ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

ঝোপে দিনেদুপুরে লন্ঠনের আলোর বিচ্ছুরণ। গ্রীষ্মের এই ভরা বর্ষায় হলুদ, লাল, কমলা, বেগুনি বা মেজেন্টা রঙের জাদু ছড়াচ্ছে বুনোফুল ল্যান্টানা বা লন্ঠন ফুল। সেই আলোর প্রদীপে শিখা হয়ে ফুটেছে বাহারি প্রজাপতি। অভাবনীয় এই দৃশ্য দেখতে হলে যেতে হবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয়ের পেছনে উত্তরপাশে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকা ঝোপঝাড়ে।

সেখানে গেলে প্রবেশপথেই পড়বে একটি ক্ষুদ্র টি স্টল। ঝোপের পাশে কচুরিপানার অভয়ারণ্য একটি পুষ্করিণী। প্রজাপতির নাচন দেখতে খানিক দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ওরা ল্যান্টানায় ওড়াওড়ি করে মধু সংগ্রহ করবে, সঙ্গীটির সাথে খুনসুঁটি করবে আর আপনি যুগপৎ বিস্মিত ও মুগ্ধ হবেন।

কিন্তু এই ঝোপটি যেহেতু যত্নবিহীন প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা, খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রজাপতি দেখবার জন্য কোনো ওয়াকওয়ে নেই। ভয় থাকতে পারে বিষধর সাপেরও। তবু পরিব্রাজকের অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়তার কাছে এসব কিছু নয়।

ঝোপের মেঠোপথে থাকতে পারে বিষধর সাপের ভয়

আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার আছে। সেখানে প্রজাপতি পার্কে নানা ভ্যারাইটির প্রজাপতি আছে। ফিবছর ঘটা করে প্রজাপতি মেলাও বসে সেখানে। অন্যদিকে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি প্রজাপতি পার্ক আছে। আমার দেখা ওই দুই প্রজাপতি পার্কই ‘আর্টিফিশিয়াল’! গবেষকদের তত্ত্বাবধানে সেখানকার প্রজাপতিরা তাদের বেড়ে ওঠবার উপযুক্ত পরিবেশ পায়।

কিন্তু আজকে আমার দেখানো প্রজাপতির ঝোপ একদম ‘ন্যাচারাল’! এখানে প্রজাপতিরা ওদের মতো করে বাঁচে। তাই অনিন্দ্যসুন্দর তাদের ছুটোছুটি ও দিনগুজরানো।

আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির পেছনে এমন একটি ঝোপঝাড় রেখে দেয়ার পক্ষে আমি। যেখানে দিনে প্রজাপতিরা নেচে বেড়াবে আর রাতে জোনাকেরা আলো জ্বালবে।


ঝোপের পাশে একটি নির্জন টি-স্টলও আছে

 

শিল্প সমঝদার ও ঐতিহ্যপ্রেমী আপনারা সবাই যখনতখন এই পার্ক পরিদর্শন করতে পারেন।