ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

Bandarban-Rohingya-02 (1)

১.
রোহিঙ্গারা হলো পৃথিবীর সবচে’ অবহেলিত ও নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। বৌদ্ধধর্মের শান্তির অমীয়বাণীকে যারা পাত্তা না দিয়ে নিজেদেরকে বুদ্ধিস্ট বলে প্রচার করে তারা আর কেউ নয়, শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচি ও তার বাপের গড়া নিকৃষ্ট বার্মা সেনাবাহিনী। ওরা সারা পৃথিবীর পরিসংখ্যানেই সবচে’ বর্বর ও নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী।

বছরের পর বছর ধরে নিরস্ত্র নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওরা যেভাবে নির্যাতন করছে, ধর্ষণ করছে, প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ও গণহত্যা চালাচ্ছে, তাতে একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা ও বর্বরতার কথাই মনে করিয়ে দেয়!

ওদের অত্যাচারে চলে আসতে বাধ্য হওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে এরইমধ্যে আমরা নিজেদের ভূমিতে জায়গা দিয়েছি। মানবিক কারণে তাদের অন্যায় অপরাধও মেনে নিয়েছি।

সাম্প্রতিককালেও ওদের গুলি খেয়ে নদী পার হয়ে আরও রোহিঙ্গা মানুষ এপারে আসছে। এবার আমরা কী করব? অর্ধ শতাব্দী ধরে আমরা অপেক্ষা করে আছি। আমাদের ভূমিতে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দেখভাল করে জাতিসংঘ। কিন্তু তারা সমস্যার গভীরে গিয়ে কখনো সমাধান খোঁজে না। বিশ্ব পরাশক্তিরাও এই ব্যাপারে নিশ্চুপ। ভারত ও চীন মায়ানমারকে একটা ছোট্ট ধমক দিলেও ওদের ভরকে যাওয়ার কথা কিন্তু তারা তা করবে না নিজেদের রাজনীতির স্বার্থে, ক্ষমতার স্বার্থে! ক্ষমতার কাছে মানবিকতার কোনো দাম নেই!

FB_IMG_1503920151556

২.
বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার স্বার্থেই নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী গ্রহণ অসম্ভব। তাহলে এই মানবিক বিপর্যয়ে পড়া মানুষেরা যাবে কোথায়? একটাই সমাধান! একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পাওয়া ওদের অধিকার। বিশ্বফোরামে এই আওয়াজ তোলা সময়ের দাবি।

আরাকান মায়ানমার (বার্মা)- এর একটি অঙ্গরাজ্য। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত এবং অতি প্রাচীনকাল থেকে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ওদের মানচিত্রের সাজুয্যতাও বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশের কাছাকাছি। বঙ্গোপসাগর এবং নাফ নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম মোহনা-বেষ্টিত আরাকান-ইয়োমা নামের দীর্ঘ পর্বতশৃঙ্গ আরাকানকে মায়ানমারের অন্যান্য অংশ থেকে আলাদা করেছে।

আরাকানের প্রাচীন নাম ‘রাখাইনপিয়ে’। রাখাইন শব্দটি এসেছে সংস্কৃত রাক্ষস এবং পালি শব্দ ইয়াক্কা (যক্ষ) থেকে যার অর্থ দৈত্য অথবা দানব। বৌদ্ধধর্ম প্রচারের আগে অধিকাংশ আরাকানি ছিল প্রকৃতি পূজক। যদিও কালের পরিক্রমায় এখন বেশিরভাগই মুসলিম। একসময় সম্রাট আওরঙ্গজেব ও সুজাদের আমলে মোঘল সম্রাটদের অধীনেই ছিল আরাকান।

250px-Burma_Rakhine_locator_map

৩.
কাজেই যেহেতু ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবেই ভারতীবর্ষীয় সংস্কৃতিই বহন করছে মুসলিম রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ রাখাইনরা, সেহেতু যুগ যুগ ধরে নিজেদেরকে মায়ানমারের চাপিয়ে দেয়া সার্বভৌমত্ব বা সংস্কৃতিতে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে ওরা। এক কথায় মায়ানমারের ধর্মান্ধ গোঁড়া বৌদ্ধদের সাথে বিশেষ করে রোহিঙ্গা মানুষদের মিলছে না। মিলবেও না কোনোদিন। যেমন পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে আমাদের মিলেনি।

এই সংকটের সমাধান একটাই, আরাকানকে স্বাধীনতা দেয়া হোক। মানুষ তার আপন ভূমিতে অধিকার নিয়ে বাঁচুক। মানবতা মুক্তি পাক।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র আরাকানের সেই স্বাধীনতার সম্ভাবনা নিয়ে তার প্রতিবেশী সক্ষম রাষ্ট্রের সাথে কথা বলতে পারে! বলবে কি?

ফারদিন ফেরদৌস
সুখেরছায়া
২৮ আগস্ট ২০১৭