ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ( বি পি এল )-এর দ্বিতীয় আসর কাল থেকে শুরু হচ্ছে, আজ, এখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলছে । আজ লিখব অ-ক্রিকেটিয় এবং ক্রিকেটিয় দুই বিষয়েই ।

প্রথমে অ-ক্রিকেটিয় বিষয়গুলো বলি…পত্র-পত্রিকা পড়ে বুঝতে পারলাম কিছু বিদেশী শিল্পী আসবেন এ আসর মাতাতে যেমনটা এসেছিলেন প্রথমবারও । যখন, যেখানে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়, শুধু বিদেশীদের কথাই বলা হয় অখচ জেমস,মমতাজ এমনকি রুনা লায়লা এসে গাইলেন কিন্তু তাঁদের কথা আমি কোথাও সেভাবে উচ্চারিত হতে শুনিনি । প্রশ্ন হলো কেন ? সাত দলের যে দেশজ পরিবেশনা উপস্থাপনা করা হয়েছে তা খুব সংক্ষিপ্ত হলেও ছিল মনে রাখার মত, অসাধারণ বলতাম যদি আরো বেশী সময় নিয়ে হতো । এক রাত কেন সাত রাত ধরে ভারতীয় বা পাকিস্তানি নাচ-গানের অনুষ্ঠান হোক কোন আপত্তি নেই কিন্তু বিপিএল-এ কেন? কেন মুক্তি পেতে যাচ্ছে এমন কোন ভারতীয় চলচ্চিত্রের গান আমাদের শুনতে হবে বিপিএল-এ ? ভেবেছিলাম গতবারের ভুল থেকে কর্তৃপক্ষ নিজেদের শুধরে নেবে,কিন্তু দেখলাম, তা তো নেয়-ই নি বরঞ্চ আরো বেশী উল্টোপথে হাঁটা চলছে । এদেশে শাহরুখ খান থেকে শুরু করে অনেক স্টার এসেছেন এবং দেখে গেছেন গম্ভীর মুথের বাঙালী দর্শকদের যাদের একটু তালি পাবার জন্য তাঁরা দুনিয়ার কসরত করেও মন গলাতে পারেননি অথচ সেই পরম আকাংখিত বাঙালীর উদ্দাম আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় যদি বাংলাদেশের কোন ব্যান্ড গান গায়, যদি সাকিব একটা চার মারে,যদি মাশরাফি একটা উইকেট পায়, এখনো আমরা যাদুকর বলতে জুয়েল আইচ-কেই বুঝি,আজম খানকে মনে পড়ে? স্যরি আতিফ আসলাম,মাথা কুটে মরে গেলেও চাহিদা মত তালি পাবেন না । আমরা এমনই, রুটি খুব ভালো কিন্তু আমরা ভাত খেতে ভালবাসি । বাংলাদেশের কোন ইভেন্টে বাংলাদেশের শিল্পীদের একচ্ছত্র আধিপত্য বলুন আর প্রাধান্য বলুন, থাকতে হবেই, তা না হলে ইভেন্ট হিট করবে না,কখনো করেনি । আর রুনা লায়লা এবং জেমসকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব এ জাতীয় কোন ইভেন্টে ভিন্ন ভাষায় গান না গাইতে,আপনাদের অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গান আছে,দয়া করে আমাদের সেগুলো শোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবেন না ।

ক্রিকেটিয় বিষয়ে লিখব খুব সামান্যই কিন্তু বিষয় খুব সামান্য নয় । পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা আসছেন না । আমাদের সবাইকে খুব বিপদে ফেলে দিয়েছেন ভেবে জা কা আশরাফ মজা পেলেও আমি মনে করি তিনি চালে খুব বড় ভুল করেছেন । এই অল্প সময়ে রিপ্লেসমেন্ট হিসাবে বিদেশী বড় খেলোয়াড় না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী । ফলে আশা করা যায় সব দলের স্টিয়ারিং-এ থাকবে বাংলাদেশেরই কেউ না কেউ । আমি বিশ্বাস করি এটা আমাদের জন্য হবে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতোই । আমার ধারণা জা কা আশরাফ এরি মধ্যে তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছেন আর সেজন্যই বিসিবি-র ঘাড়ে পাল্টা দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন । তা এখন তিনি যা-ই করেন বা বলেন না কেন আইসিসির বর্তমান সহ-সভাপতি যেমন একজন বাংলাদেশী তেমনি বি পি এল-ও হবে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত পয়মন্ত । একটা বারুদ বি পি এল-এর অপেক্ষায় থাকলাম ।