ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

আমার পূর্ববর্তী পোষ্টে আমি লিখেছিলাম যে, “বিপিএল-ও হবে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত পয়মন্ত । একটা বারুদ বিপিএল-এর অপেক্ষায় থাকলাম ।” এখন পর্যন্ত যা যা হয়েছে তাতে আমার কথাটা ফলেছে বললে খুব ভুল হবে না । বেশী বিশদে যাবো না কেননা বাংলার দামাল ছেলেদের সাফল্য খুঁজে পেতে তেমন বেগ পাবার কোন কারণ নেই ।

প্রথমে ব্যাটিংটার দিকে তাকানো যাক । টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরী শাহরিয়ার নাফিসের,প্রথম হাফ সেঞ্চুরীও আরেক বাঙালী এনামুলের, তা’ও সেটা লীগের প্রথম ম্যাচেই । অল-রাউন্ডারের মতই খেলছেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের সাকিব আল হাসান, ৪ ম্যাচে ৮৪ রান আর ৫ উইকেট, তবে সন্দেহ নাই তাঁর উচ্চতার কারো কাছ থেকে আরো বেশী কিছু পাবার জন্য বাকি খেলাগুলোতে আমরা অপেক্ষায় থাকব । দুরন্ত রাজশাহীর তামিম মাত্র একটা হাফ-সেঞ্চুরী পেলেও দুর্দান্ত খেলে যাচ্ছেন রংপুর রাইডার্সের নাসির হোসেন । নাসির ৮০ ও ৭০ রানের দু’দুটো হাফ-সেঞ্চুরীসহ ৪ ম্যাচে ২১২ রান করে আছেন দেশীয়দের মাঝে সবার ওপরে । আমার দৃষ্টিতে ম্যান অভ দ্য টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দাবীদার এখন পর্যন্ত তিনিই । রংপুর রাইডার্সের আরেক তুখোড় ফর্মে থাকা বাংলাদেশি খেলোয়াড় হচ্ছেন শামসুর রহমান, ৪ ম্যাচে তার সংগ্রহ ১২৫, দুটো হাফ-সেঞ্চুরী ( ৫২ এবং ৬৬) । মূলত: এই দুজন আর ঠান্ডা মাথার ক্যাপ্টেন স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের ওপর ভর করেই দারুণ এগিয়ে যাচ্ছে রংপুর রাইডার্স । ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ক্যাপ্টেন মাশরাফি এখন পর্যন্ত বলার মত কিছু না করলেও সাকিব তো আছেনই আরো আছেন আশরাফুল । ৭৩ হচ্ছে এ পর্যন্ত আশরাফুলের সর্বোচ্চ রান আর ৪ ম্যাচে ১৪২ । লীগ লিডার সিলেট রয়্যালসে আছেন মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হক,সোহাগ গাজী এবং সোহরওয়ার্দী শুভ । এঁরা প্রত্যেকেই ম্যাচ উইনার । ৭৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস সহ ৪ ম্যাচে মুশফিক এ পর্যন্ত করেছেন ১২৯ রান, এনামুলের ৫০-এর দিনে মমিনুলও করেছিলেন ৪৫, সোহাগ গাজী ব্যাট হাতে সুযোগ পেলেই পেটাচ্ছেন আর ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৫ উইকেট । শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটের ওপর ভর করেই চলছে খুলনা রয়েল বেঙ্গলস । নাফিসের ১০২( অপরাজিত) আর ৫৩ রানের দুটো ইনিংস এনে দিয়েছে খুলনার দুই জয় । ৫ ম্যাচে নাফিসের সংগ্রহ ২০৯ । এছাড়াও খুলনায় আছেন অল-রাউন্ডার ফরহাদ রেজা । এই বিপিএল-এ ব্যাটে,বলে দুই ডিপার্টমেন্টেই এই সব্যসাচী ক্রিকেটার খেলছেন তুখোড় । দুরন্ত রাজশাহীর একটই জয় তা’ও মাত্র ৯৯ রান করে । দলে তামিম থাকলেও ৪ ম্যাচে ৫৭ রানের একটি ইনিংস ছাড়া এখন পর্যন্ত বলার মত কিছু নাই । জহুরুল দলের কান্ডারী হলেও একটি হাফ-সেঞ্চুরী ছাড়া তেমন কিছু করেননি । দুরন্ত রাজশাহীতে আরো আছেন জিয়াউর রহমান, তবে ব্যাটে,বলে এখনো তিনি জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় । চিটাগাং কিং-এর কিং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪০ ও ৩৪ রানের দুটো আশা জাগানিয়া ইনিংস খেললেও কিংবা ৩ ম্যাচে ৩ উইকেট নিলেও চিটাগাং ৩ ম্যাচে পেয়েছে মাত্র একটা জয় । আমার দৃষ্টিতে এ বছর বিপিএল এর সবচেয়ে দুর্বল দল বরিশাল বার্নার্স । বিদেশী-নির্ভর এই দল ৪ ম্যাচ খেলে ৩টিতেই হেরেছে । দলে দেশী কোন তারকা ক্রিকটারকেই তারা ঠাঁই দেননি যার খেসারত তাদেরকে ইতিমধ্যেই দিতে হয়েছে এবং এই অচলাবস্থার পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতেও দিতে হবে ।

অপর দিকে বাংলার বোলাররাও কম যাচ্ছেননা ; রংপুরের রাজ্জাক এক ম্যাচেই তুলেছেন ৪ উইকেট যেমনটা করেছেন ঢাকার মোশাররফ । এক ম্যাচে ৩টি করে উইকেট পেয়েছন খুলনার ফরহাদ রেজা, খুলনার ডলার মাহমুদ,রাজশাহীর আবুল হাসান এবং রংপুরের শরীফ, ২টি করে আর একটি করে উইকেট শিকারীদের কথা না হয় না-ই বললাম ।

মোট কথা বিপিএল ২-এ বাংলার বাঘদের দাপট সুস্পষ্ট এবং আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোয় এ ধারা অব্যাহত থাকবে ।