ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বিশ্ব শিক্ষক সংঘের প্রচেষ্টায় শিক্ষাকে একটি মৌলিক মানবাধিকার ঘোষণা করে ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) যৌথভাবে ‘শিক্ষক সনদ’ প্রণয়ন করে। শিক্ষকের অধিকার, কর্তব্য ও মর্যাদা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রণীত ও স্বীকৃত প্রথম এই ঐতিহাসিক সনদের মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতি, মানবজাতির ক্রমোন্নতি এবং আধুনিক সমাজের বিকাশ সাধনে শিক্ষক সম্প্রদায়ের অপরিহার্য ভূমিকা ও অবদানের কথা জোরের সঙ্গে ঘোষণা করে শিক্ষকরা যাতে এসব ভূমিকা পালনের জন্য উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা ভোগ করতে পারেন তা সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশও এই অঙ্গীকারের আওতাভূক্ত।
51-protest-teacher-tsc-18052016-03

এই শিক্ষা সনদের সারৎসার বিষয়ে দেশের কর্তাব্যক্তিরা তেমন কিছু জানেন বা না জানেন সে বিষয়ে কিছু বলব না, তবে নারায়ণগঞ্জের সেলিম ওসমান নামে একজন বীভৎস আইন প্রণেতা যে জানেন না, তা সর্বৈব নিশ্চিত। কারণ গড ফাদারের নগরীতে এমপি-মিনিস্টার হতে হলে মাস্টার সাহেবের কাছে পড়াশোনা করার দরকার পড়ে না, শিক্ষকের মর্যাদা সুনিশ্চিত করার কথাও জানতে হয় না, কেবল নূর হোসেনের মতো দু’চারটে সাত খুনে ক্যাডার পালতে পারলেই কেল্লাফতে। কাজেই ঐ সাংসদের অঙ্গুলি হেলনে শিক্ষকের চরম অপমান বিষয়ে আমরা তেমন অবাক হই না!

শিক্ষকের মর্যাদা জানতেন, এই বাংলাভূমেরই এক বিখ্যাত কবি এবং যে সালে জাতিসংঘের শিক্ষা সনদ গ্রহণ করা হয়েছে সেই ১৯৬৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেওয়া কাজী কাদের নেওয়াজ। শিক্ষকের মর্যাদা কী এবং কেন নিজের কবিতায় প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির/ সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর’। শিক্ষকের কাছে যে, বাদশাহ আলমপনাদেরও মাথা নীচুই থাকে, তা জানতেন সেই কবিবর। তবে আমাদের শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে ঐ কবিতাটি এখন আর নাই, শিক্ষকের মর্যাদাও নাই।

এইতো কিছুদিন হলো, শিক্ষক আর আমলাদের গ্রেডেশন বাহাস কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। সেসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সচিব হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। একই সময়ে শিক্ষকের পদস্পর্শে সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান এবং শিক্ষকের মর্যাদার মানদন্ড বিষয়ক সোশ্যাল মিডিয়া ট্রলও ইতোমধ্যে শীতল হয়েছে। এরইমধ্যে নারায়ণগঞ্জের এক প্রধানশিক্ষকের কানধরে উঠবসকেন্দ্রিক শিক্ষকের চরম অমর্যাদার ঘটনা সকল মিডিয়ায় সোরগোল তুলেছে।

২০১৫ সালের ০৯ এপ্রিলের ঘটনাটি এখনও আপনাদের মনে থাকবার কথা। এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বাক-বিতন্ডাকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কক্ষে অধ্যক্ষ ও ইউএনও’র উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সহকারী অধ্যাপক মোনতাজ উদ্দিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামের পা ছুঁয়ে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে রক্ষা করতে হয়। সহকারী অধ্যাপক মোনতাজ উদ্দিন পাঁচ বছরের জুনিয়র সহকারী কমিশনারের পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাওয়াটা সহজে মেনে নিতে পারছিলেন না বলে, তিনি আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছরের মেয়ের মুখ তার চোখের সামনে ভেসে উঠতেই তিনি তার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করেন। যে শিক্ষকরা পড়িয়ে শিখিয়ে ডজন ডজন ম্যাজিস্ট্রেট সৃষ্টি করেন, সেই শিক্ষকদের এই হলো অবস্থা।

