ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

file

=======
প্রিয় সরকার বাহাদুর,
আশা করছি কুশলেই আছো!
বস্তু বা অবস্তুগত সকল কিছুর দাম বাড়ায়ে দিয়ে শেষাবধি মহাকাঙ্খিত অমূল্য বেতন বাড়াইলা।
প্রজাতন্ত্রে সকল কর্মচারীর মর্যাদা সমতার মাপকাঠিতে মেপে শ্রেণি বৈষম্য তুলে দিলা।
তাই অশেষ ধন্যবাদ।
আমরা এখন সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে!

file (2)

কিন্তু হেফাজতিদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়া সবাইকে বাংলা নববর্ষের ভাতা দিলা ক্যান সরকার সাব?
এখন যেসকল হেফাজতিরা তোমার প্রজাতন্ত্রের চাকর, তাদের ভাষায় এই বিজাতীয় হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির নামে নাস্তিক্য ভাতা -সেই তারা কেমনে গ্রহণ করবে?
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় কেমনে তারা গাইবে,
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো…!

ওদের অতি ছোঁয়াচে অনুভূতি না এইবার টিকটিকির লেজের মতো খসে পড়ে যায়!

বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িকতা চর্চা আগায়ে নিতে নববর্ষ ভাতা বাড়াইলা! ঠিক আছে! কিন্তু আমার বৌয়ের মতো যেসব নারী বৈশাখী উৎসব বা নববর্ষের আনন্দে নিজেকে সামিল করবে, তাঁকে নববর্ষ ভাতা দিবা, আবার যে টীজার এই নারীদের চুটায়ে টীজ করে হাওয়ায় মিলায়ে যাবে, তাদের বাপেদেরও নববর্ষ ভাতা দিয়েছ, যে পুলিশ নিথর পাথরের মতো বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে সিসি ক্যামেরা পাহারা দিবে, তাকেও একই জিনিস দিলা! আবার যে সাংবাদিক তোমার চোখে আঙ্গুল দিয়া টীজারগো ছবি দেখায়ে দিবে, তাদের বাপেদেরও নববর্ষ ভাতা দিলা!
তুমি বড়ই দিল দরিয়া হে। সকলের মন জুগায়ে চলতে দেখছি তোমার জুড়ি মেলা ভার!

তবু বেতন কাঠামোয় নববর্ষ ভাতা বা বৈশাখী বোনাসের মতো এমন মহতি অনুষঙ্গ চালু করবার জন্য আমার বাঙালি অনুভূতি আজ যথার্থই উৎফুল্ল।

বাঙালিয়ানা দীর্ঘজীবি হোক!
উৎসব আর আনন্দে বেঁচে থাক মানবীয় সম্প্রীতি! আনন্দধারা বয়ে যাক ভুবনে!
প্রেমময় অমৃতরসে ভরে উঠুক প্রতিটি শূণ্য জীবন!
ভালো থেকো সরকার বাহাদুর!!
…….
ইতি-
তোমারই গুণমুগ্ধ প্রজা
ফারদিন ফেরদৌস
২৩ ভাদ্র ১৪২২। ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫
https://www.facebook.com/fardeen.ferdous
https://twitter.com/fardeenferdous