ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই ১০১০ জন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী একসাথে সরকারি চাকরি পাচ্ছেন। আমি সরকারের এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।

বিজ্ঞান না জানা, বাঙালিয়ানা না বুঝা, বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাসকে বরাবর ঘৃণা করে আসা এই কওমী পড়ুয়ারা এখন সমস্বরে গাইবেন, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’! ওরা মানতে বাধ্য হবেন মুসলমানদের জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) এবং বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওরা আর বলবেন না ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস বা জাতীয় শোক দিবস পালন শিরক কিংবা বেদাত। পহেলা বৈশাখের বিরোধিতা করে আসা এই মাওলানারা এখন সোৎসাহে বাংলা নববর্ষের ভাতা গ্রহণ করবেন। ওঁরা এখন জানবেন, সরকার পতিতালয় ও মদের বার থেকেও ট্যাক্স গ্রহণ করে, যেই টাকায় ওদের বেতন হবে। ওরা জানবেন সরকার ইহুদি/নাছাড়া/নাস্তিকদের দেশ থেকে অর্থঋণ গ্রহণ করে বাজেট সংকুলান করে, যেই টাকায় ওদের রুটিরুজির ব্যবস্থা করবে সরকার।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যে সুদকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হারাম করে দিয়েছেন সরকারি সোনালী ব্যাংকের সেই সুদের হিসেবেই পাইপাই করে বেতন তুলবেন!

ওরা বুঝবে ধর্মান্ধতা দিয়ে জগৎ চলে না। মানুষ তার নিজেকে সভ্য ও বৈশ্বিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজেরাই বিধিবিধান রচনা করে নিয়েছে। ধর্ম সেখানে একটা অন্যতম অনুষঙ্গ মাত্র, অনিবার্য নয়!

সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়া কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আলেমদের আগাম অভিবাদন। একদিন এই বাংলাভূমিতে সত্যিকারের আলো ফিরবে সকল মত ও পথের সম্মিলিত শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানে। ধর্মীয় ট্যাবু ভেঙ্গে দিতে ভূমিকা রাখায় শেখ হাসিনা সরকারকে সাধুবাদ।

ফারদিন ফেরদৌস: লেখক ও সাংবাদিক
০৫ মার্চ ২০১৮