এবারের ভূক্তভোগী শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ঘটনা আরও করুণ। এই শিক্ষককে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে এমনকি নিজের প্রাণটাও প্রায় হারাতে বসেছিলেন তিনি। শ্রেণিকক্ষে ‘ধর্ম নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে গত ১৩ মে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্থানীয় সাংসদ (জাতীয় পার্টি) এ কে এম সেলিম ওসমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে মারধর এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত এই সংক্রান্ত ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি নিজেই এই অকান্ডটি সংঘটিত করছেন। আর এই ঘটনায় জুজু হিসেবে সামনে রাখা হয় ধর্ম অবমাননা নামের অনুভূতি বিনষ্টের ভয়াল বাজে ইস্যু। তাও আবার সংখ্যালঘু হিন্দু কর্তৃক সংখ্যাগুরু মুসলমানের ধর্মাবমাননা। শিক্ষকের কান ধরে উঠবসের ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে এখন বলা হচ্ছে ধর্মাবমাননার মতো এতো বড় ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ঐ শিক্ষক যে মুসললিম পাবলিকের গণপিটুনিতে প্রাণ হারাননি সেই কৃতিত্ব নাকি ঐ এমপি’র।

কিন্তু মিডিয়ার চোখের আড়ালে থাকছে আসল ঘটনা। এই ঘটনার আসল ক্রীড়নক সাংসদ সেলিম ওসমানের বশংবদ ও পিয়ার আলী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলাম শ্যামল ভক্তকে সরিয়ে নিজের বোনকে জোরজবরদস্তিতে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসাতে রীতিমতো মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ধর্মীয় উস্কানি ও বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। কল্যানদি গ্রামের হিন্দু-মুসলমানের বহমান ঐক্যে ভাঙ্গন ধরিয়েছেন। এর জের ধরে নির্দোষ শিক্ষক শ্যামলকে গণপিটুনি ও শেষাবধি সাংসদের চরম অপমানজনক কানধরা শাস্তিও মাথা পেতে নিতে হয়েছে।

এই ঘটনার পর সাংসদের ধামাধরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ ক ম নূরুল আমিন বলেছেন, শিক্ষক শ্যামল ভক্তকে শাস্তি পেতে হবে আর জেলা পুলিশ সুপার বলেছেন, ধর্মীয় ইস্যুতে বিচারের আওতায় আসবেন ঐ নিগৃহীত শিক্ষকই। অথচ অবস্থাদৃষ্টে দেখাই যাচ্ছে ধর্ম যদি অবমাননা হয়েই থাকে তার সম্পূর্ণ দায় মাইকে ঘোষণাকারী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির। যদিও শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম এ ঘটনাকে ’কলঙ্কজনক’ উল্লেখ করে ঘটনা তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন এবং শিক্ষকের অপমানকে ফৌজধারী অপরাধ বলেছেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এমন অবস্থায় ঘটনার তিনদিন পর ১৬ এপ্রিল সোমবার ঐ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সেই বকধার্মিক সভাপতি ফারুকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই শিক্ষক শ্যামল কান্তিতে বরখাস্ত করার কথা বলা হয়। কারণটা নাকি গণরোষে আহত হয়ে চিকিৎসাকালীন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি।

এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখে আমাদের তো বিস্ময়ের ঘোরই কাটছে না। একজন অসহায় শিক্ষককে অকারণে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাতে মার খাওয়ানো হলো, সাংসদ নিজে কান ধরে উঠবস করালেন, শেষাবধি তাঁর চাকরিটা খেয়ে দিয়ে একটি পরিবারকেই পথে বসিয়ে দেয়া হলো। একি বিচিত্র, নির্বিকার, অন্ধ এক পরগণায় এসে উপস্থিত হলাম আমরা।

যেখানে একজন শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের মুখে সবাই সাংসদ সেলিম ওসমানের শাস্তি চাইছেন। অথচ সেই শিক্ষককেই কিনা বরখাস্ত করা হলো। একে কি বলবেন? আহা! আইনের কী নিদারুণ শাসন!

