামের লেখা ২৯টি বইয়ের মধ্যে ‘উইংস অব ফায়ার’ এ ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তার জীবনের ঘটনাক্রম উঠে এসেছে। বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এ পর্যন্ত। ওই সাফল্যের অনুপ্রেরণায় তিনি লিখেছেন ‘টার্নিং পয়েন্টস’ নামে আরেকটি বই, যাতে নিজের সফলতার পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি তুলে এনেছিলেন।

আমাদের কালের পাঠকদের মধ্যে তাঁর আত্মজীবনী ‘আগুনের ডানা’ (দ্য উইংস অব ফায়ার) পড়ে, কে না বিস্মিত ও আলোড়িত হয়ে ভেবেছেন, এটা কী সত্যি কারো জীবনের গল্প নাকি কোন রূপকথা!
তাঁর জীবনগাঁথায় মিশে গিয়ে কান্নার ফল্গুধারায় বুক ভাসানো বা আনন্দের হিল্লোলে ভেসে যায়নি কে? অশেষ অনুপ্রেরণার উৎস ও সুন্দর স্বপ্নের কারিগর কালাম তাঁর জ্ঞানের আখ্যান রেখে গেছেন কথায়, কাজে ও লেখায়।

এ পি জে আবদুল কালামের নিজস্ব ওয়েবসাইটেই তাঁর রূপকথাসম বালকবেলা নিজের জবানীতেই গ্রন্থিত করে গেছেন। যেখানে তিনি তাঁর রত্নগর্ভা মমতাময়ী মায়ের প্রাণবন্ত বন্দনা করেছেন। জন্ম তামিলনাড়ুতে, ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর খুব সাধারণ মুসলিম পরিবারে। বাবা জয়নুল আবেদীন দিন এনে দিন খাওয়া মৎসজীবি।

তখন ১৯৪১ সাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। আমরা থাকতাম রামেশ্বরম শহরে। এখানে আমাদের পরিবার বেশ কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছিল। আমার বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। কলম্বোতে যুদ্ধের দামামা বাজছে, আমাদের রামেশ্বরমেও এর প্রভাব পড়ছে। খাবার বা নিত্যব্যবহার্য পণ্য, সবকিছুরই দারুণ সংকট। আমাদের সংসারে পাঁচ ভাই, পাঁচ বোন। তাদের মধ্যে তিনজনের আবার নিজেদেরও পরিবার আছে, সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। আমার দাদি ও মা মিলে সুখে-দুঃখে এই বিশাল সংসার সামলে রাখতেন।

আমি প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে অঙ্ক শিক্ষকের কাছে যেতাম। বছরে মাত্র পাঁচজন ছাত্রকে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে পড়াতেন। আমার মা আশিয়াম্মা ঘুম থেকে উঠতেন আমারও আগে। তিনি আমাকে গোসল করিয়ে, তৈরি করে তারপর পড়তে পাঠাতেন। পড়া শেষে সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি ফিরতাম। তারপর তিন কিলোমিটার দূরের রেলস্টেশনে যেতাম খবরের কাগজ আনতে। যুদ্ধের সময় বলে স্টেশনে ট্রেন থামত না, চলন্ত ট্রেন থেকে খবরের কাগজের বান্ডিল ছুড়ে ফেলা হত প্ল্যাটফর্মে। আমার কাজ ছিল সেই ছুড়ে দেওয়া কাগজের বান্ডিল সারা শহরে ফেরি করা, সবার আগে গ্রাহকের হাতে কাগজ পৌঁছে দেওয়া।

কাগজ বিক্রি শেষে সকাল আটটায় ঘরে ফিরলে মা নাশতা খেতে দিতেন। অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই দিতেন, কারণ আমি একই সঙ্গে পড়া আর কাজ করতাম। সন্ধ্যাবেলা স্কুল শেষ করে আবার শহরে যেতাম লোকজনের কাছ থেকে বকেয়া আদায় করতে। সেই বয়সে আমার দিন কাটত শহরময় হেঁটে, দৌড়ে আর পড়াশোনা করে। একদিন সব ভাইবোন মিলে খাওয়ার সময় মা আমাকে রুটি তুলে দিচ্ছিলেন, আমিও একটা একটা করে খেয়ে যাচ্ছিলাম (যদিও ভাত আমাদের প্রধান খাবার, কিন্তু রেশনে পাওয়া যেত গমের আটা)। খাওয়া শেষে বড় ভাই আমাকে আলাদা করে ডেকে বললেন, ‘কালাম, কী হচ্ছে এসব? তুমি খেয়েই চলছিলে, মাও তোমাকে তুলে দিচ্ছিল। তাঁর নিজের জন্য রাখা সব কটি রুটিও তোমাকে তুলে দিয়েছে। এখন অভাবের সময়, একটু দায়িত্বশীল হতে শেখো। মাকে উপোস করিয়ে রেখো না।’ শুনে আমার শিরদাঁড়া পর্যন্ত শিউরে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে মায়ের কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম।

মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়লেও পরিবারে ছোট ছেলে হিসেবে আমার একটা বিশেষ স্থান ছিল। আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। কেরোসিন দিয়ে বাতি জ্বালানো হতো; তাও শুধু সন্ধ্যা সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত। মা আমাকে কেরোসিনের ছোট্ট একটা বাতি দিয়েছিলেন, যাতে আমি অন্তত রাত ১১টা পর্যন্ত পড়তে পারি। আমার চোখে এখনো পূর্ণিমার আলোয় মায়ের মুখ ভাসে। আমার মা ৯৩ বছর বেঁচে ছিলেন। ভালোবাসা আর দয়ার এক স্বর্গীয় প্রতিমূর্তি ছিলেন আমার মা।

মা, এখনো সেদিনের কথা মনে পড়ে,
যখন আমার বয়স মোটে ১০।
সব ভাইবোনের ঈর্ষাভরা চোখের সামনে
তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাতাম।
সেই রাত ছিল পূর্ণিমার।
আমার পৃথিবী শুধু তোমাকে জানত মা! আমার মা!
এখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে উঠি।
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে।
তুমি জানতে ছেলের কষ্ট মা।
তোমার আদরমাখা হাত আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিত।
তোমার ভালোবাসা, তোমার স্নেহ, তোমার বিশ্বাস
আমাকে শক্তি দিয়েছিল মা।
সৃষ্টিকর্তার শক্তিতে ভয়কে জয় করতে শিখিয়েছিল।

FB_IMG_1438049237417

ভারতের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি আবার ফিরে যান পড়াশোনার জগতে। শিলং, ইনদওর ও আহমদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, তিরুঅনন্তপুরমের ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে নিয়মিত পড়াতেন।

ধর্মের গোঁড়ামি এড়িয়ে চলতেন বাবা-মা। ছোটবেলা থেকে মুক্তমনা ছিলেন আব্দুল কালামও। গড়গড় করে মুখস্থ বলতে পারতেন ভগবদ্গীতা। কোরান শরিফও। তবে শুধু বইয়েই ডুবে থাকতেন না তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলেছেন, কোথাও যাওয়ার আগেই পকেট থেকে বার করে ফেলতেন ছোট্ট চিরুনি। নামজাদা হেয়ার স্টাইলিস্টের কল্যাণে তৈরি হয়েছিল তাঁর নিজস্ব সফেদ চুলের ছাঁট। আর সব সময় বলতেন, লেখাপড়ার কোনও বিকল্প হয় না। স্কুলপড়ুয়াদেরও বারবার অনুপ্রাণিত করে বলেছেন, নিজের ভবিষ্যতের কারিগর হতে গেলে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আর কখনও কাজে ফাঁকি দেবে না। নিজের জীবনেও এ কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গিয়েছেন। কর্মজীবনে ঠিক দু’দিন ছুটি নিয়েছিলেন, মায়ের আর বাবার মৃত্যুদিনে।

বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা কোরো না। আমায় যদি ভালবাসো, মন দিয়ে কাজ করো সে দিন’। কাজ পাগল ও জ্ঞান সমুদ্রে ধ্যানমগ্ন এই মানুষটি জীবনের শেষ সেকেন্ডেও এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মঞ্চেই বক্তৃতা দিতে দিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অনন্ত আশ্রয়কে সারথি করলেন, এ এক অত্যাশ্চর্য সমাপয়েত!

আমাদের নমস্য আবুল পাকির জয়নুল আবেদীন আবদুল কালাম শান্তিতেই ঘুমোবেন;
তাঁর আলোকবর্তিকা জ্বলে থাকবে মানুষে মানুষে যুগ যুগান্তরে।

ফারদিন ফেরদৌসঃ লেখক ও সাংবাদিক
২৭ জুলাই ২০১৫
https://www.facebook.com/fardeen.ferdous
https://twitter.com/fardeenferdous