ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

মদনমোহন তর্কালঙ্কার ‘শিশুশিক্ষা’ পুস্তিকার প্রথম পংক্তিটিতেই পাখি নিয়ে লিখেছেন,
‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।’

নাট্যকার মেটার লিংয়ের কাছে ব্লুবার্ড বা নীল পাখি যে অর্থ প্রকাশ করে, শেলীর স্কাইলার্ক হয়তো সে বিষয়টি অন্যভাবে মূর্ত করে। রবীন্দ্রনাথ ‘বলাকা’কে গতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘বনের পাখি ছিল বনে, খাঁচার পাখি খাঁচায়’… কিংবা, ‘এপারে মুখর হলো কেকা ঐ ওপারে নীরব কেন কুহু হায়’— পাঠকের মনে গভীর এক আবহ সৃষ্টি করে। অপরদিকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত‘বউ কথা কও’ নামের সনেটটিতে দেখা যায়, পুরুষ পাখি নায়িকার মান ভাঙানোর চেষ্টা করছে, তখন তা কবির নিজস্ব ভাবনায় পাখি হিসেবেই ধরা পড়ে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন, ‘আকাশে উড়িছে বকপাতি, বেদনা আমার তারি সাথী’— তখন বকের ঝাঁক গৌণ হয়ে বেদনার ভারটাই প্রধান হয়ে ওঠে।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দের ভাবনায় পাখিদের আনাগোনা ব্যাপক। তিনি যখন বলেন—‘হায় পাখি, সাদা পাখি, মালাবার ফেনার সন্তান’ কিংবা ‘হায় পাখি একদিন কালিদহে ছিলে নাকি ছিলে নাকি দহের বাতাসে’— তখন সত্যিকার অর্থেই পাখি আর পাখি থাকে না, পরাবাস্তব ভাবনায় তা হয়ে যায় পাখির পালকের ছায়া। জীবনানন্দের শঙ্খচিল, সোনালী চিল, সিন্ধু সারস, পেঁচা, শালিক, দোয়েল ইত্যাদি পাখি এসেছে নানা অনুষঙ্গে, নানা অর্থে।

তিনি পাখির নীড়ের মতো চোখের যে উপমা ‘বনলতা সেন’ কবিতায় দিয়েছেন, সেই শান্তির নীড় এবং তার কামনা কিংবদন্তি পর্যায়ে চলে এসেছে। পুনর্জন্ম নিয়ে তাঁর অসাধারণ উচ্চারণ, ‘হয়তো বা হাঁস হবো কিশোরীর ঘুঙুর রহিবে তার পায়।’ কিংবা ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে— এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয়-হয়তোবা শঙ্খচিল শালিখের বেশে/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে কার্তিকের নবান্নের দেশে।’

এভাবেই পাখির প্রতীকী অর্থ কবি, সাহিত্যিক বা প্রকৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষের ভাবনায় নানা মাত্রা পেয়েছে!

Music Courtesy: Pink Floyd – The Great Gig In The Sky!

ফারদিন ফেরদৌস
০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬
facebook.com/fardeen.ferdous
twitter.com/fardeenferdous