তবে আশার কথা এই যে, ওই স্কুল শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানতে চেয়ে ১৮ মে বুধবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।

শিক্ষকের অপমানের মতো এমন বেদনাদায়ক ঘটনার প্রতিবাদ হচ্ছে দেশজুড়ে। বৃষ্টিতে ভিজে বা রোদে পুড়ে দেশব্যাপী শিক্ষক, ছাত্র, তারকা, পেশাজীবী বা সাধারণ মানুষেরা নিজেদের কান ধরে ঐ শিক্ষকের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি আপলোড দিয়ে প্রতিক্রিয়াও মিলছে দেদার। কিন্তু এই গণ কানধরা সংক্রমণটি কড়া প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ না হয়ে সেলফ গ্রাটিফিকেশন বা আত্মপরিতৃপ্তি হয়ে উঠছে নাতো? এই প্রশ্ন বিশুদ্ধ বিপ্লবীদের। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশের শিকল পরে সেই শিকল বিকল করবার গান গাইতেন। সবার বাঁধন ভয়কে ক্ষয় করবার স্বপ্ন দেখতেন। ভয় দেখানো ভূতের সর্বনাশ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করতেন। কিন্তু নজরুল বেলার ঔপনিবেশিক সেই দিন আর আজকের সেলিম ওসমানদের এই দিন এক নয়। ফাঁসি পরে হাসি আনার দিন এটা নয়। যারা ভয় দেখিয়ে শাসন করছে মুক্তির পথের অগ্রদূতের চরণ বন্দনার মাধ্যমে তাদের লাঞ্ছনার জবাব দিতে ক্রন্দন বা বিব্রতকর মাথানীচু কানধরা ম্রিয়মান প্রতিবাদকে সারথি করলে চলবে না। বরং এই দৃঢ় প্রত্যয় জাগরুক হোক যে, ঐ দৈত্যদের অস্থি দিয়েই দেশের সুন্দর সুসভ্য বজ্রানল জ্বালাতে হবে!

তারও আগে পরিবর্তিত পরিস্থিতে মনে রাখতে হবে যে, আওয়ামীলীগ যদি বিশালাকার অজগর হয়, তবে এরশাদের জাতীয় পার্টি হলো, সেই অজগরের গিলে খাওয়া নির্বোধ ভেড়া। আর সেই ভেড়ার স্লোগানও এখন জয় বাংলা। ধর্মের কটূক্তি নিয়ে গলাবাজির স্লোগানও এখন জয় বাংলা। আওয়ামীলীগেরও আছে হেফাজত বা ওলামালীগ। এই ভাবে আওয়ামীলীগ ইসলামেও আছে, সেকুলারিজমেও আছে। সরকারেও আছে, জাতীয় পার্টির বিরোধী দলেও আছে। হেফাজত বা ওলামা লীগে আছে আবার হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদেও আছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী কর্তৃক সিএনজি চালককে কানে ধরানো এবং সর্বশেষ একজন আইন প্রণেতা কর্তৃক শিক্ষককে কানে ধরানো- এসব এক হযবরল, ডানবাম, ধর্মনিরপেক্ষ, উগ্র সাম্প্রদায়িক, কথিত সুশীল, জগাখিচুড়ি, মিলেমিশে একাকার, লেজেগোবরে শাসন-সংস্কৃতি নামের মানবীয় অমর্যাদারই উলঙ্গ উল্লম্ফন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার বাদ দিয়ে সাংবিধানিকভাবে চাপিয়ে দেয়া এরশাদীয় ধর্মাচার যেখানে একমাত্র ধ্যানজ্ঞানে পরিণত হয়েছে, সেই রাজ্যের লোককবির পাগলা ঘোড়া কইর মানুষ কই লইয়া যায়, তাই এখন দেখার বিষয়।

