ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ


একটি মেয়ে ম‍্যাগপাই রবিন মানে আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল জানালা পথে আমার পড়ার ঘরে ঢুকেছিল ‘আমাকে’ দেখতে। এতদিন জানালায় চোখ রেখে ওদের নাচন দেখেছি। গান শুনেছি। আজ পাখিটা নিজেই চলে এল।

ঈদের এমন উপহার পেয়ে ভাবলাম স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলে রাখি।

এদিকে চঞ্চল য়েল পাখিটা একটু ডানা মেলে ঘরেই উড়তে শুরু করলে  আমার মাথার ওপর ঘূর্ণায়মান সিলিং ফ‍্যানের পাখায় লেগে এইটুকু পাখিটার ডান পা কেটে গেল ।

বেশ ব্লিডিং হচ্ছিল। আহত পাখিটাকেে এবার হাতে নিতে পারলাম। আমি প্রাণি ডাক্তার নই তবু পড়িমরি করে ফার্স্টএইড বক্স খুঁজলাম, তুলো স‍্যাভলন পেয়েও গেলাম। ব্লিডিং বন্ধ করা গেল। তবে হাড়টা পুরোপুরি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় পাটা একদম ঝুলে রইল।

ভাবলাম ইনজুরির ধকলে ওর গলাটা নিশ্চয়ই শুকিয়ে গেছে। ট‍্যাপের কাছে মুখটা ধরতেই বেশ কয়েকবার পানি খেল ও। আমার দিকে ফ‍্যালফ‍্যাল করে তাকিয়ে থেকে দু’তিনবার ডানাও ঝাপটালো সোনা পাখিটা।

আমার প্রয়াত নানী শিখিয়েছিলেন হলুদ বাটা লাগালে প্রাণিদের আঘাত উপশম হয়। চিন্তা করলাম হলুদের গুঁড়া ভিজিয়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দেই।

কিন্তু এসব করার আগেই পাখিটা বড় মায়াভরা চোখে আমার দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে একসময় চোখটা বন্ধ করে মাথাটা হাতের ওপর নুইয়ে দিল।