এমনতর সত্য-মিথ্যা আর সুন্দর-অসুন্দর মিলেমিশে একাকার সমাজে নিজেরাই নিজেদের কানধরে সেলফিজম প্র্যাকটিসের কালে সেলিম ওসমান এখন তার চ্যালাচামুন্ডাকে বলতেই পারেন, আমার বাহাদুরি কতোটা, দেখছস? আমি কিচ্ছু কই নাই, তাও সারাদেশে কেমন ধরাধরির কারবার চলছে!

কাজেই কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু’র ধর্ষণ-হত্যায় আমার নিজেকে ধর্ষিত দেখানো বা বিজ্ঞানলেখক অভিজিত হত্যায় আমার নিজের ঘারে চাপাতি রেখে নিজের অক্ষমতাকে প্রকাশ করবার নাম হয়ত প্রতিবাদের ভাষা নয়। আমাদের প্রতিবাদ সোজাসাপ্টা, সকল হত্যাকারী, ধর্ষক, লুটেরা এবং অসম্মানকারীদের প্রতীক সেলিম ওসমান নামের ভয়ংকর আইন প্রণেতাদের আদালতের কাঠগড়ায় দেখতে চাই। যেমনটা গাইবান্ধায় শিশু সৌরভকে গুলিতে বিদ্ধকারী আওয়ামী সাংসদ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বা আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক হত্যাকারী টাঙ্গাইলের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার বেলায় দেখা যাচ্ছে।

আচ্ছা আমাদের মাননীয় সরকারপ্রধান কি এখনও মনে করছেন না, সরকারকে বিব্রত, বিশ্রী ও বিড়ম্বিত অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিত ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের অন্যতম সেলিম ওসমান! এমপি হয়েও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হেনস্থা করেছেন বাংলাদেশে অসহায় এক হিন্দু শিক্ষককে! এর আগে আদালতে বিচারাধীন নূর হোসেনের সেভেন মার্ডার বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা নিয়ে শামীম ওসমানের বাজে মেলোড্রামার সাক্ষীও হতে হয়েছে এই জাতিকে। এদের একভাইয়ের ছেলে আজমিরি মেধাবী শিক্ষার্থী ত্বকি হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত বলে প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু এই বেয়ারা ওসমানদের পিতা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শামসুজ্জোহা বঙ্গবন্ধুর ঘণিষ্ঠজন ছিলেন বলে ঐ পরিবারের প্রতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে দাঁড়িয়েও উদারতা প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তবে কি সেই উদারতা ও ভালোবাসার প্রতিদান এইভাবে দেশবাসীকে সুদে আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছে ওসমান পরিবার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে জাতির শিক্ষাগুরুর মর্যাদায় অধিষ্ঠান করে জীবন ও বোধবিনাশী এই ভয়ালদর্শন ওসমানিয়া গংরা চুড়ান্তরূপে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ হয়ে উঠবার আগে এমন দূরাচার দৈত্যদের পায়ে শিকল পরান প্লিজ। নাহলে হয়ত একসময় বাঙালি হিসেবে কোথাও মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না!

এই হলেন গিয়ে বঙ্গভূমির ওসমানিয়া আইনপ্রণেতা। তার কথাবার্তার কী ছিরি! আ মরি বাংলা ভাষা!!

লেখকঃ সংবাদকর্মী, মাছরাঙা টেলিভিশন
১৮ মে ২০১৬
twitter.com/fardeenferdous
facebook.com/fardeen.ferdous.bd